রেকর্ড গড়েই চলেছেন রাফি, জোড়া রেকর্ড রোমানারও
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে ব্যক্তিগত ও দলীয় মিলিয়ে এরই মধ্যে ছয় ইভেন্টে রেকর্ড গড়েছেন সামিউল ইসলাম রাফি।
জাতীয় সাঁতারের দ্বিতীয় দিনেও ঝড় তুলেছেন সামিউল ইসলাম রাফি। গড়ছেন একের পর এক রেকর্ড। বাংলাদেশ নৌবাহনীর এই সাঁতারু এদিন চার ইভেন্টে সেরা হয়েছেন রেকর্ড গড়ে।
মিরপুরের সুইমিংপুলে মঙ্গলবার আলো ছড়িয়েছেন রোমানা আক্তারও, গড়েছেন দুটি রেকর্ড। এই দিনে মোট সাতটি রেকর্ড হয়েছে।
প্রথম দিনে ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক ও ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে রেকর্ড গড়া রাফি দ্বিতীয় দিনে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা শুরুর করেন ২০০ মিটার ইন্ডিভিজ্যুয়াল মিডলে দিয়ে। গত বছর নিজের গড়া রেকর্ডটি ভাঙতে তিনি সময় নিয়েছেন ২ মিনিট ৮ দশমিক ৯২ সেকেন্ড।
৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ২৫ দশমিক ১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রাফি ভাঙেন ২০২২ সালে মাহামুদুন্নবী নাহিদের গড়া রেকর্ড (২৫ দশমিক ৬৯ সেকেন্ড)। এরপর ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ৫২ দশমিক ৪২ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১২ বছর আগে মাহফিজুর রহমানের গড়া রেকর্ড (৫২ দশমিক ৮৮ সেকেন্ড) ভাঙেন।
দিনের চতুর্থ রেকর্ডটি রাফি গড়েছেন ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে। গত বছর নিজের গড়া রেকর্ড ভাঙতে তিনি সময় নেন ২ মিনিট ১০ দশমিক ৪৬ সেকেন্ড। চলতি আসরে মোট ছয় ইভেন্টে রেকর্ড গড়ে সেরা হলেন তিনি।
দুই বছর থাইল্যান্ডে স্কলারশিপ নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ পাওয়া রাফি নিজের টাইমিং নিয়ে খুশি। তবে ইলেক্ট্রনিক টাইমিং না থাকায় হতাশ তিনি।
“ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড দিয়ে যে শুধু সঠিক সময় নির্ণয় করা হয়, এমনটি নয়; বাহিরের দেশে এখন আর কেউ হ্যান্ড টাইম গ্রহণ করে না। ইলেকট্রনিক টাইম গ্রহণযোগ্য সব জায়গায়। আমাদের অনেক স্কলারশিপ থাকে। আমি নিজেও স্কলারশিপের মধ্যে আছি। কিন্তু আমাদের টাইমিং ইলেকট্রনিক না হওয়ার কারণে আমাদের স্কলারশিপের সেই সুযোগগুলো হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রোমানা আক্তার ২০০ মিটার ইন্ডিভিজ্যুয়াল মিডলেতে ২ মিনিট ৮ দশমিক ৯২ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০১৯ সালে জুনাইনা আক্তারের (২ মিনিট ৯ দশমিক ৯৯ সেকেন্ড) রেকর্ড ভেঙেছেন। ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে তিনি গত বছর নিজের গড়া রেকর্ড এবার নতুন করে গড়েছেন ২ মিনিট ৪৯ দশমিক ৭৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে।
২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে যুথী আক্তার নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন। নৌবাহিনীর এই সাঁতারু ২০২২ সালে নিজের গড়া রেকর্ডই এবার ভেঙেছেন ২ মিনিট ৪০ দশমিক ৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে।
দ্বিতীয় দিন শেষে পদক তালিকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২০টি সোনা, ১৩টি রুপা ও ৭টি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে শীর্ষে আছে। সেনাবাহিনী ৫টি সোনা, ১১টি রুপা ও ১৭টি ব্রোঞ্জ নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে।
