১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশকে একদিন বিশ্বকাপে দেখতে চান কানিজিয়া

স্পোর্টাম্যাজিকা ও ফর্টিস এফসির আমন্ত্রণে এসে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ এই আর্জেন্টাইন গ্রেট।

বাংলাদেশকে একদিন বিশ্বকাপে দেখতে চান কানিজিয়া
আর্জেন্টাইন গ্রেট ক্লাওদিও কানিজিয়া। ছবি: ফর্টিস এফসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 09:20 PM

Updated : 16 Sep 2026, 05:10 PM

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এতদিন ক্লাওদিও কানিজিয়া দেখেছেন দূর থেকে। স্পোর্টাম্যাজিকা ও ফর্টিস এফসির আমন্ত্রণে ঢাকায় এসে তা দেখছেন স্বচক্ষে। এ দেশের মানুষের উঞ্চতা, আতিথেয়তা, ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে তাকে। আপ্লুত কণ্ঠে এই আর্জেন্টাইন গ্রেট একদিন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখার আশাবাদ জানালেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে লম্বা আলাপচারিতায় কানিজিয়া কথা বললেন, সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জিততে না পারা, লিওলেন মেসির হাতে আরেকটি বিশ্বকাপ না ওঠা, কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার সাথে তার সেই আলোচিত চুমু কাণ্ড থেকে শুরু করে হামজা চৌধুরীসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে। 

শুরুতে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন তিনি।

“এখানকার মানুষ চমৎকার। বাংলাদেশে থাকতে আমার খুব ভালো লাগছে, কারণ এখানকার মানুষ ভীষণ ফুটবলপ্রেমী। আমি কিছু মানুষের সাথে কথা বলেছি, তারাও বলছিল যে, বাংলাদেশ সাধারণত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে অনুসরণ করে। তাই প্রথমবার এখানে এসে মানুষকে কাছ থেকে জানাটা আমার জন্য আনন্দের।

“যেমনটা বললাম, বাংলাদেশে যে এত মানুষ আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে এতে আমি মোটেও অবাক হইনি। জাতীয় দলে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের জয়, বিশেষ করে গত বিশ্বকাপে, তারা যেভাবে উদযাপন করেছে তা দারুণ। এটি ১৯৮৬ সালের দিকে, যখন দিয়েগো মারাদোনা জাতীয় দলের হয়ে খেলতেন, তখন থেকে শুরু হয়েছিল। আমি আবার বলছি, এখানে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে এবং আমি বেশ উপভোগ করছি।”

অদূর ভবিষ্যতে ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে চান কানিজিয়া। কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন দেখছেন তিনি।

“আমরা জানি, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সবসময়ই কঠিন। বিশ্ব জুড়ে অনেক দল আছে এবং তারা দ্রুত উন্নতি করছে। গত ১০ বা ২০ বছরে অন্যান্য জাতীয় দলগুলো যেভাবে উঠে এসেছে, আমি চাই বাংলাদেশও সেভাবে গড়ে উঠুক। 

“এখন তো বিশ্বকাপে ৪৮টি দল খেলছে, হয়তো সামনেরটায় ৬২ বা ৬৪টি দল খেলবে। তাই আমরা চাই বাংলাদেশ যেন বাছাইপর্ব পার করে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। পথটা সহজ নয়, তবে এটা নির্ভর করবে কোচ, সরকার, পরিবেশ এবং আপনারা কতটা পরিশ্রম করছেন তার ওপর। যাদের প্রতিভা আছে, তাদের সেরাটা বের করে এনে বিশ্বকাপে ওঠার চেষ্টা করতে হবে।”

১৯৯৬ সালে বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেটের মধ্যকার ম্যাচ শেষে মারাদোনার ঠোঠে দেওয়া সেই চুম্বন নিয়ে কানিজিয়া বললেন, ‘ফ্রেন্ডলি কিস’। ২০০২ বিশ্বকাপে নিজের পাওয়া লাল কার্ড তার চোখে ‘রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত’। মারাদোনা ও মেসির মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার প্রশ্নটা অবশ্য তিনি এড়িয়ে গেলেন।

“ফুটবল ইতিহাসের সেরা তিন খেলোয়াড় হলেন পেলে, মারাদোনা ও মেসি। আমাদের ভাগ্য ভালো যে এই তিনজনের মধ্যে দুজন-মারাদোনা ও মেসি আর্জেন্টিনার! পেলে ব্রাজিলের। ইতিহাসের সর্বকালের সেরা তিন জনের দুজনই আমাদের, আর্জেন্টাইন হিসেবে এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়। ব্যস, এটুকুই!”

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে, মনে করেন কানিজিয়া। ফাইনালে মেসি-মার্তিনেসদের বিবর্ণতার কারণও খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

“সত্যি বলতে, স্পেনই বিশ্বকাপ জেতার যোগ্য ছিল। তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমি হতাশ নই, কারণ খেলাটা খুব হাড্ডাহাড্ডি হলে হয়তো আফসোস থাকত। কিন্তু পুরো ১২০ মিনিট স্পেন আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেক ভালো ফুটবল খেলেছে। আর্জেন্টিনার অনেক খেলোয়াড় চোট পেয়েছিল এবং টানা দুটো ১২০ মিনিটের ম্যাচ খেলে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনই টুর্নামেন্টের সেরা দল হিসেবে কাপ জিতেছে।”

আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনেক পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ নতুন করে জেগে উঠছে হামজা চৌধুরী, শোমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলামের মতো প্রবাসীরা আসায়। বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন কানিজিয়া। সুযোগ পেলে বাংলাদেশে কাজ করার আশাবাদও জানালেন এই সাবেক ফরোয়ার্ড।

“ইংল্যান্ডে খেলছে এমন একজন খেলোয়াড় (হামজা চৌধুরী) পাওয়া দারুণ ব্যাপার। এটি যেকোনো দেশের ফুটবলের জন্যই ইতিবাচক। আপনার দেশের খেলোয়াড়রা যখন ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি বা ইউরোপের ভালো ভালো ক্লাব এবং প্রতিযোগিতায় খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, তখন ফুটবলের মান বাড়বে। এমনকি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা জার্মানির মতো বড় দলগুলোর ক্ষেত্রেও তা সত্যি। 

“আর বাংলাদেশ ফুটবলে কাজ করার কথা বলছেন? সত্যি বলতে আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি। তবে কোনো প্রস্তাব আসলে নিশ্চয়ই ভেবে দেখব। যে দল সামনে এগোতে চায়, তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করার কাজটা দারুণ। তবে পরিষ্কার করে বলছি, আমি নিজে থেকে কোনো দাবি করছি না। কুরাসাওয়ের মতো ছোট দেশও তো ডিক আটফোকাটের কোচিংয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। তিনি একসময় আমারও কোচ ছিলেন। তাই যে দেশ কখনো বিশ্বকাপে যায়নি, তাদের হয়ে কাজ করার চিন্তাটা ইতিবাচক হতেই পারে। সবাইকে ধন্যবাদ!”