১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কোনের চোটে ম্লান কানাডার প্রথম জয়ের আনন্দ

যে রাত হওয়ার কথা ছিল উৎসবের, কানাডার জন‍্য সেটি রূপ নিয়েছে যন্ত্রণায়।

কোনের চোটে ম্লান কানাডার প্রথম জয়ের আনন্দ
স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ছেন ইসমায়েল কোনে। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jun 2026, 11:04 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:26 PM

ইতিহাস গড়ার রাত, বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরে এসে প্রথম জয়, সেটাও গোল বন্যা বইয়ে। ঘরের মাঠে কাতারকে উড়িয়ে দেওয়ার পর কানাডার জন্য যে রাত হওয়ার কথা ছিল উৎসবের, ইসমায়েল কোনের ভয়াবহ চোটে সেটি রূপ নিয়েছে দুর্বিষহ যন্ত্রণায়।

ভ্যাঙ্কুভারে বাংলাদেশ সময় শুক্রবারে ভোরে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ৬-০ গোলে জিতেছে কানাডা। 

ম‍্যাচের ৫৪তম মিনিটে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন ২৪ বছর বয়সী কোনে। সাইডলাইন থেকে হাড় ভাঙার শব্দেই যা বোঝা বুঝে গিয়েছিলেন কানাডা কোচ জেসি মার্শ। 

“এটা ঘটেছে ঠিক বেঞ্চের সামনেই, আমরা সবাই শব্দ শুনতে পেয়েছি। 

২০২৪ কোপা আমেরিকার সময় অনুশীলনে হাড় ভাঙে তাহোন বিউক‍্যানানের। তেমন কিছুই হয়েছে, বুঝতে সময় লাগেনি মার্শের।

“তখনই আমি বুঝে যাই, এটা অনুশীলনে পাওয়া তাহোনের ওই চোটের মতোই। সবাই হাড় ভাঙার শব্দ শুনেছিল।”   

ওই ফাউলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় কানাডার খেলোয়াড় ও স্টাফরা। কয়েকজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষে সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। মার্শকে ব‍্যাখ‍্যা চাইতে দেখা যায়, কেন সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হলো না। পরে হলুদ কার্ড লাল কার্ড দেখানো হয় কাতারের আসিম মাদিবোকে। 

মার্শ জানান, কানাডার ড্রেসিংরুমে কোনের কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলেন মাদিবো। তার এই কাজের প্রশংসা করলেও কাতার বেঞ্চের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ কানাডা কোচ।

“এর জন‍্য আমি তার দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু আমি তাদের পুরো বেঞ্চের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারছি না। তারা লাল কার্ড নিয়ে ঝামেলা শুরু করল, যখন এটা পরিষ্কার ফাউল এবং মাত্রই একজন খেলোয়াড়ের পা ভেঙেছে।”

অস্ত্রোপচারের জন‍্য কোনেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুই ম‍্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে আসা কানাডার জন‍্য এটা বড় ধাক্কা। ৪৮ দলের বর্ধিত টুর্নামেন্টে দলটি প্রথমবার নকআউট পর্বে খেলার স্বপ্ন দেখছে। 

কোনের বদলি নামার সাত মিনিটের মাথায় চমৎকার একটি গোল করেন ন্যাথান সালিবা। তার ফ্রি কিকে বল সামান্য বাঁক নিয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এবারের বিশ্বকাপে এটাই প্রথম সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল। পরে কোনের জার্সি মেলে ধরে উদযাপন করেন সালিবা। 

হ‍্যাটট্রিক করে কানাডার জয়ের নায়ক জোনাথান ডেভিড বলেন, কোনের চোটে ম‍্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে ভুগছিলেন তারা। 

“আমার মনে হয়, আমরা স্রেফ চাইছিলাম ম‍্যাচটা শেষ হয়ে যাক, যেন আমরা সবাই এক সঙ্গে হতে পারি।”

ইতালির ক্লাব সাস্সুয়োলোয় খেলেন কোত দি ভোয়ায় জন্ম নেওয়া কোনে। মার্শ মনে করেন, টুর্নামেন্টের বাকি সময় তার অভাব অনুভব করতে দল। 

“এই ঘটনায় দলের সবাই কিছুটা নাড়া খেয়েছে। আমাদের দলের একটা বড় অংশ ইসমায়েল। সে আমাদের জন‍্য কিছুটা এক্স ফ‍্যাক্টর ছিল। আমরা তার অভাব অনুভব করব। তবে আমি মনে করি, আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে, যারা এগিয়ে আসতে পারে।”