ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে জার্মান সুপার কাপ বায়ার্নের

জোড়া গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়া বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ঘুরে দাঁড়ালো দারুণভাবে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ট্রেবল জয়ীদের আটকাতে পারেনি তারা। শেষ দিকে ব্যবধান গড়ে দিলেন জসুয়া কিমিচ। জার্মান সুপার কাপ জয়ের উল্লাসে মাতল বায়ার্ন মিউনিখ।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Sept 2020, 08:30 PM
Updated : 30 Sept 2020, 09:35 PM

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার রাতে ঘরোয়া ফুটবলে মৌসুমের প্রথম শিরোপা লড়াইয়ে ৩-২ গোলে জিতেছে হান্স ফ্লিকের দল। তোলিসোর গোলে বায়ার্ন এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন টমাস মুলার। বিরতির আগে ও পরে ডর্টমুন্ডের গোল দুটি করেন ইউলিয়ান ব্রান্ডট ও আর্লিং হলান্ড।

গত মৌসুম উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বুন্ডেসলিগা ও জার্মান কাপ জেতা বায়ার্ন এবার ছয় দিনের ব্যবধানে দুটি শিরোপা ঘরে তুলল। গত বৃহস্পতিবার সেভিয়াকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিল তারা।

ম্যাচের অষ্টাদশ মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো পাসে নিচু শট নেন তোলিসো, বল গোলরক্ষকের পা হয়ে ক্রসবারে লেগে গোললাইনে ড্রপ খেয়ে ফেরত আসছিল। ছুটে গিয়ে ফিরতি টোকায় জালে পাঠান ফরাসি এই মিডফিল্ডার।

৩২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুলার। বাঁ দিক থেকে আলফোনসো ডেভিসের ক্রসে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন জার্মান এই ফরোয়ার্ড।

সাত মিনিট পর ব্যবধান কমায় ডর্টমুন্ড। হলান্ডের পাস ডি-বক্সের মুখে ধরে সামনে এগিয়ে জোরালো উঁচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জার্মান ফরোয়ার্ড ব্রান্ডট।

দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে সমতা টেনে লড়াই জমিয়ে তোলেন হলান্ড। টমাস দেলেনির রক্ষণচেরা পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান নরওয়ের তরুণ ফরোয়ার্ড।

খানিক পর এগিয়েও যেতে পারতো ডর্টমুন্ড। তবে ডি-বক্সে বিপজ্জনক জায়গা থেকে হলান্ডের নেওয়া শট রুখে দেন গোলরক্ষক নয়ার।

৮২তম মিনিটে অসাধারণ নৈপুণ্যে জয়সূচক গোলটি করেন কিমিচ। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে লেভানদোভস্কিকে বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। ফিরতি পাস ধরে শট নিতে গিয়ে পড়ে যান কিমিচ, ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। পড়ে থাকা অবস্থাতেই পেছন থেকে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন জার্মান মিডফিল্ডার।

বুন্ডেসলিগায় শালকেকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে মৌসুম শুরুর পর সেভিয়াকে হারিয়ে ওই সুপার কাপ জয়। টানা ২৩ জয় ও ৩২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর গত রোববার হঠাৎ যেন পথ হারিয়ে ফেলে বায়ার্ন; লিগে হফেনহাইমের মাঠে হেরে বসে ৪-১ গোলে। তবে, ঘুরে দাঁড়াতে একটুও সময় নিল না তারা। দারুণ এক জয়ে সাফল্যের মুকুটে যোগ করল আরেকটি পালক।

দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচ দিয়েই ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের প্রথম নারী রেফারি বিবিয়ানা স্টাইনহাউস। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ফিফার রেফারি প্যানেলে যোগ হয়েছিল তার নাম। আর তিন বছর আগে বুন্ডেসলিগায় অভিষেক হয়েছিল বিবিয়ানার। সুদীর্ঘ পথচলায় ৪১ বছর বয়সে বিদায় জানালেন তিনি।