১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সুপারস্টার: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

স্কোয়াডে তারকা ও পরীক্ষিত খেলোয়াড়ের কমতি নেই, তবুও বিশ্ব মঞ্চে বাজিমাত করতে রোনালদোকে স্বরূপে পাওয়াটা পর্তুগালের খুব দরকার।

২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সুপারস্টার: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ছবি: ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jun 2026, 06:15 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:17 PM

যার স্তুতিতে নতুন কোনো শব্দ খুঁজে পাওয়া মুশকিল, প্রাপ্তির ভাণ্ডার যার ঠাসা, সেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারেও আছে বড় এক অপূর্ণতা; কখনও যে পাননি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। লিসবনের সবুজে যার ঝলমলে শুরু, ম্যানচেস্টারের আঙিনায় যার বিশ্বসেরা হয়ে ওঠা, মাদ্রিদে রেকর্ড আর পরিসংখ্যানের পাতায় সব উল্টে-পাল্টে দেওয়া এই মহাতারকা বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখনও ছুটছেন, আলো ছড়াচ্ছেন সৌদির ফুটবলে।

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। 

গোলের ক্ষুধা তার আছে আগের মতোই, ছুটছেন হাজার গোলের পানে। অবিশ্বাস্য এই যাত্রায় জীবনের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতাটা কি আসছে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে পূরণ করতে পারবেন রোনালদো?

ফুটবলে রোনালদোর অর্জন ও দক্ষতা

সময়ের সঙ্গে উন্নতির ধারা ধরে রাখা এবং নতুন নতুন ঠিকানায় নিজেকে চটজলদি মানিয়ে নেওয়া রোনালদোর ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। আর এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো- ফুটবলের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং জীবনের সব ধ্যান-জ্ঞান খেলাটিকে ঘিরেই।

ফ্রি কিক ও ড্রিবলিংয়ে অসাধারণ দক্ষতা, শূন্যে দারুণ কার্যকারিতা, ওয়ান-অন-ওয়ানে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা- এই সবকিছুর মাঝে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে যে গুণ রোনালদোকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে, সেটা হলো তার গতি। পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চোখের পলকে পেছনে ফেলতে পারতেন তিনি। 

দূলপাল্লার শটে ফুটবল বিশ্বের সেরাদের মধ্যে একজন তিনি, সেই সঙ্গে ফ্রি কিকে স্কোরিংয়ের সামর্থ্য এবং হেডে বল জালে জড়ানোর পরিসংখ্যান তাকে করে তুলেছে সত্যিকারের এক গোলমেশিন। ৪১ বছর বয়সের ভারে তার সব শক্তিতেই কিছুটা ভাটা পড়েছে; তবে গোলের ক্ষুধা আছে সেই আগের মতোই।

১৭ বছর বয়সে স্পোর্তিংয়ের জার্সিতে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় এবং ওই দলের হয়েই প্রথম শিরোপা স্বাদ পান রোনালদো। পরের বছর ২০০৩ সালে পাড়ি জমান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এবং ভুড়ি ভুড়ি সাফল্য তার ভাণ্ডারে যোগ হতে থাকে।

ইউনাইটেডের হয়ে টানা তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ৯টি ট্রফি জিতে ২০০৯ সালে তিনি পাড়ি জমান রেয়াল মাদ্রিদে এবং ইউরোপের সফলতম ক্লাবটির হয়েই মহাতারকা হয়ে ওঠেন রোনালদো।

মাদ্রিদের দলটির হয়ে মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন পাঁচবার, মোট ৪৩৮ ম্যাচে করেন ৪৫০ গোল। সেই থেকে রেয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই। দলটির হয়ে টানা তিনবার সহ মোট চারবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং সব মিলিয়ে ১৫টি শিরোপা জিতে বিদায় নেন রোনালদো। 

২০১৮ সালে ইউভেন্তুসে যোগ দেন রোনালদো। সেরি আর ক্লাবটিতে ‘রেয়ালের রোনালদো’ হয়ে উঠতে পারেননি ঠিকই, পারেননি আর কখনোই, তবে গোল তিনি বরাবরই করেছেন। ইউভেন্তুসে তো দুটি সেরি আসহ মোট পাঁচটি ট্রফিও জিতেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।

জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। এছাড়া দুইবার উয়েফা নেশন্স লিগের ট্রফিও উঁচিয়ে ধরেছেন তিনি। এখন চাওয়াটা কেবল স্বপ্নের সোনালী ট্রফির। 

গ্রেটদের চোখে রোনালদো

“ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর যে (দুর্দান্ত) ক্যারিয়ার এবং যেভাবে তিনি খেলে চলেছেন, এজন্য তাকে আমি অনেক সম্মান করি, কারণ তিনি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাচ্ছেন। তিনি দারুণ সব গুণের অধিকারী এক ফেনোমেনন। বিশ্বের সবাই জানে এবং এ কারণেই তিনি বিশ্বের সেরাদের একজন।”

