Published : 29 Aug 2026, 07:52 PM
ঘরের মাঠে দুইবার পিছিয়ে পড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল লিভারপুল। নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে স্বস্তির একটি পয়েন্ট পেল তারা।
অ্যানফিল্ডে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
দান এনদোয়ের গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লিভারপুল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তারা দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেয়। আলেকসান্দার ইসাক সমতা টানার পর, মর্গ্যান গিবস-হোয়াইটের গোলে ফের এগিয়ে যায় যায় ফরেস্ট। স্বরণীয় জয়ের আশাও জাগায় তারা। কিন্তু শেষ দিকে ভিক্তর মুনোসের গোলে একটি পয়েন্ট পায় লিভারপুল।
গত সপ্তাহে আসরে যাত্রা শুরুর ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষেও অনেকটা একইভাবে দুইবার পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করেছিল লিভারপুল।
শুরু থেকে অনেকটা সময় পর্যন্ত বল দখলে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। তবে পরে তাতে অনেকটা এগিয়ে যায় লিভারপুল। পুরো ম্যাচের হিসেবে তারা প্রায় ৭০ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৩টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। ফরেস্টের ১২ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
লিভারপুলকে এদিনও শুরুতে ঠিক ছন্দে দেখা যায়নি। একাদশ মিনিটে গোলও খেতে বসে তারা; গোলমুখে ইগর জেসুসের টোকা দারুণ নৈপুণ্যে পা বাড়িয়ে কর্নারের বিনিময়ে আটকান সেন্টার-ব্যাক জেরেমি জেকে।
আট মিনিট পর ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে সতীর্থের ক্রস পেয়ে কোনাকুনি হেড করেন দান এনদোয়ে, কিন্তু বলটা লক্ষ্যে থাকেনি।
আক্রমণাত্মক ফুটবলে চাপ ধরে রেখে ২৪তম মিনিটে ঠিকই এগিয়ে যায় ফরেস্ট। রক্ষণের দুর্বলতায় নিজেদের ডি-বক্সের মুখে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে পারেনি লিভারপুল, আর দুই সতীর্থের পা হয়ে একদম ফাঁকায় বল পেয়ে কোনাকুনি শটে আলিসনকে পরাস্ত করেন সুইস ফরোয়ার্ড এনদোয়ে।
পিছিয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মধ্যে একবার বল জালে পাঠায় লিভারপুল, কিন্তু গোল মেলেনি। ফ্রিমপংয়ের পাস পেয়ে জায়গা বানিয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস, তবে অফসাইডে ছিলেন ফ্রিমপং, ভিএআরের সাহায্যে তাই গোল দেননি রেফারি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও পিছিয়ে পড়তে পারতো লিভারপুল। তবে আলিসনের দৃঢ়তা আর সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় লড়াইয়ে থাকে দলটি। ১২ গজ দূর থেকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুসের শট আটকে দেন গোলরক্ষক, বল তার দুই হাত হয়ে ক্রসবারে বাধা পায়।
বিরতির আগে একটা সুযোগ হারানো মুনোস ৪৯তম মিনিটে আবার হতাশ করেন। কোডি হাকপোর ক্রস ভালো পজিশনে লাফিয়ে হেড করেন তরুণ উইঙ্গার, কিন্তু আবারও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
৬০তম মিনিটে অবশেষে সমতায় ফিরতে পারে লিভারপুল। ভিয়েৎসের পাস দারুণ নৈপুণ্যে দুইজনের মধ্যে দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূরের পোস্টে বল বাড়ান হাকপো, আর বিনা বাধায় জালে বল পাঠান ইসাক।
ফরেস্টের বিপক্ষে এই নিয়ে ছয় ম্যাচে সাতটি গোল করলেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড।
স্বাগতিকদের সেই স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আট মিনিট পর ডি-বক্সে আলিসন বাঁ দিকে ছুটে গিয়ে নেকো উইলিয়ামসকে ফাউল করেন এবং পেনাল্টি দেন রেফারি। দারুণ স্পট কিকে আবার ফরেস্টকে এগিয়ে নেন মর্গ্যান গিবস-হোয়াইট।
প্রিমিয়ার লিগে এই নিয়ে সবশেষ ১০টি পেনাল্টি পেয়ে সবগুলোতেই গোল করল ফরেস্ট। স্পট কিকে সবশেষ তারা ব্যর্থ হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল, ব্রাইটনের বিপক্ষে (ব্রেনান জনসন)।
কয়েকবার ব্যর্থ হওয়ার পর কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় ৮২তম মিনিটে জালের দেখা পান মুনোস। ডি-বক্সে ২৩ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড জোরাল শট নেন, প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়।
চার মিনিট পর জয়সূচক গোল পাওয়ার খুব কাছে যায় লিভারপুল। কিন্তু দমিনিক সোবোসলাইয়ের দারুণ ফ্রি কিক দূরের পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে চলে যায়। পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
দুই ম্যাচে দুই ড্রয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ১০ নম্বরে আছে লিভারপুল। হারে আসর শুরুর পর প্রথম পয়েন্ট পেয়ে ১২ নম্বরে আছে ফরেস্ট।