Published : 31 Jul 2026, 06:13 PM
বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারত্ব বিক্রির যে পরিকল্পনা করেছে ফিফা, সেটার অনুমোদন পাওয়ার সকল দুয়ার যেন একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উয়েফা ও কনক্যাকাফের পর, এবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) ফিফার ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
এএফসি এক বিবৃতিতে শুক্রবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা দুটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত।
বিবৃতিতে এশিয়ান ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা আরও লিখেছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা “বাস্তবায়নের জন্য যে বৃহত্তর পরিসরে ঐক্যমত এবং (সব সংস্থার মধ্যে) যে ঐক্যের প্রয়োজন, তা পাবে না।”
বিতর্কিত বিষয়টি একদম হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার সামনে আনে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ইভেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়ক সংস্থা তৈরি করা হবে এবং বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট কার্যক্রম’ তত্ত্বাবধানের জন্য ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে সহায়ক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। নতুন এই এন্টারপ্রাইজের নিয়ন্ত্রণ অবশ্য নিজেদের কাছেই রাখবে সংস্থাটি। তবে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের জন্য বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে এতে কিছু শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হবে।
ফিফার এই ঘোষণা সামনে আসার পরপরই এর তীব্র বিরোধিতা করে উয়েফা। তখনই সরাসরি তারা জানিয়ে দেয়, “ফুটবলের আত্মা ও শাসনব্যবস্থা কোনো কেনাবেচার সম্পদ নয়-বিশেষ করে যখন আর্থিকভাবে কারা লাভবান হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। আমরা কেউই ফুটবলের মালিক নই। এটা ফিফার বিক্রি করার বিষয় নয়।”
এএফসিও একইভাবে ফিফার বিশ্বকাপসহ অন্যান্য ইভেন্টের স্বত্ব বিক্রির ভাবনার তীব্র সমালোচনা করেছে।
“ফিফা বিশ্বকাপ হলো বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ চূড়া এবং এর শক্তি আসে অংশগ্রহণকারী সকল কনফেডারেশন এবং বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল জাতি থেকে।
“যদি কোনো প্রস্তাব প্রতিযোগিতাটির সর্বজনীন বৈশিষ্ট্য ও একতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়, তাহলে সেটা নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।”
এএফসির এই বার্তার অর্থ হলো- ইনফান্তিনোর প্রস্তাব ভোটাভুটির জন্য উঠলেও সেটা সম্ভবত ফিফায় পাস হবে না।
এই পরিকল্পনায় সামনে এগিয়ে যেতে ইনফান্তিনো ইঙ্গিত করেছিলেন, ভোটের ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। তার মানে, ২১১ সদস্যের মধ্যে ১০৬টির পক্ষে থাকতে হবে।
ইউরোপের ৫৫টি দেশের ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা উয়েফা, ৩৫টি ফুটবল রাষ্ট্রের নিয়ন্তা সংস্থা কনক্যাকাফ ও ৪৬টি ফুটবল জাতির নিয়ন্তা সংস্থা এএফসি বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায়, ফিফার ওই প্রস্তাবের পক্ষে ১০৬টি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা একরকম শেষই বলা যায়। অন্তত বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটাই ইঙ্গিত করছে।
এমন বিশেষ একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করার আগে সব অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা না করায় ফিফার কড়া সমালোচনাও করেছে এএফসি।
“ফিফার কোনো বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার মৌলিকত্বেই যে দুর্বলতা রয়েছে, এখানে সেটাই ফুটে উঠেছে, এবং এখন সময় হয়েছে এ বিষয়ে কাজ করার।”
এই পরিকল্পনা নেওয়ার বিষয়ে “ফিফা যেভাবে সকল কনফেডারেশন, সদস্য দেশের সংস্থা এবং এমনকি ফিফা কাউন্সিলসহ ফিফার নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদকে দূরে রেখেছে”, এটারও তীব্র সমালোচনা করেছে এএফসি।
“ফিফা বিশ্বকাপ এবং খেলাটি পুরো বিশ্বের ফুটবল পরিবারের।”
এদিকে, উয়েফার একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে ফিফা সভাপতির সাম্প্রতিক পরিকল্পনাকে ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান’ করা হয়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ফিফা যদি তাদের প্রস্তাব পুরোপুরি বাতিল না করে, তাহলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব ধরনের টুর্নামেন্ট বর্জন করবে উয়েফা।
“আজকের আলোচনার ফলস্বরূপ, যতদিন এই প্রস্তাবগুলো কার্যকর থাকবে, ততদিন উয়েফার কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না, যদি না এই প্রস্তাবটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয় এবং এই মর্মে বাধ্যতামূলক আশ্বাস দেওয়া হয় যে, ফিফা আর কখনও তার পরিচালনা পর্ষদ বা প্রতিযোগিতাগুলোকে বেসরকারি মালিকানার জন্য উন্মুক্ত করবে না।
“কারও মনে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়: উয়েফা এবং এর জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলো চূড়ান্ত দৃঢ়তার সাথে এই পরিকল্পনাগুলোর বিরোধিতা করবে।”
তবে ফিফা শুক্রবার জানায়, তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তারা এই প্রস্তাবনা নিয়ে তাদের আলোচনা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। ফিফা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, “কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। এটি এমন কিছু নয়, যা ফিফা কখনো বিবেচনা করবে।”