০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচনায় আবারও সেই ঢুঁশ, জিদান বললেন, ‘অনুশোচনা নেই’

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মার্কো মাতেরাস্‌সির বুকে মাথা দিয়ে আঘাত করা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন ফরাসি কিংবদন্তি।

আলোচনায় আবারও সেই ঢুঁশ, জিদান বললেন, ‘অনুশোচনা নেই’

জিনেদিন জিদান। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Oct 2026, 05:22 PM

Updated : 02 Oct 2026, 05:22 PM

দুই দশক পর ইতালির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন জিনেদিন জিদান। তবে এবার খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ফ্রান্সের ডাগআউটে থাকবেন তিনি। মাঝে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচটির আগে সেই ‘ঢুঁশ’ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন ফরাসি কিংবদন্তি। অনুশোচনা হয় কি-না প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘না।’ তবে অমন কাণ্ড ঘটানোয় গর্বিতও নন তিনি।

বার্লিনে ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে বহুল আলোচিত ওই কাণ্ড ঘটান জিদান। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে মার্কো মাতেরাস্‌সির বুকে সজোরে মাথা ঠুকে দেন তিনি। আঘাতে পেছনে ছিটকে পড়েন ইতালির ডিফেন্ডার।

ওই ঘটনায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জিদান। এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। ম্যাচটি পরে টাইব্রেকারে হেরে যায় ফ্রান্স।

দুই দশক পেরিয়ে গেলেও জিদানের সেই মাথা ঠোকার ঘটনা ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে আছে।

১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক এখন দলটির প্রধান কোচ। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের পর দিদিয়ে দেশোঁর স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।

জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে ইতালির বিপক্ষে লড়াইটি হবে জিদানের তৃতীয় ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় শনিবার ১২টা ৪৫ মিনিটে (এএম) শুরু মাঠের লড়াই।

বৃহস্পতিবার জিদানের সংবাদ সম্মেলনে ওঠে সেই ঢুঁশের প্রসঙ্গ।

“ছবিগুলো সবসময়ই আমাকে সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। সেগুলো বারবার দেখানো হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমি কেবল ওই কাজটিই করিনি, আরও বেশ কিছু সুন্দর মুহূর্তের ছবিও আছে।”

তবে সেই ঘটনার জন্য এখনো অনুতপ্ত নন জিদান।

“এগুলো অনুশোচনার বিষয় নয়। এটা আমার ক্যারিয়ারের অংশ। যা হয়েছে সেটা নিয়ে অবশ্য আমি গর্বিতও নই, তবে আপনি সবসময় স্রেফ ভালো কাজ করতে পারবেন না। আমরা সবাই জীবনের একটা যাত্রাপথে আছি, যেখানে মাঝেমধ্যে এমন কিছু করে ফেলি যা ভালো সিদ্ধান্ত নয়। তবে এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, এরপর কী, সেটা নিয়ে ভাবা।”

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর ফুটবলকে বিদায় বলা জিদানের তখন মনে হয়েছিল, ফ্রান্সের হয়ে ওই ঢুঁশই হয়তো তার শেষ স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে।

“হ্যাঁ (এমনটা মনে হয়েছিল), কারণ ওই সময় জানতাম না যে একদিন কোচ হব। তাই আমার কাছে সেটাই ছিল শেষ। ওই সময়টা খুবই কঠিন ছিল। সেসব পেছনে ফেলে ফ্রান্স দলকে কোচিং করাতে আমি প্রস্তুত। নিজের সবকিছু উজাড় করে দিতে চাই।”

ওই ঘটনার পর কি মাতেরাস্‌সির সঙ্গে কথা হয়েছিল জিদানের, তার সরাসরি উত্তর, “না। একদমই না।”

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শুরুটা ভালোই হয়েছে জিদানের। প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে তার দল। একই ব্যবধানে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও জিতেছে ফরাসিরা। দুটি ম্যাচই তা খেলেছে প্রতিপক্ষের মাঠে।

ইতালির বিপক্ষে ম্যাচটি নিজেদের আঙিনায় খেলবে ফ্রান্স। কোচের দায়িত্বে ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচের আগে আবেগাপ্লুত জিদান।

“এটা খুবই আবেগময় একটা মুহূর্ত। আমরা তৃতীয় ম্যাচটির জন্য তৈরি। ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, বিশেষ কোনো সমস্যা নেই। ঘরের দর্শকদের সামনে ম্যাচটি জেতার চেষ্টা করব।”