ভাবিনি আমার অভিষেক হয়ে যাবে: শুকি ইতোফুসা
জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন পূরণের উচ্ছ্বাসে ভাসছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানিজ উইঙ্গার।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দলে ডাক পেয়ে প্রথম ম্যাচেই অভিষেক হয়ে গেছে শুকি ইতোফুসার। জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন পূরণের উচ্ছ্বাসে ভাসছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই জাপানিজ উইঙ্গার। এভাবে অভিষেক হয়ে যাবে, কল্পনাও করেননি তিনি।
এই মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের দল ফর্টিস এফসিতে যোগ দেন শুকি। ২২ বছর বয়সী ফুটবলার বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে কোচ টমাস ডুলির আস্থা অর্জন করে জায়গা করে নেন ফিফা আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে।
জাকার্তায় আসরে দলের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় তার। যদিও উল্লেখযোগ্য কিছু তিনি করতে পারেননি। বাংলাদেশ হেরে যায় ৩-০ গোলে।
পরদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেন শুকি।
প্রশ্ন: গতকাল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিষেক হয়েছে, নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
শুকি ইতোফুসা: ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং সেই জার্সিতে মাঠে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। গতকালের ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে বললে, এখনও কিছু জায়গায় আমার উন্নতি করার প্রয়োজন আছে। আমি আমার ফিটনেস ও কন্ডিশন আরও উন্নত করতে কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। পাশাপাশি গোল করা বা অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে চাই।
প্রশ্ন: ভেবেছিলেন কি প্রথম ম্যাচেই লাল সবুজ জার্সি পরে মাঠে নামা হবে?
শুকি: আমি আসলে কখনও এভাবে ভাবিনি যে, আমার অভিষেক হয়ে যাবে গতকাল, তবে আমি প্রস্তুত ছিলাম দেশের জন্য লড়তে।
প্রশ্ন: আপনার সতীর্থরা জাপানিজ বলতে পারে না, তাদের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করেন?
শুকি: আসলে, আমি জানি যে তারা জাপানিজ বলতে পারে না। তবে আমার সতীর্থরা ইংরেজি বা সহজ কিছু ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করে, যতটুকু আমি বুঝতে পারি। এছাড়াও, কিছু সতীর্থ সবসময় আমার খেয়াল রাখে এবং আমার সঙ্গে কথা বলে। তাই এখন আমি মোটামুটি একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি। সময়টা খুব উপভোগও করছি, কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে আছেন, তাদের মিস করেন? এবার তো মনে হয় সবচেয়ে বেশি সময় পরিবার থেকে দূরে…
শুকি: আসলে, পরিবার থেকে দূরে থাকা... এটা একজন ফুটবলার হিসেবে আমার স্বপ্ন, আবার এটা আমার পরিবারেরও স্বপ্ন। পরিবার থেকে দূরে থেকে আমি যদি সফল হতে পারি, তাহলে সেটা আমার পরিবার এবং আরও অনেক মানুষের জন্য আনন্দ বয়ে আনে। তাই আমি মনে করি, পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কোনো সমস্যা নয়।
প্রশ্ন: বাসায় কেউ বাংলায় কথা বলে?
শুকি: শুধু আমার বাবা বাসায় বাংলায় কথা বলেন। বাসায় বাকি সদস্যরা, মানে আমরা জাপানিজ ভাষাতেই কথা বলি।
