ঘুরে দাঁড়িয়ে ৯ জনের ব্রেন্টফোর্ডকে হারাল লিভারপুল
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বিধ্বস্ত হওয়ার পর টানা দুই ম্যাচ জিতল অ্যানফিল্ডের ক্লাবটি।
প্রথমে এগিয়ে যাওয়ার পর একজনকে হারানোর ধাক্কা খেল ব্রেন্টফোর্ড। প্রতিপক্ষের সেই দুর্বলতার সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগাল লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল অ্যানফিল্ডের দলটি।
ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে লিভারপুল।
কিন লুইস-পটারের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, সফরকারীদের সমতায় ফেরান ভিক্তর মুনিয়োস। আর ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন আলেকসান্দের ইসাক।
শেষ দিকে স্বাগতিকদের আরও একজনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। শেষ পর্যন্ত ৯ জনের দল নিয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ব্রেন্টফোর্ড।
সাত ম্যাচে তিনটি করে জয় ও ড্রয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে পঞ্চম স্থানে আছে লিভারপুল। শতভাগ জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি।
প্রিমিয়ার লিগে আগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় লিভারপুল। এরপর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতল আন্দোনি ইরাওলার দল। গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অস্ট্রিয়ান ক্লাব এলএএসকে-কে ৬-৩ গোলে হারায় তারা।
এদিন ম্যাচের শুরুতে আধিপত্য করে লিভারপুল। একের পরে এক আক্রমণে ব্রেন্টফোর্ডকে চেপে ধরে তারা। ২০তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পান বাহডলে বাহকোলা। প্রতি আক্রমণে ব্রেন্টফোর্ডের গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান তিনি। আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল পাঠাতে গিয়ে বাইরে মারেন এলএএসকে-এর বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা ফরাসি ফরোয়ার্ড।
এরপর আক্রমণে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে ব্রেন্টফোর্ড। দারুণ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে তারা। এর মাঝেই ৪২তম মিনিটে ব্রেন্টফোর্ডের ডি-বক্সে আলেক্সিস মাক আলিস্তের ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পরে ভিএআরের সহায়তায় রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদল করেন তিনি।
৪৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় ব্রেন্টফোর্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ক্রস বাড়ান ইগর থিয়াগো। ছুটে গিয়ে দারুণ হেডে বল জালে পাঠান কিন লুইস-পটার। চলতি মৌসুমে ইংলিশ লেফট-ব্যাকের এটি দ্বিতীয় গোল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বড় ধাক্কা খায় ব্রেন্টফোর্ড। লিভারপুল ফ্রি কিক নেওয়ার আগে ডি-বক্সে জেহেমি জ্যাকের মাথায় মাথা দিয়ে ধাক্কা দেন ইয়েহর ইয়ামুলিউক। পরে ভিএআর মনিটরে দেখে ব্রেন্টফোর্ড মিডফিল্ডারকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
বিরতির পর গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে লিভারপুল। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ৫৮তম মিনিটে অল্পের জন্য গোল পাননি মাক আলিস্তের। বক্সের বাইরে থেকে তার বুলেট গতির শট কোনোমতে আটকে দেন ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষক।
তিন মিনিট পর সমতা টানেন মুনিয়োস। ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ওসাসুনা থেকে গত জুলাইয়ে যোগ দেওয়া মুনিয়োসের লিভারপুলের জার্সিতে এটি দ্বিতীয় গোল।
১০ জনের ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে এগিয়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি লিভারপুলের। ৭০তম মিনিটে সতীর্থের ক্রস বক্সে পেয়ে হেডে ইসাককে খুঁজে নেন বাহকোলা। দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড।
ঊরুর চোটের কারণে আগের দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি ইসাক। ফিরেই গোলের দেখা পেলেন তিনি। মৌসুম এটি তার পঞ্চম গোল।
দুই মিনিট পর সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন থিয়াগো। বাইলাইন থেকে সতীর্থের পাস গোলমুখে পান তিনি। দরকার ছিল সামান্য ছোঁয়ার, সেটাই করতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
কিছুক্ষণ পর দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় বাহকোলার। বক্সের মধ্য থেকে তার শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফেরে। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে লিভারপুল, কিন্তু সেগুলোকে গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হয় দলটি।
ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্বিতীয় ফুটবলার হারায় ব্রেন্টফোর্ড। ডি বক্সের সামান্য বাইরে লিভারপুলের রিও নুগোমোহাকে পেছন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন ভিটালি ইয়ানেল্ট। জার্মান মিডফিল্ডারকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখাতে দেরি করেননি রেফারি।
