১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চুয়ামেনির সঙ্গে মারামারির কথা অস্বীকার ভালভের্দের

রেয়াল মাদ্রিদের এই তারকা মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কোনো ধরনের গায়ে হাত তোলার ঘটনা ঘটেনি।

চুয়ামেনির সঙ্গে মারামারির কথা অস্বীকার ভালভের্দের
ফেদে ভালভের্দে (বাঁয়ে) ও অহেলিয়া চুয়ামেনি। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 May 2026, 07:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:34 PM

রেয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিং রুমে অহেলিয়া চুয়ামেনি ও ফেদে ভালভের্দের মারামারির খবর এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ভালভের্দে। উরুগুয়ের তারকা ফুটবলার বলেছেন, তাদের মধ্যে কোনো ধরনের গায়ে হাত তোলার ঘটনা ঘটেনি।

স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর, গত বুধবার অনুশীলনের সময় ঝামেলায় জড়ান চুয়ামেনি ও ভালভের্দে। মূলত, কড়া ট্যাকল করায় চুয়ামেনির ওপর চটে যান ভালভের্দে। পরে তিনিও কড়া ট্যাকল করতে থাকেন চুয়ামেনিকে। সেদিন নাকি দুইজনের মধ্যে কথার লড়াইও হয়।

দুই সতীর্থের মারামারির খবর বের হয় পরদিন। এএস তাদের প্রতিবেদনে লেখে, বৃহস্পতিবার অনুশীলনের পর ড্রেসিং রুমে হাতাহাতিতে জড়ান চুয়ামেনি ও ভালভের্দে। এক পর্যায়ে চুয়ামেনি নাকি বিরক্ত হয়ে সজোরে ঘুষি মারেন ভালভের্দেকে।

অন্য খেলোয়াড়রা দ্রুত তাদের আলাদা করতে ছুটে আসেন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার সময় একটি টেবিলের সঙ্গে ভালভের্দের মাথায় আঘাত লাগে এবং ক্ষত তৈরি হয়। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ক্ষতস্থানে সেলাই করা হয়।

এক সতীর্থের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার কথা স্বীকার করেছেন ভালভের্দে, তবে ওই সতীর্থের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনাকে বানোয়াট বললেন উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বৃহস্পতিবার বিশাল এক পোস্টে সব কিছু তুলে ধরেন তিনি।

“গতকাল অনুশীলনের সময় একটি মুহূর্তের জের ধরে এক সতীর্থের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে আমার। প্রতিযোগিতার ক্লান্তি ও হতাশা অনেক সময় সাধারণ বিষয়কেও বড় করে তোলে। ড্রেসিং রুমে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে এবং প্রকাশ্যে না এসে সেগুলো মিটেও যায়। কিন্তু এখানে অবশ্যই এমন কেউ আছে, যে দ্রুত ঘটনাটি বাইরে ছড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শিরোপাহীন মৌসুম, যেখানে মাদ্রিদ সবসময়ই সবার নজরের কেন্দ্রে থাকে এবং সবকিছুকেই বাড়িয়ে দেখানো হয়।”

“আজ আমাদের মধ্যে আরেক দফা তর্ক হয়। এক পর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত একটি টেবিলে আঘাত পাই, যার ফলে আমার কপালে একটু কেটে যায় এবং রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে যেতে হয়। আমার সতীর্থ আমাকে আঘাত করেনি কিংবা আমিও তাকে আঘাত করিনি। যদিও বুঝতে পারছি, সবার জন্য হয়তো এটা বিশ্বাস করা সহজ ছিল যে আমরা মারামারি করেছি বা এটা ইচ্ছাকৃত ছিল; কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।”

টানা দ্বিতীয়বার কোনো মেজর শিরোপা না জিতে মৌসুম শেষ করার পথে আছে রেয়াল মাদ্রিদ। হতাশায় মোড়ানো মৌসুমের মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি থেকেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন ভালভের্দে। নিজের ও দলের ভাবমূর্তি খারাপ হওয়ায় ভীষণ খারাপ লাগছে তার।

“আমি দুঃখিত। সত্যিই মর্মাহত, কারণ বর্তমান পরিস্থিতি এবং এখন যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি সেটা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। মাদ্রিদ আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দলের বর্তমান অবস্থায় আমি নির্লিপ্ত থাকতে পারি না। অনেক কিছুর পুঞ্জিভূত কারণেই এমনটা হয়েছে, এই অর্থহীন তর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং মানুষকে গল্প বানানোর, অপবাদ দেওয়ার ও একটি দুর্ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করার সুযোগ করে দিচ্ছে। মাঠে আমাদের মধ্যে যতই লড়াই হোক না কেন, মাঠ থেকে বের হতেই সেসবের কিছুই আর থাকে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে কখনও যদি তাকে (চুয়ামেনি) যেকোনো কিছু থেকে রক্ষা করতে হয়, আমিই সবার আগে করব।”

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। 

ভালভের্দে অবশ্য জানালেন, চিকিৎকদের পরামর্শে বার্সেলোনার বিপক্ষে আসছে ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। 

“মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলতে চাইনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেওয়ার পর, সব ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিজের মধ্যেই চেপে রেখেছিলাম। আমরা আরেকটি বছর নষ্ট করেছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু লেখার প্রয়োজন মনে করিনি, কারণ যা করার তা মাঠেই করতে চেয়েছি এবং মনে হয় সেটাই করেছি। ঠিক এই কারণেই এই পরিস্থিতি আমাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথিত করছে, কারণ চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের কারণে পরের ম্যাচটি খেলতে পারছি না। আমি সবসময় শেষ পর্যন্ত লড়াই করে এসেছি, খেলতে না পারাটা আমার জন্য অন্য যে কারোর চেয়ে বেশি কষ্টের।”