Published : 29 Jul 2026, 06:44 PM
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পরপরই নেইমারের ‘অবসরের ঘোষণা’ কারো কারো চোখে আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত মনে হলেও, সেটাই যে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, তা আবারও জানিয়ে দিলেন তিনি। সেই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
বাংলাদেশ সময় গত ৬ জুলাই নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। শেষ বাঁশির পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার এবং কিছুক্ষণ পরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন তিনি।
সেই হতাশা সামলে তিনি যোগ দিয়েছেন সান্তোসে। ক্লাবের হয়ে ইতোমধ্যে একাধিক ম্যাচও খেলেছেন।
বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলোর প্লে-অফের ফিরতি লেগে ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ত্রালকে ৪-২ গোলে হারিয়ে, দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে জিতেছে সান্তোস। এদিন ম্যাচের পর, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আবারও বলেন, তার জাতীয় দল অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।
“জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ হয়েছে।
“(জাতীয় দলে) আমি ইতিহাস গড়েছি, আমি খুব খুশি ছিলাম, আমি রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়ে লড়েছি, হলুদ জার্সির জন্য আমি সবসময় লড়াই করেছি। তবে আর আমি সেটা চাই না।”
বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নেইমারের শেষটা হতাশায় মোড়া হলেও, ব্রাজিলের ইতিহাসের রেকর্ড গোলদাতা তিনি; ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল।
কিন্তু ওই গোলের সংখ্যা ছাড়া, জাতীয় দলের হয়ে তার প্রাপ্তির ভাণ্ডার প্রায় খালি। একমাত্র সাফল্য সেই ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জয়, যেই টুর্নামেন্ট এখন আর নেই।
এই সময়ে একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা জিততে পেরেছে ব্রাজিল, ২০১৯ সালে। শুরুতে ওই টুর্নামেন্টের দলে থাকলেও, চোট পেয়ে শেষ মুহূর্তে ছিটকে যান তিনি।
ক্লাব ফুটবলে অবশ্য অনেক সাফল্য পেয়েছেন নেইমার। বার্সেলোনা ও পিএসজিতে অসংখ্য শিরোপার স্বাদ পাওয়া তারকা গত কয়েক বছরে চোটে ভীষণ ভুগেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশের হয়ে খেলার সময় গুরুতর চোটে লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে পড়েন তিনি। সেই থেকে চোট যেন ছিল তার নিত্যসঙ্গী। কখনও পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি, মাঝেমধ্যে ক্লাবে ফিরলেও খেলতে পারেননি টানা।
বাধ্য হয়ে, ২০২৫ সালের শুরুতে, আল হিলালের সঙ্গে চুক্তির ইতি টেনে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যান ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।