Published : 09 Sep 2026, 03:38 AM
তৃতীয় মিনিটেই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে হানা দিল ইন্টার মিলান, খানিক পর আবার। এমন আশানুরূপ শুরুর মাঝেই বিপর্যয় ডেকে আনল দলটি। তাও একবার নয়, দুইবার! দ্বিতীয়ার্ধে দুই পাশেই উঠল আক্রমণের ঝড়। ব্যবধান কমিয়ে লড়াই জমিয়ে তুলল ইতালিয়ান দলটি, তবে এড়াতে পারল না হার। দারুণ জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিযান শুরু করল রেয়াল মাদ্রিদ।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে মঙ্গলবার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-১ গোলে জিতেছে জুজে মরিনিয়োর দল। কিলিয়ান এমবাপে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান ফেদে ভালভের্দে। ইন্টারের একমাত্র গোলদাতা কার্লোস আউগুস্তো।
তিন দিন আগে লা লিগায় রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় কিছুটা হলেও বেকায়দায় ছিল রেয়াল। এখানেও শুরুতে কিছুটা চাপেই পড়ে তারা; তবে ইন্টারের বারবার ভুলে সেই চাপ আলগা হয়ে যায়।
তবুও, দুই গোল হজমের পরও ইন্টার যেভাবে একের পর এক আক্রমণ শাণিয়েছে, তাতে শেষ বাঁশির আগে লড়াইয়ের উত্তাপ কমেনি একটুও।
বল দখলে রাখা কিংবা আক্রমণ, দুই জায়গাতেই এগিয়ে ছিল ইন্টার। ৬০ শতাংশের বেশি সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ২১ শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। তিবো কোর্তোয়ার দারুণ সব সেভ দলটিকে দ্বিতীয় গোল পেতে দেয়নি।
শুরুতে মারাত্মক এক ভুলের পর, পোস্টে দারুণ পারফর্ম করেছেন ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেসও। তাইতো, রেয়াল তাদের ১৬ শটের আটটি লক্ষ্যে রেখেও আর গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচ শুরু হতেই রেয়ালের ডি-বক্সে ভীড়ি ছড়ায় সেরি আয় গত তিন মৌসুমে দুইবারের শিরোপাজয়ীরা। ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে মার্কাস থুরামের জোরাল ভলি আটকে দলকে বিপদে পড়তে দেননি কোর্তোয়া।
একাদশ মিনিটে আবারও পরীক্ষার মুখে পড়েন রেয়াল গোলরক্ষক। ডি-বক্সের বাইরে থেকে লাউতারো মার্তিনেসের শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন কোর্তোয়া।
এরপরই প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় রেয়াল। চতুর্দশ মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সের সামনে পজেশন হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা এবং দ্রুত ডি-বক্সে থ্রু বল বাড়ান ব্রাহিম দিয়াস, আর ছুটে গিয়ে প্রথম ছোঁয়ার শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এমবাপে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটা তার ৭১তম গোল। প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় স্প্যানিশ গ্রেট রাউল গন্সালেসের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে আছেন এমবাপে।
দুই মিনিট পর আরেকটি ভালো সেভ করেন কোর্তোয়া। হাকান কালহানোগ্লুর জোরাল শট ঠেকিয়ে বিপদ হতে দেননি বেলজিয়ান গোলরক্ষক। এর কিছুক্ষণ পর আরও বড় ভুল করে বসে ইন্টার গোলরক্ষক এবং তারা পিছিয়ে পড়ে দুই গোলের ব্যবধানে।
২৩তম মিনিটে কাছ থেকে সতীর্থের ব্যাকপাস পান জোসেপ মার্তিনেস এবং ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো হুমকিই ছিল না তাদের। ঠিকঠাক বল পায়েও নেন এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক, এরপরই চোখের পলকে ঘটে যায় অঘটন; খুব দ্রুত ছুটে আসেন ভালভের্দে, মুহূর্তের জন্য যেন হতবিহ্বল হয়ে পড়েন মার্তিনেস, তার পায়ে থাকা বলই টোকা দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন রেয়াল মিডফিল্ডার।
