Published : 24 Aug 2026, 12:11 AM
ম্যাচ শেষ হতে তখন কয়েক সেকেন্ড মাত্র বাকি, হারের শঙ্কা চোখ রাঙাচ্ছিল লিভারপুলকে। তবে হাল না ছেড়ে শেষ একটা আক্রমণ শানাল দলটি এবং আদায় করে নিল পেনাল্টি। আর দমিনিক সোবোসলাইয়ের সফল স্পট কিকে কোনোমতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মাঠ থেকে একটি পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারল অ্যানফিল্ডের দলটি।
সেন্ট জেমস পার্কে রোববার প্রিমিয়ার লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
এন্টনি এলাঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতা টানেন কোডি হাকপো। দুই মিনিটের মধ্যে অবশ্য জো উইলকের গোলে আবার এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। এরপর, একেবারে শেষ সময়ে সোবোসলাইয়ের ওই গোল এবং জয়ের খুব কাছ থেকে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
চমৎকার এক গোলে শুরুতেই লিভারপুলকে স্তব্ধ করে দেয় নিউক্যাসল। পঞ্চম মিনিটে তাদের একটি আক্রমণ রুখে দিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে তারা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের রক্ষণচেরা পাস দারুণ এক ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্ষিপ্রতায় ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন এলাঙ্গা।
গত বছর নিউক্যাসলে যোগ দেওয়া এই সুইডিশ ফরোয়ার্ড দলটির জার্সিতে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম গোলের দেখা পেলেন, ৩৩ ম্যাচে খেলে।
ওই ধাক্কা সইয়ে প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আক্রমণে আধিপত্য করে লিভারপুল। গোলের জন্য শটও বেশি নেয় তারা। যদিও খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দলটি।
১৭তম মিনিটে অবশ্য গোল পেতে পারত লিভারপুল। কিন্তু ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে অবশেষে সাফল্যের দেখা পায় লিভারপুল। ডি-বক্সের বেশ বাইরে থেকে নিচু জোরাল শটে সমতা টানেন ডাচ ফরোয়ার্ড হাকপো। যদিও তাদের সেই স্বস্তি মুহূর্তেই উবে যায়।
দুই মিনিট পর, অনেকটা প্রথম গোলের মতো করেই আবার জালের দেখা পায় স্বাগতিকরা। বদলি নামার এক মিনিটের মধ্যে দলকে আবার এগিয়ে নেন উইলক।
লিভারপুলের আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমশ শাণায় তারা। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মাঝে ঘিরে থাকা অবস্থায় সতীর্থের পাস পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, ডি-বক্সের মুখ থেকে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার উইলক।
৮৬তম মিনিটে ম্যাচ শেষ করে দিতে পারতেন ইয়োয়ান উইসা। সামনে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান তিনি; তবে ডি-আর কঙ্গোর এই ফরোয়ার্ডের শট আটকে লিভারপুলকে লড়াইয়ে রাখেন আলিসন।
লড়াই জিইয়ে রাখার ফল তারা পায় পাঁচ মিনিট যোগ করা সময় ছাড়িয়ে। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মুনোস ডি-বক্সে ঢুকেই ফাউলের শিকার হন এবং সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। বুলেট গতির স্পট কিকে একটি পয়েন্ট নিশ্চিত করেন হাঙ্গেরির মিডফিল্ডার সোবোসলাই।