Published : 06 Sep 2026, 10:06 PM
ম্যাচ শেষ হতে তখন আর কয়েকটা সেকেন্ড বাকি। প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সামলে নাটকীয় জয়ের পথেই ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু অন্তিম মুহূর্তে সবকিছু বদলে গেল। মেইটল্যান্ড-নাইলসের চমৎকার গোলে মূলবান একটি পয়েন্ট আদায় করে নিল এভারটন।
প্রতিপক্ষের মাঠে রোববার প্রিমিয়ার লিগে দুইবার এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেনি ইউনাইটেড। রোমাঞ্চকর লড়াইটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।
চারটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ব্রায়ান এমবুমো ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেওয়ার পর, প্রথমবার সমতা টানেন তারিক জর্জ। খানিক পরই বেনিয়ামিন শেশকোর গোলে আবার এগিয়ে যায় সফরকারীরা। এরপর, যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে মেইটল্যান্ড-নাইলসের নৈপুন্যে হার এড়ায় এভারটন।
প্রায় পুরোটা সময় প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে স্বাগতিকরা। পজেশন রাখায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও, গোলের প্রচেষ্টায় তারা এগিয়ে; তাদের ১৮ শটের ছয়টি লক্ষ্যে ছিল। আর ইউনাইটেড ১৪টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারে।
হার দিয়ে আসর শুরুর পরের ম্যাচে ইপ্সউইচ টাউনেসর বিপক্ষে বড় জয় পায় ইউনাইটেড। কিন্তু সেই ধারা ধরে রাখতে পারল না তারা। তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১১ নম্বরে আছে দলটি। এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে এভারটন।
ম্যাচের অস্টম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ইউনাইটেড, কিন্তু দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ডি-বক্সে সতীর্থের হেড পাস পেয়ে ভলি করেন ব্রুনো ফের্নান্দস, বল গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে লাগে।
২২তম মিনিটে আবার ভীতি ছড়ায় ইউনাইটেড। এবার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মাতেউস কুইয়ার জোরাল শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
বিরতির একটু আগে দারুণ একটা সুযোগ তৈরি করে এভারটন। তবে কাছ থেকে ফরাসি স্ট্রাইকার তিয়ের্নো বাহরি হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
বিরতির পর খেলা শুরু হতেই একক নৈপুণ্যে দারুণ গোলে দলকে এগিয়ে নেন এমবুমো। ডান দিক থেকে বল পায়ে আড়াআড়ি গিয়ে, প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে জায়গা বানিয়ে জোরাল শটে গোলটি করেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড। তাকে কোনোরকম চ্যালেঞ্জই জানাননি কেউ।
৬১তম মিনিটে রাশফোর্ডের ছোট পাস ধরতে গিয়ে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জের গোলমুখে মুখে পড়ে যান কুইয়া, পেনাল্টির আবেদন করে ইউনাইটেড। তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।
৮৩তম মিনিটে অসাধারণ নৈপুণ্যে সমতা ফেরান তারিক জর্জ। সতীর্থের পাস ধরে ডি-বক্সে জায়গা বানিয়ে বুলেট গতির শট নেন তিনি, কাছের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে জড়ায়।
পাঁচ মিনিট পরেই অবশ্য ওই ধাক্কা সামলে নেয় ইউনাইটেড। ফের্নান্দসের পাস ধরে বাঁ দিক থেকে ছয় গজ বক্সের বাইরে ক্রস বাড়ান লুক শ, আর সবার ওপরে লাফিয়ে জোরাল হেডে দলকে আবার এগিয়ে নেন কিছুক্ষণ আগে কুইয়ার বদলি নামা শেশকো।
গত মৌসুমে লিগে এই মাঠে জয়সূচক গোল করেছিলেন স্লোভেনিয়ার এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছিল ইউনাইটেড।
এবারও দলকে একইভাবে পথ দেখান শেশকো, কিন্তু শেষটা সুখকর হলো না তাদের।
মরিয়া হয়ে শেষবারের মতো আক্রমণে ওঠে এভারটন। ইউনাইটেড ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, ডি-বক্সে বেশ বাইরে বল পেয়ে যান মেইটল্যান্ড-নাইলস, এবং বুলেট গতির শটে সমতা টানেন এই ইংলিশ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।