Published : 15 Nov 2025, 06:47 PM
প্রথমবারের মতো নারী কাবাডি বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে উন্মাদনা, গর্ব সবই আছে বাংলাদেশের। কিন্তু ম্যাটের মূল লড়াই ঘিরে স্বপ্নটা বড় নয়! র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতিই আসল চাওয়া ফেডারেশনের কর্মকর্তা, কোচ, খেলোয়াড়-সবার!
১১ দল নিয়ে সোমবার মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিশ্বকাপ। ২০১২ সালে ভারতের পাটনায় বসেছিল নারী কাবাডি বিশ্বকাপের প্রথম আসর, ১৩ বছর পর দ্বিতীয়টি শুরুর অপেক্ষা।
আসরটি হওয়ার কথা ছিল ১৪ দল নিয়ে; কিন্তু আর্জেন্টিনা, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ কোরিয়া শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়। পরে স্ট্যান্ডবাই থাকা পাকিস্তান ও পোল্যান্ডের মধ্যে সুযোগ পেয়েছে কেবল পোলিশরা।
বাংলাদেশ, ভারত, চাইনিজ তাইপে, জার্মানি, ইরান, কেনিয়া, নেপাল, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড, উগান্ডা ও জাঞ্জিবারকে নিয়ে হবে খেলা বলে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন। এদিনই দল ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রাবনী মল্লিক, বৃষ্টি বিশ্বাস, রূপালি আক্তার (সিনিয়র), স্মৃতি আক্তার, রেখা আক্তারী, মেবি চাকমা, রূপালি আক্তার, আঞ্জুয়ারা রাত্রি, সুচরিতা চাকমা, খাদিজা খাতুন, লোবা আক্তার, ইয়াসমিন খানম, ইসরাত জাহান সাদিকা ও তাহরিমকে নিয়ে গড়া হয়েছে দল।
স্ট্যান্ডবাই হিসেবে আছেন আফরোজা ও লুম্বিনী চাকমা। কোচের দায়িত্বে শাহনাজ পারভীন মালেকা ও আরদুজ্জামান মুন্সি।
রূপালি আক্তার সিনিয়রের বাহুতে থাকবে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এই বিশ্বকাপ তার জন্য একই সাথে আনন্দের ও বেদনারও। এই প্রথম দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। পরে এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রিয় কাবাডিকে বলবেন বিদায়। রূপালির অনুভূতিতে তাই আবেগের দোলাচল।
“২০০৯ সাল থেকে কাবাডি খেলছি। বিশ্বকাপের মতো আসরে অধিনায়ক হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এর আগে কখনও অধিনায়কত্ব করিনি। বিশ্বকাপ দিয়ে খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানতে যাচ্ছি। এই আসরে অধিনায়ক হতে পারাটাও বিশেষ কিছু।”
“এত বড় টুর্নামেন্ট, বিশ্বকাপে সবাই ভালো করার জন্য আসবে। ভারত, ইরান, চাইনিজ তাইপে ভালো দল। নেপাল, থাইল্যান্ডও শক্তিশালী। আমরা প্রথম বিশ্বকাপে পঞ্চম স্থানে অধিকার করেছিলাম। এবার তার থেকেও ভালো কিছু করতে চাই।”
প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। রানার্সআপ ইরান।
বাংলাদেশ কোচ আরদুজ্জামান মুন্সি অবশ্য এবার পদকের স্বপ্ন দেখালেন।
“অনুশীলনে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। আমরা শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে অনুশীলন করেছি বিকেএসপিতে। বিশ্বকাপের জন্য এখন যথেষ্ট প্রস্তুত। আমাদের দেশে খেলা, আমাদের উৎসাহ উদ্দীপনা একটু বেশিই। অন্তত একটা পদক পাব-এই আশা নিয়েই আমরা প্রস্তুত হয়েছি। দেশকে একটি পদক উপহার দিতে পারব বলে আশাবাদী।”
কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ এতটা আশা করতে চান না এখনই। সাম্প্রতিক সময়ে যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিড়ে নিরাপদ ও সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনেই মনোযোগ বেশি তার। লক্ষ্যের প্রশ্নেও তিনি বললেন কেবল র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতির কথা।
“নারীদের র্যাঙ্কিংয়ে আমরা বর্তমানে পঞ্চম স্থানে আছি। এই বিশ্বকাপ দিয়ে আমরা র্যাঙ্কিংয়ে আরেকটু উপরে উঠতে পারি এবং সে সুযোগ আমাদের সামনে আছে। দলের কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশাও এটি।”
“এই প্রথম বাংলাদেশ নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে, আয়োজক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা সফলভাবে সবকিছু সম্পন্ন করা। খেলা পরিচালনার জন্য অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ থেকে রেফারি আনা হয়েছে। ভারত থেকে পাঁচ জন রেফারি আনা হয়েছে। এছাড়া আমাদের দেশের ১০ থেকে ১২ জনের একটা টেকনিক্যাল কমিটি আছে, যারা সবকিছু তদারকি করবেন। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এই আয়োজন দিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে চাই আমরা।”