২০ বছরের ক্যারিয়ারে ‘প্রথমবার লজ্জিত’ মদ্রিচ
ইংল্যান্ডের কাছে সাত গোল খাওয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার সর্বকালের সেরা তারকা বললেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সুনাম নষ্ট করা অগ্রহণযোগ্য।
ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের অনেক গৌরবের সঙ্গী লুকা মদ্রিচ। এই দলকে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন, দলের পথচলার সঙ্গী হয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে নিয়েছেন দলকে। সেই দলকে বিধ্বস্ত হতে দেখে হৃদয় ভেঙে গেছে তার। ক্রোয়েশিয়ার সর্বকালের সেরা তারকা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ভাবমূর্তি এভাবে গুঁড়িয়ে যেতে দেখে মানতে পারছেন না তিনি।
মদ্রিচের এই কষ্ট ইংল্যান্ডের কাছে তুলাধুনা হওয়ার পর। নেশন্স লিগের ম্যাচে নিজেদের মাঠেই ক্রোয়েশিয়া হেরেছে ৭-০ গোলে।
ফুটবলে এই ধরনের স্কোরলাইন খুব বিরল নয়। তবে ক্রোয়েশিয়ার এই ব্যবধানে হার অবিশ্বাস্যই বটে। মদ্রিচ ও তার আগে-পরের প্রজন্মের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে দেশটি, তৃতীয় হয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপে।
সেই দলের অনেকেই এখন না থাকায় পারফরম্যান্সও পড়তির দিকে। এবারের বিশ্বকাপে বিদায় নিডেছে তারা শেষ বত্রিশ থেকেই। তার পরও সাত গোল তো অনেকটাই অভাবনীয়!
৪১ বছর বয়সী মদ্রিচ এই ম্যাচে ছিলেন শুরুর একাদশে। দ্বিতীয়ার্ধের মিনিট দশেক পরই তুলে নেওয়া হয় তাকে। ম্যাচের পর তিনি বললেন, জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে এমন তেতো স্বাদ তিনি আগে পাননি।
“২০ বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে আছি। এই প্রথমবার কোনো ম্যাচের পর আমি লজ্জিত বোধ করছি।
ম্যাচ আমরা হারতেই পারি, অথবা আরও ভালো কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে পারি – এবং তারা (ইংল্যান্ড) এখন আসলেই ভালো। কিন্তু যত কিছুই হোক, এভাবে হেরে যাওয়া এবং বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সুনাম নষ্ট করা অগ্রহণযোগ্য। আমি লজ্জিত বোধ করছি।”
আগের ম্যাচে স্পেনের কাছেও ৪-১ গোলে হেরেছিল ক্রোয়েশিয়া। কোচ স্লাভেন বিলিচ তাই তুমুল সমালোচনার মুখে আছেন। ইংল্যান্ডের কাছে এমন পরাজয়ের পর তার কণ্ঠে ফুটে উঠল অসহায়ত্ব।
“এরকম একটা ম্যাচের পর কোনো যুক্তিসঙ্গত বা ইতিবাচক কথা বলা কঠিন। আমরা হতাশ -- আমি হতাশ এবং আমরা সবাই দুঃখিত। মাঠে থাকা বাচ্চাদের জন্য আমার খারাপ লাগছে... সমর্থকদের জন্য, আমাদের জন্য, ফুটবলারদের জন্যেও আমার খারাপ লাগছে।
আমি এইমাত্র ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বললাম। বিশ্বাস করুন, আমাদের চেয়ে বেশি কষ্ট আর কেউ পাচ্ছে না। যা হওয়ার. তা হয়ে গেছে; এটা মেনে নিতেই হবে।”
এমন পরাজয়ের পেছনে কোনো একটি দিককে দায় না দিয়ে বিলিচ বলছেন, এটি সবার সম্মিলিত ব্যর্থতা।
“এই গ্রীষ্মে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সমস্যা হয়েছে—নিশ্চয়ই কিন্তু হয়েছে। সেসবের দায়ভার আমার... কিন্তু নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করার চেষ্টা করা—যেমন, এরকম বলা যে ‘অন্য সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও এটার কারণে এমনটা হয়েছে’... এরকম কোনো ব্যাপারই নেই। এটা ছিল স্রেফ একটি সম্মিলিত ব্ল্যাকআউট।”
