‘কেউ ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়’, ভিনিসিউস প্রসঙ্গে মরিনিয়ো
রেয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিউসকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়, এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কোচ জুজে মরিনিয়ো।
ধারাবাহিকতা হারিয়ে গেছে। পারফরম্যান্স পড়তির দিকে অনেক দিন ধরেই। কখনও কখনও যেন মনে হয় দলের বোঝা। তবু রেয়াল মাদ্রিদে ‘ভিআইপি’ মর্যাদা পান ভিনিসিউস জুনিয়র, একাদশেও ‘অটোমেটিক চয়েস।’ ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে ঘিরে এমন আলোচনা কিংবা অভিযোগ ওঠে নিত্যই। তবে সেসব উড়িয়ে দিয়ে কোচ জুজে মরিনিয়ো বললেন, রেয়ালে কেবল ক্লাবের ব্যাজই সবকিছুর উর্ধ্বে।
চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে আপাতত লা লিগায় খেলতে পারছেন না ভিনিসিউস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবশেষ ম্যাচটিতে রোমার বিপক্ষে তার পরফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ৫৮তম মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং তার বদলে নেমে দারুণ পারফরম্যান্স মেলে ধরেন এন্দ্রিক।
পরে লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে ভিনিসিউসের পজিশনে খেলে দারুণ পারফর্ম করেন ইয়ান ডিওমান্ডে এবং গোটা দলের ছন্দও ছিল অসাধারণ। পুরোনো প্রশ্নটিও তাই জেগে উঠেছে আবার, ভিনিসিউসকে ছাড়াই রেয়াল মাদ্রিদ আরও কার্যকর ও ক্ষুরধার কি না।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে স্রেফ একবার জালের দেখা পেয়েছেন ভিনিসিউস। ম্যাচের পর ম্যাচ তাকে দেখা গেছে ম্রিয়মান।
মরিনিয়ো অবশ্য বরাবরই ভিনিসিউসের প্রতি আস্থার কথা জোর দিয়ে বলেছেন এবং বেশ আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লাইপজিগের বিপক্ষে সেরা একাদশেই দেখা যাবে ফর্মহীন তারকাকে।
ম্যাচের আগের দিন তাই মরিনিয়োর দিকে প্রশ্নই ছুটে গেল, ভিনিসিউস এই ক্লাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে কি না। কোচ বললেন, রেয়ালে এমন সুবিধা কেউ পায় না।
“শুধুমাত্র (ক্লাবের) ব্যাজ ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফুটবলাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে, এমন কিছু আমি পছন্দ করি না। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড, বা তারা কতদিন ধরে ক্লাবে আছে, বা তাদের মর্যাদা—কোনোটিই একজন ফুটবলারকে স্পর্শাতীত করে তোলে না। যা একজন ফুটবলারকে স্পর্শ সীমার বাইরে নিয়ে যায়, হলো তার পারফরম্যান্স।”
রোমা ও সেভিয়ার বিপক্ষে বদলি নামানো ও সময়মতো উপযুক্ত ফুটবলার ও কৌশল বেছে নেওয়ার জন্য বেশ প্রশংসিত হয়েছেন মরিনিয়ো। প্রয়োজনে ভিনিসিউসের ক্ষেত্রেও এমন কিছু করতে পিছপা হবেন না বলেই দাবি তার।
“সম্প্রতি যেমনটা বলেছি, আমি একগুঁয়ে কোচ নই। এমন অনেক কোচ আছেন, যাদের একটি নির্দিষ্ট ধারণা থাকে এবং তারা সেই ধারণার ওপরই নির্ভর করে খেলতে থাকে। আমি সেই ধরনের কোচ নই। আমি সবসময় বিশ্লেষণ করতে, বিষয়গুলো বুঝতে এবং দলের জন্য সেরাটা খুঁজে বের করতে প্রস্তুত থাকি।”
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগের ম্যাচটিতে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে রোমাকে ৪-৩ গোলে হারায় রেয়াল মাদ্রিদ। দুই ম্যাচের দুটিই তারা জিতেছে। ফর্ম ও বাস্তবতা যেমনই থাককি এই টুর্নামেন্টে রেয়ালকে সবসময় ফেভারিটের কাতারেই রাখা হয়। তবে এখনই খুব বেশি দূর ভাবতে চান না কোচ।
“এখনও অনেক সময় বাকি। এই মুহূর্তে রেয়াল মাদ্রিদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো (নকআউট পর্বে) খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। যদি আমরা সেই যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পয়েন্ট পাই, তাহলে আমরা আমাদের দ্বিতীয় লক্ষ্যে পৌঁছাব, যা হলো প্লে-অফ এড়ানোর চেষ্টা করা। প্লে-অফ সবসময়ই টেনশনের দুটি ম্যাচ। এই ম্যাচগুলো এড়ানো উচিত।”
