ক্লান্ত ফেলপস

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পুলে ঝড় তুলে চলেছেন মাইকেল ফেলপস। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে গড়ে যাচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। সাফল্যে মোড়া এই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে ক্লান্তির কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই সাঁতারু।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 August 2016, 04:17 PM
Updated : 15 August 2016, 03:05 PM

রিও দে জেনেইরো অলিম্পিকের ষষ্ঠ দিনে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে সোনা জিতে অনন্য এক রেকর্ড গড়েন ফেলপস। অলিম্পিক ইতিহাসে সাঁতারের এক ইভেন্টে টানা চারটি সোনা জেতা একমাত্র সাঁতারু হয়ে গেছেন তিনি।

২০০ মিটার মেডলি জেতার পর শারীরিক সমস্যার বিষয় উল্লেখ করে ফেলপস বলেন, “অনেক ব্যথা করে …আমার শরীরে ব্যথা, আমার পায়ে ব্যথা, আমি ক্লান্ত।”

৩১ বছর বয়সী ফেলপসের রিও অলিম্পিকে দুটি ব্যক্তিগত ও দুটি দলীয় সোনা জেতা হয়ে গেছে। লন্ডনে গত অলিম্পিকেও চারটি সোনার পদক গলায় ঝুলিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০০৪ সালে এথেন্সে ৬টি আর বেইজিংয়ে আটটি সোনা জেতেন সর্বকালের সেরা এই অলিম্পিয়ান।

২০০০ সালে সিডনিতে অলিম্পিক অভিষেক হয় ফেলপসের। নিজের প্রথম অলিম্পিকে কোনো পদক জিততে পারেননি তিনি। তবে এ পর্যন্ত অলিম্পিকে ২২টি সোনার পদক জিতে নেন ফেলপস। এর সঙ্গে ২টি রুপা ও ২টি ব্রোঞ্জ নিয়ে অলিম্পিকে ফেলপসের মোট পদকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬টি।

লন্ডনে গত অলিম্পিকে চারটি সোনা জয়ের পরও ফেলপস বলেছিলেন, তিনি প্রস্তুতি আর ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। নিজের সবচেয়ে প্রিয় ইভেন্ট ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে হেরে গিয়েছিলেন সেবার।

লন্ডন অলিম্পিকের পর অবসরে চলে গিয়েছিলেন ফেলপস। রিও অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার জন্য অবসর ভেঙে আবার পুলে ফেরেন। লন্ডনের অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দেওয়ার সংকল্প নিয়েই রিওতে পা রেখেছিলেন তিনি। সেই আশা পূরণ হওয়ায় বেশ খুশি ফেলপস।

“প্রতিযোগিতা জুড়ে আমার জন্য সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে যেভাবে চেয়েছিলাম সেই ধরনের ফিনিশই করে আসতে পারছি। আমি ফিরে আসতে পেরেছি এবং স্বপ্ন অনুযায়ী বিষয়গুলো শেষ করতে পেরেছি।”

রিওর দর্শকও ফেলপসকে যথেষ্ট সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে। তার ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি সাঁতারের সময় গ্যালারিতে 'ফেলপস সর্বকালের সেরা অলিম্পিয়ান' লেখা একটা ব্যানারও দেখা যায়।

দর্শকদের ভালোবাসায় মুগ্ধ ফেলপস পদক নিতে পোডিয়ামে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় আনন্দাশ্রুতে চোখ ভিজে যায় তার।

এর পর স্যালুটের বিনিময়ে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন। ফেলপসের সোনালি এই সাফল্য উদযাপন করতে দর্শক সারিতে তখন শিশুপুত্র বুমারকে নিয়ে বসে ছিলেন তার প্রেমিকা নিকোলে।

তবে ব্যস্ততা ফেলপসকে তখন তার প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর ফুসরত দেয়নি। আবেগ সামলে আর ব্যথা ভুলে একটু পরই আবার তাকে পুলে নামতে হয়; ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ের সেমি-ফাইনালে। শনিবারের ফাইনালে থেকে আরেকটি সোনা আসতে পারে জীবন্ত এই কিংবদন্তির।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক