Published : 24 Aug 2026, 12:37 PM
‘দুর্বল ফেডারেশনগুলোর চ্যাম্পিয়ন’, নির্বাচনী ইশতেহারে এটিই জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিচয়। পুনর্নির্বাচনে নিজেকে এভাবেই উপস্থাপন করেছেন ফিফা সভাপতি। একই দিনে উফেয়া সভাপতি আলেকসান্দের চেফেরিন জানিয়ে দিয়েছেন, এই নির্বাচনে তিনি লড়ছেন না। তবে এটিও বলে রেখেছেন, ইনফান্তিনোর একজন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
ফিফা টুর্নামেন্টের স্বত্বের জন্য একটি বাণিজ্যিক সংস্থা গঠন এবং এটির ২০ শতাংশ ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার যে প্রস্তাব ইনফান্তিনো এখন বাতিল করেছেন, তা উত্থাপনের প্রায় এক মাস পরেও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই খেলার বৈশ্বিক শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াই তীব্রভাবে চলছে।
ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, এশিয়া (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান (কনক্যাকাফ) অঞ্চলের জোটগুলো ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানে আছে এবং চেফেরিন কয়েকবারই বলেছেন যে, ইনফান্তিনোর পদত্যাগ করা উচিত।
‘দা রেস্ট ইজ পলিটিক্স: লিডিং’ পডকাস্টকে চেফেরিন বলেন, সামনে তাকিয়ে সম্ভাব্য দুটি চিত্র তিনি দেখতে পাচ্ছেন।
“দুটি বিকল্প আছে। একটি সম্ভাবনা হলো, তিনি উপলব্ধি করবেন যে তার সমর্থন নেই এবং এই সমর্থন শুধু ভোটারদের রাজনৈতিক সমর্থনই নয়, বরং ফুটবল কমিউনিটির রাজনৈতিক সমর্থন, ভক্তদের রাজনৈতিক সমর্থন, ফুটবলার, সাবেক ফুটবলার ও কোচদের রাজনৈতিক সমর্থনও বটে।
এবং দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো, তিনি মার্চের নির্বাচনে যাবেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে আমার মনে হয়, তার বিরুদ্ধে একজন প্রার্থী থাকবেন। যদিও আমি এখনও জানি না, সেই প্রার্থী কে।
চেফেরিনের এই মন্তব্য নিয়ে ইনফান্তিনো ও ফিফার মন্তব্য জানার চেষ্টা করছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সূত্রগুলো গত সপ্তাহে রয়টার্সকে জানায় যে, তৃতীয় একটি বিকল্প বিবেচনা করছে উয়েফা, এএফসি এবং কনক্যাকাফ— আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট।
চেফেরিনের দাবির, বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি। স্লোভেনিয়ান এই ফুটবল প্রশাসকের বিশ্বাস, ইনফান্তিনোর উত্তরসূরি হওয়ার প্রতি অনাগ্রহের কারণে বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ে গেছে।
ইউরোপের ছোট দেশগুলোর বিরোধিতা
চেফেরিন বলেন, ইউরোপিয়ান সুপার লিগ পরিকল্পনার চেয়েও ফুটবলের জন্য বড় হুমকি ইনফান্তিনোর ওই পরিকল্পনা। ২০২১ সালে সুপার লিগের বিরুদ্ধে উয়েফা সফলভাবে লড়াই করেছিল। তিনি আরও বলেন, এই বিরোধিতা শুধু ইউরোপের বড় দেশগুলো থেকেই আসছে না।
“একদিকে ছিল ইংল্যান্ড, জার্মানি, যারা এটা চায় না, কারণ এই অর্থ তাদের জন্য খুব বড় নয়। কিন্তু অন্যদিকে ছিল সান মারিনো, সাইপ্রাস, লিখটেনস্টাইন... তারাও বলেছে, ‘আমরা বিক্রির জন্য নই।”
২০১৬ সাল থেকে সভাপতি পদে থাকা ইনফান্তিনো সরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাননি এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য তিনি অপেক্ষাকৃত কম সচ্ছল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোয় তার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করছেন।
সম্প্রতি ডমিনিকান রিপাবলিকে ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়ন (সিএফইউ)-এর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ফিফা প্রকাশিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ধনী ও দরিদ্র ফুটবল ফেডারেশনগুলোর ব্যবধান কমানো ফিফার কাজ।
“আমরা বিশ্বের আমাদের ২১১টি দেশের প্রতিটিতে ফুটবলের প্রসার ঘটাতে চাই। বাকি সবার জন্য বিনিয়োগ খুঁজে বের করতে হবে আমাদের -- বাকি সবার জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এর উদ্দেশ্য হলো, বিশ্ব ফুটবলের জন্য সুযোগ, প্রবেশাধিকার এবং সম্পদ খুঁজে বের করা ও প্রদান করা।
দুর্ভাগ্যবশত, অন্যদের উন্নতির প্রয়োজন নেই কিছু দেশের এবং তারা তা চায়ও না, কিন্তু আমাদের এই বড় বড় দেশগুলো এবং বাকি সবার মধ্যেকার ব্যবধান কমাতে হবে। গত ১০ বছর ধরে এবং গত ১০ সপ্তাহ ধরেও আমরা এটাই করার চেষ্টা করে আসছি এবং আগামী বছরগুলোতেও আমরা এটাই করতে থাকব।”
তবে দরিদ্র ফুটবল দেশগুলোকে সাহায্য করার প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছে ইউরোপ, এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন চেফেরিন। বরং উয়েফাকে একটি সুবিধাভোগী অভিজাত গোষ্ঠী হিসেবে চিত্রিত করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন তিনি ওই পডকাস্টে।
“আমি যা শুনি তা হলো, তারা এমন ভাব দেখায় যে, ‘অহংকারী ইউরোপ আমাদের বিরুদ্ধে।’ কিন্তু আমার মনে হয়, তাকে (ইনফান্তিনোকে) কারও মনে করিয়ে দেওয়া উচিত যে, তিনি একজন ইউরোপীয় এবং তার প্রতি উয়েফার সমর্থন ছিল, যা তিনি ভুলে গেছেন।”
এসবের মধ্যে ফিফার ছয়টি নর্ডিক সদস্য দেশ—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফ্যারো আইল্যান্ডস রোববার হেলসিঙ্কিতে মিলিত হয়ে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের আহ্বানের সমর্থনে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে।
আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক জোটগুলোর সমর্থনপুষ্ট ইনফান্তিনো এই সঙ্কটের সময়ে কনফেডারেশনগুলোকে একপাশে সরিয়ে রেখে সরাসরি সদস্য দেশগুলোর কাছে আবেদন জানানোর চেষ্টা করেছেন।
ডমিনিকান রিপাবলিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা
সিএফইউ কনক্যাকাফের একটি অংশ এবং ইনফান্তিনো বলেছেন, ডমিনিকান রিপাবলিকে একটি অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টের জন্য গিয়ে তিনি যেভাবে অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তাতে তিনি খুব খুশি।
কনক্যাকাফ সভাপতি যদিও চেয়েছিলেন ইনফান্তিনোকে টুর্নামেন্ট থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন, কারণ তার উপস্থিতি ফুটবলকে ম্লান করে দেবে বলে মনে করা হয়েছিল।
তবে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফার উন্নয়ন তহবিল থেকে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি ছিল তার নেতৃত্বে ফিফার কাজের একটি বড় উদাহরণ।