১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চতুর্থ বিশ্বকাপেও ‘সেই ছোট্ট ছেলের মতো’ অনুভব করছেন সন

দক্ষিণ কোরিয়া অধিনায়কের মতে, বিশ্ব মঞ্চে খেলার অনুভূতি কখনো বদলায় না।

চতুর্থ বিশ্বকাপেও ‘সেই ছোট্ট ছেলের মতো’ অনুভব করছেন সন
দক্ষিণ কোরিয়ার জার্সিতে অধিনায়ক সন হিউং-মিন। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jun 2026, 03:06 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:22 PM

প্রথমবার বিশ্ব মঞ্চে খেলার যে রোমাঞ্চ-উত্তেজনা, সেটা কি পরে আবারও খেললে পাওয়া যায়? সন হিউং-মিন বললেন, বিশ্বকাপে একাধিকবার খেললেও অনুভূতি সব সময় একই থাকে। চতুর্থবার খেলার অপেক্ষায় থাকা দক্ষিণ কোরিয়ান অধিনায়ক যেমন এবারও ‘সেই ছোট্ট ছেলের মতোই’ অনুভব করছেন।

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এশিয়ার দলটির সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সন। আগামী মাসে ৩৪তম জন্মদিনের কেক কাটবেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড তার, ১৪৪টি। দেশের হয়ে সিনিয়র ফুটবলে গোল করেছেন তিনি ৫৬টি, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

গত এক দশক ধরে দক্ষিণ কোরিয়া দলের প্রধান চালিকাশক্তি সন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। বিশ্ব মঞ্চে ১১ ম্যাচ খেলে গোল করেন তিনটি, অ্যাসিস্ট একটি।

ইউরোপের ফুটবলে দীর্ঘ দিন আলো ছড়ানো সন এখন খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলস এফসিতে। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থকরা। তার পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করছে দলটির ভাগ্য। 

আগামী শুক্রবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সন আবারও বিশ্বকাপে খেলতে পারার অনুভূতি তুলে ধরেন। 

“বিশ্বকাপের আঙিনায় ফিরতে পেরে আমি খুবই খুশি, যার স্বপ্ন ছোটবেলা থেকে দেখছিলাম। এটা আমার প্রথম বিশ্বকাপ হোক কিংবা চতুর্থ, এবারও সেই ছোট্ট ছেলেটির মতোই অনুভব করছি। এটা স্বপ্নের মঞ্চ।”

“এই অনুভূতি এক শব্দে প্রকাশ করার মতো নয়। এটা প্রথম, চতুর্থ নাকি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, সেটা কথা নয়; বিশ্বকাপে খেলার সময় আমাদের মানসিকতা সবসময় একই থাকা উচিত। আমার মনে হয়, কাতার বিশ্বকাপে আমরা অনেক শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছি, তবে হার ও ব্যর্থতার মুখোমুখিও হয়েছি। সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সেগুলোই আমাদের বড় শিক্ষা। অবশ্যই, এখন আমরা কিছুটা পরিণত ও অভিজ্ঞ। দলে কিছু পরিবর্তন এসেছে, তবে বিশ্ব মঞ্চে খেলার জন্য মানসিকতা আগের মতোই আছে।”

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা সনদের একদমই ভালো নয়। গত তিনটি আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পায়নি তারা। আর এ কারণে প্রতিবারই টুর্নামেন্টের শুরুতেই কঠিন অবস্থায় পড়তে হয়েছে তাদের।

২০১৪ এবং ২০১৮ আসরে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ। আর ২০২২ সালে তারা শেষ ষোলোতে উঠতে পেরেছিল পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় ২-১ গোলের জয়ে। ৯১ মিনিটে সনের অ্যাসিস্ট থেকেই এসেছিল জয়সূচক গোলটি।

প্রথম ম্যাচের এই ব্যর্থতার রেকর্ড নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না সন। আপাতত ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা না করে, বর্তমানে মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।

“প্রথম ম্যাচের গুরুত্বের কথা বললে, আমি আসলে ভবিষ্যতের কথা ভাবি না। আমার কাছে আজকের দিনটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার নিজেকে উন্নতি করতে হবে। আজকে আমি অনুশীলনে মনোযোগ দেব। আগামীকাল, সেদিনের কথা চিন্তা করব। আগামীকাল আমরা আমাদের সেরাটা দেব।”

“গ্রুপ পর্বে আমাদের তিনটি ম্যাচ আছে। আর প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জীবন বাজি রেখে খেলে নিজেদের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।”

‘এ’ গ্রুপ দক্ষিণ কোরিয়ার অন্য দুই প্রতিপক্ষ মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।