১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আসিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে ‘দোটানায়’ বাংলাদেশ কোচ

জাতীয় দলের ক্যাম্প কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, তা নিয়েও নিশ্চিত নন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি।

আসিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে ‘দোটানায়’ বাংলাদেশ কোচ
টমাস ডুলি। ছবি: বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 12:04 AM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ জাতীয় দল আসলে কোন টুর্নামেন্টে খেলবে, এ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও। বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি তাই বুঝে উঠতে পারছেন না, কোন প্রতিপক্ষ ধরে প্রস্তুতি নেবেন। আসিয়ান কাপ, ঘরের মাঠে চার জাতি টুর্নামেন্ট নাকি কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট অংশ নেবে দল, সেটা অবশ্য দ্রুতই চূড়ান্ত করতে চাইছে বাফুফে।

আসিয়ান কাপ থেকে ভারত সরে দাঁড়ানোয় এবং বাংলাদেশের সেখানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর থেকেই মূলত এই বিপত্তির শুরু। এ নিয়ে শনিবার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন ডুলি। সবকিছু শতভাগ নিশ্চিত না হওয়ায়, তার কাজও যে কিছুটা থমকে আছে, স্পষ্টই বললেন সেটা।

“আপনারা যে কারণে এখানে এসেছেন, তা হলো ফিফা আসিয়ান কাপ। অবশ্যই আমরা সেখানে খেলতে চাই। কিরগিজস্তানেও খেলার একটি বিকল্প আমাদের আছে, তবে এটি খুব, খুব কঠিন হবে। আসিয়ান কাপ খেলার একটি বিকল্প আমাদের আছে, তবে এটি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি, এটি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং আমরা অবশ্যই খেলতে চাই।

তবে এটি শতভাগ নিশ্চিত নয় এবং যতক্ষণ না কাগজে-কলমে নিশ্চিত হচ্ছে যে, আমরা সেখানে থাকছি, ততক্ষণ আমরা…সে কারণে আমরা প্রস্তুতি নিয়েও কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। লিগ কবে শুরু হবে, সেটিও একটি বিষয়। এটি আমাদের প্রস্তুতির জন্য খুব একটা সহায়ক নয়।”

২০২৬-২৭ মৌসুমের দলবদলের কার্যক্রম চলছে। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ইতোমধ্যে দল গুছিয়ে নিয়েছে অনেকটা। নিষেধাজ্ঞার কারণে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী দলবদল শুরুই করতে পারেনি। ক্লাবগুলোর প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি না হলে জাতীয় দলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত খেলোয়াড় পাওয়া কঠিন হবে, মনে করিয়ে দিলেন ডুলি।

“আপনারা জানেন যে, একটি পেশাদার ক্লাবে প্রাক-মৌসুম অন্তত ছয় সপ্তাহের মতো হয়। খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিট হতে আরও পাঁচ, ছয় বা আটটি ম্যাচ লাগে। এক্ষেত্রে আমরা খুব একটা ভালো পরিস্থিতিতে নেই। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। লিগের কী হয়, আমরা কবে খেলোয়াড়দের পেতে পারি-এসবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আমরা ঠিক যেমনটা আশা করেছিলাম, তেমনটা হচ্ছে না। আমার চাওয়া ছিল এখন মৌসুমের মাঝখানে থাকুক, তারা আট, নয়, দশ সপ্তাহ ধরে অনুশীলন করুক এবং এরই মধ্যে ছয়-সাতটা ম্যাচ খেলে ফেলুক এবং তারপর তারা আমাদের কাছে আসুক এবং আমরা অনুশীলন করি, কারণ সাধারণত জাতীয় দলে আমরা কোনো খেলোয়াড়কে ফিট করে তুলতে পারি না। এটি অসম্ভব। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় নেই। তাই আমাদের এই পরিস্থিতির সাথেই মানিয়ে নিতে হবে।"

আসিয়ান কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তান-এই দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। আগামী নভেম্বরের ঘরের মাঠে আছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সবকিছু ঠিকঠাক গুছিয়ে নিতে ডুলি তাই তাকিয়ে আছেন আসছে উইন্ডোর দিকে।

“আমরা আশা করি, আগামীকাল বা হয়তো পরশুর মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব জানতে পারব, যাতে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি যে আমরা কার বিপক্ষে খেলব, আমরা কি কিরগিজস্তানের বিপক্ষে খেলব, আমরা কি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলব নাকি আমরা... মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে খেলব। আমরা এখনও জানি না। তাই এটা খুব কঠিন, আপনি বুঝতে পারছেন। যদি সবকিছু কাগজে-কলমে না থাকে, তবে আমরা সেটির জন্য সত্যিই পরিকল্পনা করতে পারি না।”