মেসিদের জিততে দিলেন না ‘ডেনমার্কের মেসি’
আবার ফ্রি কিকে গোল করলেন লিওনেল মেসি, গোল পেলেন লুইস সুয়ারেসও, কিন্তু অনেক সুযোগ হারানোর ম্যাচে জিততে পারল না ইন্টার মায়ামি।
লিওনেল মেসি ও আনার্স ড্রায়ার নাম দুটি পাশাপাশি বসার কোনো কারণ এমনিতে নেই। তবে স্যান ডিয়েগো এফসির সমর্থকদের কাছে ড্রায়ার অনেকটা মেসির মতোই। ভক্তদের কাছে ড্যানিশ উইঙ্গারের আদুরে নাম ‘ডেনমার্কের মেসি।’ গত মৌসুমে মেজর সকার লিগের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ লড়াইয়ে মেসিকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় হয়েছিলেন এই ড্রায়ার। এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনিই ভোগালেন মেসির দলকে।
মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামি ও স্যান ডিয়েগো এফসির ম্যাচটি ড্র হয় ২-২ গোলে।
মায়ামির মাঠে স্যান ডিয়েগোকে এগিয়ে দেন ড্রায়ার। মেসি দলকে সমতায় ফেরান ফ্রি কিকে। পরে লুইস সুয়ারেস এগিয়ে নেন মায়ামিকে। কিন্তু ড্রায়ারের আরেকটি গোল পয়েন্ট এনে দেয় স্যান ডিয়েগোকে।
ড্রায়ারের দুটি গোলেই বড় অবদান স্বদেশি মিডফিল্ডার ইয়েপে টিভেরস্কফের দারুণ দুটি পাসের।
তবে ড্রায়ারের দুই গোলের পরও বড় ব্যবধানে হারতে পারত স্যান ডিয়েগো, যদি না গোলবারে অতিমানবীয় হয়ে উঠতেন সিজে দস সান্তোস। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে বারবার মায়ামিকে হতাশ করেন স্যান ডিয়েগোর গোলকিপার। সাতটি পরিস্কার সেভ করা ছাড়াও দলকে বিপদ থেকে বাঁচান অনেকবার।
নিস্তরঙ্গ শুরুর পর দ্বাদশ মিনিটে স্যান ডিয়েগোকে এগিয়ে দেন ড্রায়ার। নিজেদের অর্ধ থেকেই মায়ামির কয়েকজনের মাঝ দিয়ে অসাধারণ এক পাস দেন টিভেরস্কফ। মাঝমাঠের একটু ওপরে সেই বল ধরে গুলির বেগে ছুটে বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলকিপারের ওপর দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় চিপ করে বল জালে পাঠান ড্রায়ার।
গোলের পর আবার নিষ্প্রাণ মিনিট দশেক। এরপর সুযোগ পান মেসি। নিজেদের অর্ধ থেকে উড়ে আসা দারুণ লবে আলতো হেডে বল নামিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। প্রতিপক্ষের একজনকে নাটমেগও করেন, কিন্তু স্যান ডিয়েগো গোলকিপার ছুটে এসে বিপদমুক্ত করেন দলকে।
পরের মিনিটে মেসির গোল। ফ্রি কিকে তিনি বল ভেতরে রাখতে চেষ্টা করছিলেন বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু ভাসিয়ে দেওয়া বাঁকানো শট সবার মাথার ওপর দিয়ে গোলকিপারকেও বিভ্রান্ত করে ঢুকে যায় জালে।
এর কয়েক মিনিট পর জটলার মধ্যে মেসির চমৎকার পাসে গোলকিপারকে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি সুয়ারেস। এবারও দলকে রক্ষা করেন গোলকিপার।
পরের মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে সুয়ারেসের শট চলে যায় ওপর দিয়ে। ৩৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মাতিয়াস গালারসার আচমকা জোরাল শট একটুর জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
পরমুহূর্তেই বড় এক ভুল করে দলকে বিপদে ফেলেন স্যান ডিয়েগো গোলকিপার। তিনিই আবার দ্রুত সামলে নিয়ে রক্ষা করেন দলকে। এবারও গোলকিপারকে একা পেয়ে ব্যর্থ হন সুয়ারেস।
প্রথমার্ধের যোগ করার সময়ের শেষ মুহূর্তে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে মেসির তীব্র গতির শটও দারুণভাবে ধরে ফেলেন দস সন্তোস।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে মেসির পাস থেকে হার্মান বের্তেরামের শট গোললাইন থেকে ফেরান স্যান ডিয়েগোর ডিফেন্ডার ইয়ান মার্ফি। পরের মিনিটেই আবার মেসির পাস থেকে ইয়ানিক ব্রাইটের শট দারুণ রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন দস সন্তোস।
৫২তম মিনিটে মায়ামির জালে বল পাঠান স্যান ডিয়েগোর মার্কাস ইনভার্টসেন। কিন্তু গোল হয়নি অফসাইডের কারণে।
৬৩তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়ার মেসির শট একটু বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৬৯তম মিনিটে সুয়ারেসের গড়ানো শট ফুল লেংথ ডাইভ দিয়ে দারুণভাবে ঠেকান দস সান্তোস।
৭৪তম মিনিটে দলকে আর বাঁচাতে পারেননি স্যান ডিয়েগো গোলকিপার। রদ্রিগো দে পলের পাস থেকে কোনাকুনি শটে দস সান্তোসকে পরাস্ত করেন সুয়ারেস।
মায়ামির যে দাপট ছিল খেলায়, তাতে স্যান ডিয়েগোর সমতা ফেরানোর আভাস ছিল না। কিন্তু ম্যাচে ফেরে তারা এক মুহূর্তের দারুণ ঝলকে।
৮৩তম মিনিটে মায়ামির রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে আবার চমৎকারভাবে বল বাড়ান টিভেরস্কফ। চোখের পলকে ছুটে গিয়ে বল ধরেই গোলকিপারের পাশ দিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে কাজ সারেন ড্রায়ার।
পরের সময়টায় মায়ামি অনেক চেষ্টা করেও আর গোল বের করতে পারেনি। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মেসির শট আবার ডাইভ দিয়ে ঠেকান দস সান্তোস। দুই মিনিট পর জটলা থেকে শট নেন মেসি। আবারও দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার।
শেষ সময়ে পাল্টা আক্রমণে গোল করে ম্যাচ জিতে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় স্যান ডিয়েগো। অনেক সুযোগ হারানোর ম্যাচের শেষটা তাই কিছুটা স্বস্তিতে হয় মায়ামির।
এই ড্রয়ের পর ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২৬ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট মায়ামির। পয়েন্ট তালিকায় তারা আছে তিনে। ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।