চার মিনিট পর ব্যবধান বাড়তে পারতো আরও। গতিময় আক্রমণে ভিনিসিউস ও দিয়াসের পা ঘুরে বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে, তবে তার শট নেওয়ার আগমুহূর্তে দারুণ ট্যাকলে বিপদ বাড়তে দেননি ডিফেন্ডার ইয়ান বিসেক।
বিরতির ঠিক আগে মুহূর্তের ব্যবধানে একাধিক সুবর্ণ সুযোগ হারায় রেয়াল। একাধিক ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে গোলমুখ থেকে শট নেন এমবাপে এবং সেটা কোনোমতে পা দিয়ে আটকান মার্তিনেস, আলগা বলে ছুটে গিয়ে জুড বেলিংহ্যামের নেওয়া শটও রুখে দেন গোলরক্ষক। ইন্টারের বিপদ তখনও কাটেনি, বল চলে যায় দূরের পোস্টে, কিন্তু সেখানেও সফল হতে পারেননি দিয়াস।
বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু হতেই আবার আক্রমণ শাণায় রেয়াল। দারুণ ক্ষিপ্রতায় বিপজ্জনক পজিশনে চলে যান এমবাপে, কিন্তু শট নিতে মুহূর্ত বিলম্ব করেন তিনি। পরে শট নিলেও তা দৃঢ়তায় আটকে দেন গোলরক্ষক মার্তিনেস।
৫৬তম মিনিটে দারুণ দুটি সেভ করেন কোর্তোয়া, যদিও পরক্ষণেই ওঠে অফসাইডের পতাকা। এরপরই অবিশ্বাস্য এক সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন মার্তিনেস।
ডি-বক্সে অসাধারণ নৈপুণ্যে দুইজনকে কাটিয়ে বাইলাইনের কাছ থেকে দূরের পোস্টে বল বাড়ান দিয়াস। বল বুক দিয়ে নামিয়ে শট নেন বেলিংহ্যাম, দিয়াসকে আটকাতে আগেই সেদিকে এগিয়ে যাওয়া মার্তিনেস দ্রুত ছুটে এসে পা দিয়ে কোনোমতে সেটা আকটান। ফিরতি বল ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড করেন ডামফ্রিস।
পরের কয়েক মিনিটে দুই পাশেই দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি হয় এবং গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে স্কোরলাইনে পরিবর্তন আসেনি।
৬৪তম মিনিটে আলেস্সান্দ্রো বাস্তোনির জোরাল শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন কোর্তোয়া। দুই মিনিট পর মাঝমাঠে আবার পজেশন হারায় ইন্টার এবং দ্রুত ওঠা পাল্টা আক্রমণে শট নেন এমবাপে, যা রুখে দেন মার্তিনেস।
৬৮তম মিনিটে দারুণ পাসিং ফুটবলে আবার ভীতি ছড়ায় রেয়াল। বেলিংহ্যাম থেকে ভিনিসিউস, তার থেকে এমবাপে পাস পেয়ে ডি-বক্সে ডান দিকে খুঁজে নেন দিয়াসকে; তিনি একজনকে কাটিয়ে জায়গা বানালেও শটটা লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
অনেক সুযোগ নষ্টের পর, ৭৭তম মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় ইন্টার। বিসেকের পাস ডি-বক্সে পেয়ে ডান দিকের বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন লাউতারো মার্তিনেস, আর প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শটে ব্যবধান কমান আউগুস্তো।
নির্ধারিত সময় শেষের আগের মিনিটে আবারও গোল পাওয়ার কাছাকাছি যায় ইন্টার। মিখিতারিয়ানের জোরাল শটে বল একজনের পায়ে লেগে সামান্য দিক পাল্টে লক্ষ্যেই ছুটছিল, দারুণ নৈপুণ্যে সেটা আটকে দলকে জয়ের পথে রাখেন কোর্তোয়া।
গত শনিবার সেরি আয় নাপোলির বিপক্ষে দুই গোল খেয়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় ইন্টার। এবারও দারুণ পারফর্ম করলেও প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারল না তারা। পেল মৌসুমে প্রথম হারের তেতো স্বাদ।