সত্যিই খেলায় ফিরছেন রোনালদিনিয়ো
১১ বছর পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছেন ব্রাজিল ও বার্সেলোনার সাবেক এই ফুটবল জাদুকর।
মাস দুয়েক আগে যা ছিল প্রচ্ছন্ন সম্ভাবনা, এখন সেটিই বাস্তব হওয়ার অপেক্ষা। সবশেষ ম্যাচের ১১ বছর পর সত্যিই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছেন রোনালদিনিয়ো। আগামী মাসেই ইতালির তৃতীয় বিভাগের দল রাভেন্নার হয়ে মাঠে নামছেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি।
স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ফোরলির বিপক্ষে আগামী ১৫ নভেম্বর ঘরের মাঠে ম্যাচটি খেলবে রাভেন্না।
গত ১৯ জুন রোনালদিনিয়োর সঙ্গে চুক্তির খবর জানায় রাভেন্না। এই ক্লাবের কর্ণধার হোটেল ব্যবসায়ী ইগনাৎসিও চিপ্রিয়ানি তার বন্ধু। তবে কারও কাছে এটা মনে হয়েছিল প্রতারণা, কারও কাছে রসিকতা। কেউ ছিলেন বিভ্রান্ত। সব সংশয় উড়ে যায় গত ২০ অগাস্ট। রাভেন্না শহরে গিয়ে জমকালো আয়োজন ক্লাবটিতে নাম লেখান তিনি।
তবে তখনও পর্যন্ত তার ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে ছিল। ফুটবলার হিসেবেই তিনি নিবন্ধন করেন। পেশাদার ফুটবলারের দলবদলের মতোই সেখানে গিয়ে প্রথাগত মেডিকেল পরীক্ষা করান। রোনালদিনিয়েকে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে ক্লাব সভাপতি তখন বলেছিলেন, “পুরো শহরকে আমাদের দলের কাছাকাছি আনতে চাই আমরা, ক্লাবের সঙ্গে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে চাই। নতুন মৌসুমের জন্য প্রচুর আনন্দ ও উত্তেজনা নিয়ে বড় ভক্তগোষ্ঠী তৈরি করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
ক্লাব সভাপতি পাশাপাশি এটাও বলেছিলেন, রাভেন্না ক্লাবের একজন অংশীদার হতে চলেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা, তবে তিনি মাঠেও ভূমিকা পালন করবেন, হলুদ-লাল জার্সিতে তার ‘ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি’ করার স্বপ্ন নিয়ে। তবে রোনালদিনিয়ো নিজে তখন মাঠে নামার কথা সরাসরি বলেননি। তিনি তখন স্রেফ বলেছিলেন, “আমার লক্ষ্য হলো আনন্দ এবং ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।”
সামনের কোনো সময়ে তাকে মাঠে দেখা যাবে কি না, ক্লাবের জার্সি পরে ক্যারিয়ারের ৩০০তম গোলটি করার আশা করেন কিনা, প্রশ্নটি করা হয়েছিল সরাসরি রোনালদিনিয়োকেই। বিশ্বকাপজয়ী তারকা চওড়া হাসিতে ছোট্ট উত্তরে রহস্য রেখে বলেছিলেন, “এমনটা যদি হয়, তবে তা আরও সুন্দর হবে। তবে আমি আসলেই খেলব কি না, তা নির্ভর করছে ক্লাব সভাপতি এবং ট্রেনারের ওপর।”
এবার ৪৬ বছর বয়সে সত্যিই তিনি ফিরছেন মাঠের ফুটবলে।
১৯৯৮ সালে গ্রেমিওর হয়ে পেশাদার ফুটবলে পা রাখা রোনালদিনিয়ো পরে খেলেছেন পিএসজি, বার্সেলোনা ও এসি মিলানের মতো ক্লাবে। স্বীকৃত পর্যায়ে সবশেষ খেলেছেন তিনি ২০১৫ সালে নিজ দেশের ক্লাব ফ্লুমিনেসির হয়ে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে। রাভেন্না তার ক্যারিয়ারের নবম ক্লাব।
ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে রোনালদিনিয়ো ছিলেন সত্যিকারের জাদুকর। ব্রাজিলের হয়ে তিনি খেলেছেন ৯৭ ম্যাচ খেলেছেন, বড় ভূমিকা রেখেছেন ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ে। ফিফা বর্ষসেরা ফুটলারে খেতাব জিতেছেন দুবার (২০০৪, ২০০৫) এবং ২০০৫ সালে জিতেছেন ব্যালন দ’র। তিনিই ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার, যিনি ব্যালন দ’রের পাশাপাশি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কোপা আমেরিকা, কনফেডারেশনস কাপ এবং কোপা লিবার্তাদোরেস জিতেছেন।
রাভেন্না এফসিকে ইতালির শীর্ষ লিগে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন সভাপতি চিপ্রিয়ানি। ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে এখন সেরি সি গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা।
