Published : 18 Aug 2026, 12:34 AM
জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সভাপতি হিসেবে আরেক মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষণা করতে ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে ফেয়ারস্কয়ার নামক একটি মানবাধিকার সংস্থা। অলাভজনক এই সংস্থার যুক্তি, ইনফান্তিনোকে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়াটা সভাপতির মেয়াদসীমা সংক্রান্ত ফিফার বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফিফার ‘গভর্নেন্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স’ কমিটির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে ফেয়ারস্কয়ার, যেখানে আগামী বছরের সভাপতি নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনোকে অযোগ্য ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তিই এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী, যিনি নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পুনর্নির্বাচিত হলে, ইনফান্তিনো চতুর্থবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হবেন এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই পদে থাকবেন।
তবে ফেয়ারস্কয়ার জোর দিয়ে বলেছে, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তিনি ইতোমধ্যেই তার তৃতীয় ও চূড়ান্ত মেয়াদ পূর্ণ করছেন।
ফিফা সভাপতিরা সর্বোচ্চ তিনটি মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দুর্নীতির অভিযোগে সেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে ফিফার কাউন্সিল এই মর্মে সম্মত হয়েছিল যে, তার প্রথম তিন বছর তিন মেয়াদের সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না, কারণ তিনি ব্লাটারের অসমাপ্ত মেয়াদ পূর্ণ করছিলেন।
‘দা অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ অগাস্ট পাঠানো একটি চিঠিতে ফেয়ারস্কয়ার পর্যালোচনা কমিটিকে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করার অনুরোধ জানিয়েছে।
“আমরা এই অনুরোধ জানাতে লিখছি যে, যেহেতু জনাব ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে তার তৃতীয় ও চূড়ান্ত মেয়াদ পূর্ণ করছেন, তাই তাকে ফিফা প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করুন। তার প্রথম মেয়াদকে বাতিল করার বিষয়ে গভর্নেন্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটির পূর্বের সিদ্ধান্তটি প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা সংক্রান্ত ফিফার বিধিবিধানের মূল উদ্দেশ্য ও মর্মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, কাতারের দোহায় ফিফা কাউন্সিল একটি বৈঠক করে, এরপর ফিফা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়: ‘ফিফা কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে গভর্নেন্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটির মতামতের সঙ্গে একমত হয়েছে যে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়কাল বর্তমান ফিফা প্রেসিডেন্টের কার্যকাল হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে তিনি তার প্রথম মেয়াদ শেষ করতে চলেছেন।”
ফেয়ারস্কয়ার উল্লেখ করেছে যে, ২০২২ সালের ওই রায়ের পর গভর্নেন্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। তারা মনে করে, বর্তমান পর্যালোচনা কমিটির সদস্যদের অবশ্যই স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।
ফেয়ারস্কয়ারের পরিচালক নিকোলাস ম্যাকগিহান রয়টার্সকে বলেছেন, “আমরা যে অভিযোগ দায়ের করেছি, তা থেকে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এটি নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি খুবই বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে।
নিয়মাবলীতে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, সভাপতির পদে সর্বোচ্চ তিনটি মেয়াদ অনুমোদিত। ফিফা তার প্রথম মেয়াদকে গণনায় না এনে, সভাপতির ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করা এই নিয়মটিকে কোনোভাবেই পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না।”
আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোতে ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি পদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে গত কিছুদিন ধরে প্রবল চাপের মুখে আছেন ইনফান্তিনো।
গত সপ্তাহে তিনটি কনফেডারেশন—উয়েফা, এএফসি এবং কনক্যাকাফ—তার নেতৃত্ব পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ফিফা প্রতিযোগিতায় বাইরের বিনিয়োগ আনার ব্যর্থ প্রচেষ্টায় তার আচরণের সমালোচনা করেছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে রয়টার্স লিখেছে, ওই তিনটি কনফেডারেশন ফেয়ারস্কয়ারের চিঠিটিকে ইনফান্তিনোর জন্য মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে পদত্যাগ করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।
বেশ কয়েকটি জাতীয় দলের ফুটবল সংস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল সোমবার বিবিসিকে বলেছেন, তার ফেডারেশন ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনকে সমর্থন করবে না।
যদিও আফ্রিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশনের সমর্থন ধরে রেখেছেন ইনফান্তিনো।