০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘লোকে ভেবেছিল আমি পাগল’, মেরিনোকে দলে নেওয়ার প্রসঙ্গে স্পেন কোচ

আবারও বদলি নেমে দুটি গোল করে দলকে জেতালেন মিকেল মেরিনো, বিশ্বকাপের আগে তাকে দলে নেওয়ার সময়কার বিতর্কের ঘটনায় ফিরে তাকালেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 12:17 PM

Updated : 07 Oct 2026, 12:17 PM

বদলি হিসেবে মিকেল মেরিনো মাঠে নামবেন। গোল করবেন। ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেবেন। দলকে স্বস্তি দেবেন। কোচের মুখে হাসি ফোটাবেন। এসব এখন বলা যায় নিয়মিত চিত্র। নেশন্স লিগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও ফুটে উঠল তা। বদলি নেমে দলকে জেতালেন মেরিনো। ম্যাচের পর স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ফিরে তাকালেন বিশ্বকাপের আগের সময়টায়, যখন তাকে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছিল এই স্ট্রাইকারকে দলে রাখায়।

নেশন্স লিগে ম্যাচে মঙ্গলবার পিছিয়ে পড়া দলকে উদ্ধার করে জয় এনে দেন মেরিনো। ইভান পেরিসিচের ১৭ মিনিটের গোল ক্রোয়েশিয়া ধরে রাখে ৬০ মিনিট পর্যন্ত। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামা মেরিনো স্পেনকে সমতায় ফেরান ৬১তম মিনিটে। এরপর জয়সূচক গোলটি করে ৮৮তম মিনিটে।

স্পেনের হয়ে মেরিনোর সবশেষ পাঁচ গোলের চারটিই এলো ৮৮ মিনিট বা এর পর। এই গোলগুলির মধ্যে আছে গত বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলও।

ম্যাচের পর মেরিনোর উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় কোচ দে লা ফুয়েন্তে বললেন, বিশ্বের সব দলেই জায়গা করে নিতে পারেন ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

“আমাদের দলে নিজ নিজ পজিশনে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা আছে এবং মিকেলও (মেরিনো) সেই গোত্রেরই একজন। সে বিশ্বের যেকোনো দলের হয়ে, যেকোনো জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারে।

“বেঞ্চ থেকে নেমে ঠিক কী করতে হবে, তা সে খুব ভালো করেই জানে। যদিও কাজটি সবসময় সহজ হয় না। তবে তার মান অনেক ভালো এবং গোল করার সহজাত সামর্থ্য তার আছে।”

স্পেন কোচের মতে, প্রাপ্য কৃতিত্বটুকু অনেক সময় দেওয়া হয় না মেরিনোকে।

“হয়তো তার প্রতিভা সবসময় প্রাপ্য স্বীকৃতিটুকু পায় না। অন্য কোনো দেশে হলে হয়তো তাকে আরও বেশি কদর করা হতো। আমাদের এখানে অসাধারণ ফুটবলারদের কদর করতে মাঝেমধ্যে আমাদেরই কষ্ট হয়।”

স্পেন কোচ ফিরে গেলেন বিশ্বকাপের আগের সময়টাতেও। দীর্ঘদিন চোটের পর মাঠে ফেরা এই ফুটবলারকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখায় তুমুল সমালোচনা হয়েছিল কোচের। এখন পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগটা নিলেন কোচ।

“তখন বলেছিলাম, প্রয়োজনে তুলে নিয়ে হলেও তাকে আমি বিশ্বকাপে নিয়ে যাব। কারণটা সে প্রমাণ করেছে। কিছু লোক ভেবেছিল আমি পাগল। কিন্তু আমার মনে হয় এখন এটা পরিষ্কার যে, আমি কেন মরিয়া ছিলাম।”

স্পেনের হয়ে মেরিনোর গোল এখন ১৫টি। গত কিছুদিনে বলা যায় দেশের হয়ে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সেরা একাদশে থাকতে না পারার হতাশাটুকু অবশ্য লুকালেন না তিনি। তবে দলকে জেতাতে পারাও তৃপ্তিও আছে আর্সেনালের এই তারকার।

“আরেকটি ম্যাচে বেঞ্চ থেকে নেমে দলকে আবারও সাহায্য করতে পেরে আমি সত্যিই খুশি। সম্ভাব্য সেরা মানসিকতা নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম।

“যদিও প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়াটা হতাশাজনক এবং আরও বেশি খেলতে চাওয়ার তাড়না সবসময় থাকে। কিন্তু এই দলটা একটা পরিবারের মতো এবং সেটা সবসময়ই প্রকাশ পায়। যারা খেলেছে তাদের সবার মতোই, আমিও আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি।”

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এই জয় দিয়ে নেশন্স লিগে টানা চতুর্থ জয়ে কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অপরাজিত পথচলা নিয়ে গেছে তারা টানা ৪৩ ম্যাচে।