লাগেজকাণ্ডে ‘প্রয়োজনে’ মেয়েদের ক্ষতিপূরণ দেবে বাফুফে

বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ এই আশ্বাস দিয়েছেন।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 02:22 PM
Updated : 22 Sept 2022, 02:22 PM

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়ে দেশে ফেরার পর বিশ্রী এক অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। কয়েকজন খেলোয়াড়ের লাগেজের তালা ভেঙে অর্থ ও জিনিসপত্র চুরি যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে চলছে তদন্ত। হারানো সম্পদ পাওয়া না গেলে মেয়েদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথা বললেন বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ।

গত সোমবার কাঠমান্ডুতে স্বাগতিক নেপালকে ফাইনালে ৩-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। শিরোপা নিয়ে সাবিনা-কৃষ্ণারা দেশে ফেরেন বুধবার দুপুরে। উষ্ণ অভ্যর্থনায় তাদের স্বাগত জানানো হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ট্রফি নিয়ে হয় বিজয়যাত্রা।

এই আনন্দযাত্রার পরই সামনে আসে লাগেজ-কাণ্ড। বাফুফে ভবনে পৌঁছে লাগেজ নেওয়ার পর অর্থসহ অনেক জিনিস চুরি যাওয়ার অভিযোগ করেন কয়েকজন খেলোয়াড়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যা নিয়ে চলে তোলপাড়।

সঙ্গে সঙ্গে সিভিল এভিয়েশন ও বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিষয়টি জানানো হয় বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন কিরণ। পরে এদিনই বিকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায় তাদের তদন্তে এমন কিছুর ‘সত্যতা মেলেনি।’

তাদের দাবি, সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবন্ধ অবস্থায় লাগেজগুলো বুঝে নিয়েছিলেন বাফুফে প্রতিনিধি। এ বিষয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়েই লাগেজগুলো বাফুফেতে আনা হয়েছিল বলে জানান কিরণ। সংস্থাটির সিসিটিভি ফুটেজেও এখনও কিছু পাওয়া যায়নি।

“বাফুফের সিসিটিভি ফুটেজও চেক করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা এয়ারপোর্ট থেকে লাগেজগুলো আনার পর পুলিশ পাহারায় ছিল। লাগেজের যে কাভার্ড ভ্যান তার পেছনে আমাদের বাফুফেরও দুটি গাড়ি ছিল। ওখানে যতরকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা যায়, সেটা করেই কিন্তু আমরা বাফুফে ভবনে এনেছি। বাফুফে ভবনে যেখানে রাখা ছিল সেখানে সিসিটিভি আছে। সেখানে এরকম কিছু পাইনি।”

পুলিশের শরণাপন্নও হয়েছে বাফুফে। এরই মধ্যে বিমানবন্দর ও মতিঝিল থানায় জিডি করার কথাও বলেছেন কিরণ।

“কৃষ্ণা রানি সরকার, তার ছিল ৯০০ ডলার। শামসুন্নাহার সিনিয়র, তার ছিল ৪০০ ডলার। আমরা যখনই জানতে পারলাম টাকাগুলো তারা পাচ্ছে না, তাদের ব্যাগের তালা খোলা ছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকেও জানানো হয়েছে, সিভিল এভিয়েশনকেও জানানো হয়েছে। বিমানবন্দর ও মতিঝিল থানাতেও জিডির জন্য লোক পাঠিয়ে দিয়েছি।”

শেষ পর্যন্ত তদন্তে কিছু পাওয়া না গেলে মেয়েদের খোয়ানো সম্পদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেন কিরণ।

“ওরা বাচ্চা মেয়ে। ওদের জন্য এটা অনেক টাকা। এটা না পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক