সিটি-টটেনহ্যামের ৬ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই

প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচে পয়েন্ট হারাল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2023, 06:33 PM
Updated : 3 Dec 2023, 06:33 PM

শুরুর ১০ মিনিটেই মুদ্রার দুই পিঠ দেখে ফেললেন সন হিউং-মিন। তার দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই দুর্ভাগ্য থাবা বসাল টটেনহ্যাম শিবিরে। এরপর শুরু হলো ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণের ঢেউ। হাল ছাড়ল না টটেনহ্যামও। উত্তেজনাপূর্ণ, নাটকীয়তায় ঠাসা লড়াইয়ে দুইবার এগিয়ে গিয়েও জিততে পারল না লিগ চ্যাম্পিয়নরা। বলা যায়, গোল উৎসবের ম্যাচে তাদের জিততে দিল না টটেনহ্যাম হটস্পার।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ৩-৩ ড্র হয়েছে।

সন দারুণ গোলে টটেনহ্যামকে এগিয়ে নেওয়ার খানিক পরই আত্মঘাতী গোল করে বসেন। এরপর ফিল ফোডেনের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যায় সিটি। হার না মানা মানসিকতার টটেনহ্যাম দ্বিতীয়ার্ধে সমতা টানেন জিওভানি লো সেলসোর গোলে।

নাটকীয়তার তখনও ছিল ঢের বাকি। জ্যাক গ্রিলিশের গোলে আবার এগিয়ে গিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জোরাল করে সিটি। কিন্তু দেইয়ান কুলুসেভস্কি তা হতে দেননি।

সিটির পথেও দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় কয়েক দফায়। তাদের কয়েকটি শট পোস্টে না লাগলে, দারুণ কয়েকটি সুযোগ তারা নষ্ট না করলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।

দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে শুরুতেই সিটির বুকে আঘাত হানে টটেনহ্যাম। ষষ্ঠ মিনিটে কুলুসেভস্কির লম্বা করে বাড়ানো থ্রু বল মাঝমাঠে সিটির জেরেমির দোকুর নাগালেই ছিল; তবে তিনি হয়তো বুঝতেই পারেননি পেছনে আছেন সন। চোখের পলকে তিনি এগিয়ে মাথা দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন, এরপর দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।

এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ যদিও তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি টটেনহ্যামের। খানিক আগের নায়কও পরিণত হন খলনায়কে।

ডান দিক থেকে তাদের ডি-বক্সে ক্রস বাড়ান হুলিয়ান আলভারেস, গোলমুখে আর্লিং হলান্ড ফ্লিক করার চেষ্টা করে পারেননি। ডিফেন্ডার এমেরসন বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্যর্থ হন, আর তার পেছনেই সনের হাঁটুতে লেগে বল চলে যায় জালে!

গত মৌসুমের রেকর্ড গোলদাতা হলান্ড এবারও ছুটছেন একই ছন্দে। সেই তিনিই ত্রয়োদশ মিনিটে অবিশ্বাস্য একটি মিস করেন। বের্নার্দো সিলভার পাস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় কোনাকুনি শট নেন নরওয়ের তারকা; কিন্তু বল চলে যায় দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে।

২৯তম মিনিটে দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে না দাঁড়ালে এগিয়ে যেত সিটি। বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ড জেরেমি দোকুর বুলেট গতির শট দূরের পোস্টের ওপরের অংশে লাগে।

প্রবল চাপ ধরে রেখে ৩১তম মিনিটে এগিয়ে যায় শিরোপাধারীরা। ছোট ছোট পাসে শাণানো আক্রমণে বক্সে আলভারেসের বাড়ানো বল পেয়ে কাছ থেকে গোলটি করেন ফোডেন।

খানিক বাদে পরপর দুই মিনিটে সুবর্ণ সুটি সুযোগ হারায় সিটি। ৩৫তম মিনিটে আলভারেসের শট ভাগ্যের ফেরে বাধা পায় পোস্টে। পরের মিনিটে আরেক দফায় ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান হলান্ড; এবার উড়িয়ে মেরে হতাশ করেন আসরে এখন পর্যন্ত ১৪ গোল করা এই তরুণ।

বিরতির পর খেলার ১৮ সেকেন্ডেই দারুণ আরেকটি সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকরা। হলান্ডের পাস পেয়ে শট নেন সিলভা, দূরের পোস্ট দিয়ে বল লক্ষ্যের দিকেই যাচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে ঠেকান ইতালিয়ান গোলরক্ষক গুইয়েলমো ভিকারিও।

সেই আত্মঘাতী গোলের পর সিটির চাপে অনেকটাই যেন এলোমেলো হয়ে পড়েছিল টটেনহ্যাম। দ্বিতীয়ার্ধে সেই তুলনায় কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলে তারা।

জিওভানি লো সেলসোর নৈপুণ্যে ৬৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে তারা। সনের পাস ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে নিচু শট নেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। ঠেকাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এদেরসন, বলে আঙুলও ছোঁয়ান তিনি, কিন্তু রুখতে পারেননি।

জয়ের পথে ফিরতে মরিয়া সিটি আবার এগিয়ে যায় ৮১তম মিনিটে। ডি-বক্সে ডিফেন্ডারদের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে ডান দিক থেকে মাঝমাঝি জায়গায় গ্রিলিশকে খুঁজে নেন হলান্ড। ডান পায়ের নিখুঁত শটে স্কোরলাইন ৩-২ করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।

তবে, তাদের এই আনন্দও স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে জালে বল পাঠিয়ে চিত্র পাল্টে দেন কুলুসেভস্কি। বাঁ থেকে সতীর্থের ক্রস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে হেডে গোলটি করেন সুইডেনের মিডফিল্ডার।

এবারের লিগে প্রথম ১০ রাউন্ডে আটটিতে জেতা ও দুটি ম্যাচ ড্র করা টটেনহ্যাম গত তিন সপ্তাহে ভীষণ খারাপ সময় পা করে। হেরে বসে পরপর তিন ম্যাচে। অবশেষে ব্যর্থতার জাল ছিঁড়ে বের হতে পারল না তারা।

বিপরীতে টানা জয়ের পর সিটি যেন পথ হারিয়ে ফেলেছে। এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচ ড্র করল দলটি। অবশ্য তিনটি ম্যাচই তারা খেলল শক্ত দলের বিপক্ষে; চেলসির সঙ্গে ৪-৪, এবং লিভারপুলের সঙ্গে ১-১ স্কোরলাইনের পর এবারের এই ড্র।

আগেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান হারানো সিটি এখন নেমে গেল তিন নম্বরে। ১৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩০।

১৪ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। সমান ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠেছে লিভারপুল।