২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বর্ণবাদের শিকার ভিনিসিউস: মরিনিয়োকে একহাত নিলেন বায়ার্ন কোচ

ক্লাবের পক্ষ নেওয়ার জন্য হলেও ভিনিসিউসের গোল উদযাপন নিয়ে ওইরকম মন্তব্য করা মরিনিয়োর উচিত হয়নি বলেই মনে করেন কম্পানি।

বর্ণবাদের শিকার ভিনিসিউস: মরিনিয়োকে একহাত নিলেন বায়ার্ন কোচ
বিতর্কিত ঘটনার ওই ম্যাচে লাল কার্ডও দেখেন জোসে মরিনিয়ো। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Feb 2026, 09:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:59 PM

বেনফিকার মাঠে দর্শনীয় একটি গোল করার পরপরই ভিনিসিউস জুনিয়রের বর্ণবাদের শিকার হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। ওই ঘটনায় নিজের খেলোয়াড়কে সমর্থন করতে গিয়ে রেয়াল মাদ্রিদ তারকার দিকে যেভাবে আঙুল তুলেছেন জোসে মরিনিয়ো, তা একদমই পছন্দ হয়নি বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভেসোঁ কম্পানির। এজন্য তিনি বেনফিকা কোচের কড়া সমালোচনাও করেছেন।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্লে-অফের প্রথম লেগের ম্যাচটিতে মঙ্গলবার ভিনিসিউসের চমকপ্রদ গোলেই বেনফিকার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরে রেয়াল মাদ্রিদ। তবে ওই গোল বা রেয়ালের জয় ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ম্যাচের পরের ঘটনাপ্রবাহ।

গোলের পর কর্নার স্ট্যান্ডের কাছে গিয়ে কোমর দুলিয়ে নেচে উদযাপন করেন ভিনিসিউস। গ্যালারির ওই প্রান্তে ছিলেন বেনফিকার সমর্থকরা। ওভাবে উদযাপনের কারণে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

এর পরপরই রেফারির কাছে গিয়ে জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ করেন ভিনিসিউস। এই উইঙ্গার ও তার সতীর্থদের অভিযোগে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। খেলা বন্ধ থাকে ১১ মিনিটের মতো।

ঘটনার সময়ের টিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ দিয়ে জার্সি ঢেকে কিছু একটা বলছেন প্রেস্তিয়ান্নি। সেই কথা শুনেই জ্বলে ওঠেন ভিনিসিউস ও আশেপাশে থাকা তার সতীর্থরা। সেখানে ছিলেন এমবাপেও। ম্যাচের পর এই ফরাসি ফরোয়ার্ড জানান, জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিউসকে পাঁচবার ‘বানর’ বলেছেন প্রেস্তিয়ান্নি। বেনফিকার এই আর্জেন্টাইন উইঙ্গারকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের পর মরিনিয়ো বলেন, ঘটনা আসলে কী তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে গোল করেই যেভাবে বেনফিকার দর্শকদের ওদিকে গিয়ে ভিনিসিউস উদযাপন করেছে, সেটা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন ক্যারিয়ারে নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দেওয়া এই কোচ।

ওই ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে, মরিনিয়োর ওই মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কম্পানি। 

“তার (ভিনিসিউসের) পারফরম্যান্সে অবমূল্যায়ন করতে তার গোল উদযাপনের ধরণ নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে, এভাবে জোসে মরিনিয়ো আসলে ভিনিসিউসের ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করেছে। আমার মতে, নেতৃত্বে থেকে এমন কিছু বলা অনেক বড় ভুল। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওযা যায় না।” 

প্রেস্তিয়ান্নি ও ক্লাবের সমর্থনে মরিনিয়ো তুলে ধরেন বেনফিকার ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের কথা, “এই ক্লাবের সর্বকালের সেরা তারকা ইউসেবিও (কৃষ্ণাঙ্গ), কাজেই এই ক্লাব বর্ণবাদী নয়।” তার এমন উদাহরণও পছন্দ হয়নি হয়নি কম্পানির।

“তিনি ইউসেবিওর কথা বলেছেন-বেনফিকা বর্ণবাদী হতে পারে না, এটা প্রমাণ করতেই তিনি তা বলেছেন, কারণ বেনফিকার ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় ইউসেবিও। আপনি কি জানেন, ১৯৬০ এর দশকে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের কী পরিস্থিতির মধ্যে যেতে হয়েছে? প্রতিটি অ্যাওয়ে ম্যাচে তিনি কি তার (ইউসেবিও) সঙ্গে ভ্রমণ করতেন?”

“আমার বাবা ছিলেন ১৯৬০ দশকের কৃষ্ণাঙ্গ, তিনিও লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। হয়তো সেই সময় তাদের সামনে একটা উপায়ই ছিল, চুপ থাকা, কোনো কিছু না বলা… একটু কৃতিত্ব পাওয়ার জন্য ১০ গুণ ভালো হওয়া।”

খেলোয়াড়ি জীবনেও নিজেও যে বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন, এমনকি বেলজিয়াম জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকার সময়ও- সে কথাও বললেন কম্পানি।

মরিনিয়োর সম্পর্কেও তার যে কোনো খারাপ ধারণা সেই, সেটাও জানালেন কম্পানি। বললেন, এই পর্তুগিজ কোচের সঙ্গে কাজ করেছে এমন ‘শত মানুষের’ সঙ্গে আলাপ আছে তার এবং কারো থেকে মরিনিয়োর সম্পর্কে খারাপ কিছু শোনেননি তিনি। 

তবে, ক্লাবের পক্ষ নেওয়ার জন্য হলেও ভিনিসিউসের গোল উদযাপন নিয়ে ওইরকম মন্তব্য করা মরিনিয়োর উচিত হয়নি বলেই মনে করেন কম্পানি।