ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ
Published : 14 Jul 2025, 04:40 PM
শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় অনেকটা এগিয়ে থেকে চেলসির বিপক্ষে যেভাবে ধরাশায়ী হয়েছে পিএসজি, তাতে দলটির কারো কারো মেজাজ হারানো স্বাভাবিকই বটে। তবে কোচ লুইস এনরিকের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু হলে, অবাক হতেই হয়। প্রতিপক্ষের জোয়াও পেদ্রোকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগের প্রশ্নে এই স্প্যানিশ কোচ অবশ্য সাফাই গাইলেন যে, দুই দলের খেলোয়াড়দের আলাদা করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ট্রেবল জয়ী পিএসজির এই দলকে নিয়ে উচ্চাশা ছিল অনেক বেশি। ৩২ দলের এবারের ক্লাব বিশ্বকাপেও ফাইনালের আগ পর্যন্ত তাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। সেমি-ফাইনালে তারা যেভাবে রেয়াল মাদ্রিদকে গুঁড়িয়ে দেয়, তাতে তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে যায় অনেক।
কিন্তু শিরোপার মঞ্চে এসে নিজেদের পুরোপুরি যেন হারিয়ে ফেলল দলটি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে রোববারের ফাইনালে তাদেরকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটি। সবগুলো গোলই হয় প্রথমার্ধে।
ফাইনালের আগ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে ১৬ গোল করার বিপরীতে মাত্র একটি হজম করা পিএসজি দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সে কিছুটা উন্নতি করলেও লড়াইয়ে প্রাণ ফেরাতে পারেনি। শেষ দিকে তাদের মেজাজ হারানোর শুরু; নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে পেছন থেকে চেলসির মার্ক কুকুরেইয়ার চুল টেনে ধরে লাল কার্ড দেখেন পিএসজি মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস।
শেষের বাঁশি বাজার পর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই দলের কয়েক জন। এরই মাঝে জোয়াও পেদ্রোর মুখে আঘাত করতে দেখা যায় এনরিকেকে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
নিজের অমন আচরণের কারণ ব্যাখ্যায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করলেন বার্সেলোনা ও স্পেনের সাবেক কোচ এনরিকে।
“এমন চাপের ও রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমাদের সবার জন্যই ম্যাচটা ছিল অনেক স্নায়ুচাপের। (যা হয়েছে) তা এড়ানো অসম্ভব হতো।”
“(ওই ঘটনায়) সবাই জড়িয়ে পড়েছিল। যা হয়েছে, তা অবশ্যই খুব ভালো কিছু নয়, এমন চাপের ম্যাচের শেষ ফল ছিল ওটা।”
ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় লড়াইয়ের অসহনীয় চাপের কথা বারবার বললেন এনরিকে। তাতেই আপত্তিকর ওই ঘটনার উৎপত্তি বলে মনে করেন তিনি।
“আমি (ঘটনার মাঝে চেলসি কোচ) এন্টসো মারেস্কাকেও দেখেছি। তাকে অন্যদের ধাক্কা দিতে দেখেছি এবং আমাদের সব খেলোয়াড়দের আলাদা করতে হতো। এত বেশি চাপ কীভাবে তৈরি হলো, ঠিক জানি না।”
“কিন্তু আমাদের সবার উচিত ছিল এমন পরিস্থিতি এড়ানো। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলারদের আলাদা করা, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়ে যায়।”
শেষটা ভীষণ বাজেভাবে হলেও ২০২৪-২৫ মৌসুম কিন্তু দুর্দান্ত কেটেছে পিএসজির। বিশেষ চলতি বছরে তাদের পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। তারই সুবাদে জানুয়ারি থেকে একে একক ফরাসি সুপার কাপ, ফরাসি কাপ, লিগ আঁ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি ঘরে তোলে এনরিকের দল।