দলের খেলায় গর্বিত বার্সা কোচ, হতাশ গোল না পাওয়ায়

বায়ার্নের বিপক্ষে অনেকগুলো সুবর্ণ সুযোগ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরে গেছে বার্সেলোনা।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 04:26 AM
Updated : 14 Sept 2022, 04:26 AM

একের পর এক আক্রমণ, দারুণ সব সুযোগ। সব ঠিকঠাক থাকলে প্রথমার্ধেই গোটা চারেক গোলে এগিয়ে যাওয়ার কথা বার্সেলোনার, হ্যাটট্রিক হয়ে যাওয়ার কথা রবের্ত লেভানদোভস্কির। কিন্তু হয়নি কিছুই। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের জোড়া গোলে জিতে গেছে বায়ার্ন মিউনিখ। এত সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারায় স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ হতাশ শাভি এরনান্দেস। তবে ম্যাচটি তার কাছে পুরোপুরি অপ্রাপ্তির গল্প নয়, বরং দলকে নিয়ে কিছুটা গর্বও আছে বার্সেলোনা কোচের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই ম্যাচটি বার্সেলোনার কাছে ছিল বায়ার্নের বিপক্ষে দুঃসহ অতীতের ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে খুব ভালো ছন্দে ছিল না বায়ার্ন। বার্সেলোনার ফর্ম ছিল দুর্দান্ত। সেই তাড়নার প্রকাশও ছিল মঙ্গলবার তাদের খেলায়। ছন্দময় ফুটবলে তারা প্রথমার্ধেই কোণঠাসা করে ফেলে বায়ার্নকে। কিন্তু ফুটবল তো গোলের খেলা!

বায়ার্নের মাঠে সেই গোলের দেখাই পায়নি তারা। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা যিনি, বায়ার্ন থেকে এই মৌসুমে বার্সেলোনায় এসে যার শুরুটা হয়েছে অসাধারণ, সেই লেভানদোভস্কি চেনা আঙিনায় ফিরে পুরো অচেনা হয়ে থাকেন।

প্রথমার্ধেই পাঁচ-পাঁচটি সুযোগ আসে পোলিশ এই ফরোয়ার্ডের সামনে। একটিও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে বায়ার্ন গোছানো ফুটবল খেলে ম্যাচ জিতে নেয় ২-০ গোলে।

ম্যাচের পর শাভির প্রতিক্রিয়ায় মিশে থাকল আক্ষেপ, হতাশা, ক্ষোভ এবং কিছুটা প্রাপ্তি।

“এতটা সহজে ওদেরকে ছাড় দেওয়া যায় না। বিষণ্ণ মন নিয়েই মাঠ থেকে যেতে হচ্ছে আমাকে, কারণ আজকে রাতে অনায়াসেই জিততে পারতাম। তবে দলকে নিয়ে আমি গর্বিতও বটে।”

“তবে দিনশেষে, জয়ই সবকিছু এবং আমাদের উচিত ছিল জেতা। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোয় আমাদের আরও বেশি লড়াই করা উচিত ছিল, যেমন দুটি গোল আমরা হজম করেছি। পাশাপাশি, সুযোগ তৈরি করার পর (গোলমুখে) আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন ছিল।”

বায়ার্নের মতো দলের বিপক্ষে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে এবং সামান্য সময়ের জন্য মনোযোগ হারালেও চরম খেসারত দিতে হয়, এই ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে আবারও উপলব্ধি শাভির।

“আমরা ৬-৭টি দারুণ সুযোগ পেয়েছি গোল করার, কিন্তু হাতছাড়া করেছি। বায়ার্ন ঠিকই তাদের সুযোগ দিয়েছে। আমরা লড়াই করেছি, খুব ভালো ফুটবল খেলেছি এবং প্রথমার্ধে যদি গোল করতে পারতাম, পুরো খেলা ভিন্ন হয়ে যেত।”

“এটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এখানে দম ফেলার সুযোগ নেই। লড়াই চালিয়ে যেতে হয় এবং ভুল এড়িয়ে যেতে হয়। কর্নারে আমাদের ভুলের সুযোগে যেমন ওরা প্রথম গোলটি পেয়ে যায়।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক