লিভারপুলের আক্রমণের তোড়ে ভেসে গেল লিডস

প্রথম মিনিট থেকে একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলল লিভারপুল। ২০ মিনিটের মধ্যে তিনবার জালে বল পাঠিয়ে নিল নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে আসলেও ঘুরে দাঁড়ানোর পথ পায়নি লিডস ইউনাইটেড। দুর্দান্ত জয়ে শিরোপা লড়াই আরও জমিয়ে তুলল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Feb 2022, 09:41 PM
Updated : 23 Feb 2022, 10:36 PM

অ্যানফিল্ডে বুধবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ৬-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল। মোহামেদ সালাহর সফল দুই স্পট কিকের মাঝে একটি গোল করেন জোয়েল মাতিপ। শেষ দিকে গিয়ে দুটি গোল করেন সাদিও মানে। আর একেবারে শেষমুহূর্তে স্কোরলাইনে নাম লেখান ভার্জিল ফন ডাইক।

দারুণ এই জয়ে শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান ৩ পয়েন্টে নামিয়ে আনলেন সালাহ-মানেরা।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত লিভারপুল। তবে বাঁধ সাধে দুর্ভাগ্য। ডি-বক্সে দুই জনের বাধা এড়িয়ে লুইস দিয়াসের কোনাকুনি শট সামনে তারই সতীর্থ মানের শরীরে লাগে।

দুই মিনিট পর আলিসনের ভুলে বিপদে পড়তে যাচ্ছিল লিভারপুল। সতীর্থের ব্যাকপাস ধরে শট নিতে গিয়ে পিছলে যান ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। জায়গামতোই ছিলেন লিডস ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল জেমস। কিন্তু তিনি পারেননি বল নিয়ন্ত্রণে নিতে।

চাপ ধরে রেখে পঞ্চদশ মিনিটে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন সালাহ। ডি-বক্সে সফরকারীদের ডিফেন্ডার স্টুয়ার্ট ডালাসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টিটি পায় লিভারপুল।

৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মাতিপ। ডান দিক থেকে সালাহর পাস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় ডান পায়ের উঁচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ক্যামেরুনের এই সেন্টার-ব্যাক।

পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয় লিভারপুল। ডি-বক্সে মানে ফাউলের শিকার হলে আবারও পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। নিখুঁত স্পট কিকে আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা সালাহ নিজের ১৯তম গোলটি করেন।

প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে আরও দুটি দারুণ সুযোগ নষ্ট হয় লিভারপুলের। ফাবিনিয়োর কাছ থেকে প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। খানিক পর সালাহর শট গোললাইন থেকে ফেরান ডিফেন্ডার জুনিয়র ফিরপো।

প্রথম ৬৩ মিনিটে একচেটিয়া আক্রমণ করে লিভারপুল গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১৬টি শট নেয়, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। ঘর সামলাতে ব্যস্ত লিডস পরের মিনিটে গিয়ে প্রথম শট নিতে পারে। তাতে প্রতিপক্ষকে যদিও ভাবাতে পারেনি তারা।

৮০তম মিনিটে ডান দিক থেকে জর্ডান হেন্ডারসনের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে জোরাল শটে ব্যবধান আরও বাড়ান মানে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সেনেগাল এই ফরোয়ার্ড।

আর যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে হেডে লিডসের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ডাচ ডিফেন্ডার ফন ডাইক।

এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে গোল উৎসব করে পেপ গুয়ার্দিওলার দলকে শক্ত একটা বার্তাও যেন দিল লিভারপুল, শিরোপা লড়াইয়ে ভালোমতোই আছে তারা।

২৬ ম্যাচে ১৮ জয় ও ৬ ড্রয়ে লিভারপুলের পয়েন্ট হলো ৬০। শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৬৩।

এক ম্যাচ কম খেলা চেলসি ৫০ পয়েন্ট নিয়ে আছে তৃতীয় স্থানে। ২৬ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক