চেলসি ম্যাচেও ইউনাইটেডের দায়িত্বে ‘থাকছেন’ ক্যারিক
মৌসুমের হতাশাজনক শুরুর পর দলের অবস্থার উন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন ৪৫ বছর বয়সি এই কোচ।
দলের টানা বাজে পারফরম্যান্সে তীব্র চাপের মুখে থাকা মাইকেল ক্যারিক ঘুরে দাঁড়ানোর আরও একটি সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী শনিবার প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্বে ‘থাকছেন’ এই ইংলিশ কোচ।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গত রোববার বোর্নমাউথের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে ৩-০ গোলে হারের পর ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
ওই পরাজয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইউনাইটেডের জয়হীন যাত্রা টানা আট ম্যাচে গিয়ে ঠেকেছে এবং প্রিমিয়ার লিগে দলটি এখন অবনমন অঞ্চলের ঠিক এক পয়েন্ট ওপরে, ১৬তম স্থানে রয়েছে।
ক্যারিকের পদ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে সোমবার ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নাম নিয়েও গুঞ্জন শোনা যায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর, ওই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ইউনাইটেডের সাবেক এই মিডফিল্ডার যথারীতি কাজে যোগ দেন এবং মঙ্গলবার সকালে ক্যারিংটনে দলের অনুশীলন তদারকি করেন।
ক্লাবের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, ক্যারিক ও তার খেলোয়াড়দের সামনে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ক্লাব এখন পুরোপুরি শনিবারের ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে, যাতে মাঠে খেলোয়াড়রা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেন।
রোববার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে হতাশার ওই হারের দিনে সমর্থকরা কোচের চেয়ে বরং খেলোয়াড়দের ওপরই বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ম্যাচ শেষে ক্যারিক টানেলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় হাজারো সমর্থক তার নাম ধরে স্লোগান দেয় এবং হাততালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানায়। তবে কয়েক মুহূর্ত পরেই সেই পরিবেশ বদলে যায়; খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়ার সময় সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে দুয়ো দিতে শুরু করে।
এই দৃশ্যটি প্রমাণ করে যে, ৪৫ বছর বয়সি ক্যারিকের প্রতি সমর্থকদের এখনও যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে।
দলের বাজে পারফরম্যান্সের দায় বারবার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ক্যারিক, আর খেলোয়াড়দের রেখেছেন সমালোচনার হাত থেকে দূরে।
রোববার হারের পর তিনি বলেন, “আমি পরিস্থিতিটা পুরোপুরি বুঝতে পারছি। সত্যি বলতে, বিশেষ কিছু আশা করছি না। আমি স্বাভাবিকভাবেই আমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, আর এই জায়গাটিকে আমি ভালোবাসি।
“ফুটবল ক্লাবের জন্য যা সবচেয়ে ভালো বলে মনে করি, আমি সবসময় সেটাই করি, আর সেটা যেকোনো বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হোক না কেন।”
গত জানুয়ারিতে হুবেন অ্যামুরিকে ছাঁটাই করার পর ক্যারিককে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় ইউনাইটেড। তখন টালমাটাল অবস্থায় থাকা দলটিকে স্থিতিশীল করা এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা এনে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে এবং সেটা তিনি খুব ভালোভাবেই করেন। প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় হয়ে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ডের সফলতম ক্লাবটি।
তবে ৩০ অগাস্ট প্রিমিয়ার লিগে ফেরা ইপসউইচ টাউনকে হারানোর পর থেকে লিগে আর জয়ের দেখা পায়নি ইউনাইটেড।
গত রোববার অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দসকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিলে ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। এর চার দিন আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমোর বিপক্ষে ৪-১ গোলে হারের পর প্রকাশ্যে ইউনাইটেডের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।
সমর্থকদের ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন ক্লাবের নীতিনির্ধারকরাও।
ইউনাইটেডের সামনে এখন কঠিন কিছু ম্যাচের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাদের খেলতে হবে লিগ টেবিলে পঞ্চম স্থানে থাকা চেলসির বিপক্ষে। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমা এবং ঘরোয়া লিগে ফিরে অ্যাস্টন ভিলা ও লিভারপুলের মুখোমুখি হবে তারা।
২০১৩ সালে অ্যালেক্স ফার্গুসন অবসরে যাওয়ার পর থেকে ইউনাইটেডের সপ্তম স্থায়ী কোচ ক্যারিক। তার সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় এডি হাউ ও ইউলিয়ান নাগেলসমানের নাম শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেশোরে।