-    লিওনেল মেসি

“সে অসাধারণ এক খেলোয়াড় ছিল, সে ছিল সবার সেরা। আমাদের দলে তখন দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় ছিল (পল) স্কোলস, (রায়ান) গিগস ও (এরিক) কাঁতোয়াঁ। আমাদের চমৎকার কিছু ফুটবলার ছিল, কিন্তু রোনালদোর যেন ভিন্ন কিছু।”

-    অ্যালেক্স ফার্গুসন

কে ২০০৯, এই তিন বছরে রোনালদো এমন মানদণ্ড তৈরি করেছে, যা আপনি কেবল কল্পনাই করতে পারেন। ওয়েইন রুনি ও কার্লোস তেভেজের সঙ্গে যখন সে খেলত, সেটা ছিল যেন জাদুকরী এক সময়। তাদের খেলা দেখাটাই ছিল দারুণ ব্যাপার এবং সে তখন ছিল ফর্মের চূড়ায়।”

-    গ্যারি নেভিল

“ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অভিষেক হয়েছিল মৌসুম শুরুর ম্যাচে বোল্টনের বিপক্ষে বদলি হিসেবে, নিঃসন্দেহে আমার দেখা সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিষেক। সেই সময় পর্যন্ত বছরের পর বছরে খুব কম খেলোয়াড়কে নতুন জর্জ তকমা দেওয়া হয়েছিল; তবে সেবারই প্রথম কাউকে ওই নামে ডাকাটা আমার জন্য সম্মানের ছিল।”

-    জর্জ বেস্ট

-    

“আমাকে অনেকবার তার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং সে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সত্যিই সে পরিপূর্ণ খেলোয়াড়। সে জানে কীভাবে গোল করতে হয়, ফ্রি কিক ও পেনাল্টি নিতে হয়। সে সবকিছু করতে পারে।”

-    জেরার্দ পিকে

“ফুটবল বিশ্বের সে দুই ভি গ্রহের খেলোয়াড়ের একজন।”  

- লরা ব্লাঁ

“সে (রোনালদো) এমন কিছু করে, যা অন্য খেলোয়াড়কে আমি করতে দেখিনি, আর এটা দেখা চমৎকার ব্যাপার। খুব কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং লক্ষ্য পূরণ করতে একজন গ্রেট খেলোয়াড়ই করতে পারে; কিন্তু সে এই কাজটা বারবার করেছে।”

-    ববি চার্লটন

“তার বুটজোড়ায় জাদু আছে। তার প্রথম যে দিকটা নজরে আসবে সেটা হলো তার অবিশ্বাস্য গতি এবং এমন তরুণ বয়সেও সে খুবই শক্তিশালী। তার টেকনিক দুর্দান্ত। সে বিশ্বাস করে যে, বল পায়ে সে যা যেকোনো করতে পারে, আর এই বিশ্বাসই তাকে স্পেশাল করে তুলেছে।”

-    ইউসেবিও

“রোনালদো আপনার দলে থাকলে, (ম্যাচ শুরু না হতেই) আপনি ১-০ এ এগিয়ে।”

-    জিনেদিন জিদান

রোনালদোর জীবনের অন্য ধরনের গল্প 

পর্তুগালের পশ্চিম উপকূলের দ্বীপ মাদেইরার শহর ফুশালে জন্ম রোনালদোরর। ছোট্টবেলাতেই পরিবারকে সাহায্য করতে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করতেন তিনি। 

ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে শুরুর দিনগুলোয় দুই পায়ে ভারি বস্তু বেঁধে অনুশীলন করতেন রোনালদো, যা তাকে ম্যাচে পারফর্ম করতে সাহায্য করত। তিনি দ্রুত এই দক্ষতার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং এটাকে বলা হতো ‘রোনালদো চপ।’

ফুটবলের বাইরে টেবিল টেনিসেও ঝোঁক ছিল রোনালদোর। তার সাবেক ইউনাইটেড সতীর্থ পাত্রিক এভরা একবার বলেছিলেন যে, রিও ফার্ডিনান্ডের বিপক্ষে (টেবিল টেনিসে) হেরে যাওয়ার পর, এই খেলায় উন্নতিতে মনোযোগ দেন। দুই সপ্তাহ অনুশীলনের পর ফার্ডিনান্ডকে চ্যালেঞ্জ জানান রোনালদো এবং ম্যাচটি জিতেও যান।

২০১৯ সালে ইউভেন্তুসের জার্সিতে সাম্পদোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আলেক্স সান্দ্রোর ক্রসে ২.৫৬ মিটার উচ্চতায় হেড করতে ৭১ সেন্টিমিটার লাফিয়ে ওঠেন রোনালদো, এবং সফলভাবে হেড করে দলকে ২-১ গোলে জেতান তিনি। তার কোচ মাওরিসিও সাররি পরে বলেছিলেন, লাফিয়ে হাওয়ায় রোনালদো যেন ‘অনন্তকাল’ ছিল।

পরিসংখ্যানও রোনালদোর গ্রেটনেসের সাক্ষী

•    পুরুষ আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও ম্যাচ খেলার রেকর্ড রোনালদোর। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২২৬ ম্যাচে ১৪৩টি গোল করেছেন তিনি।

•    ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে জালে বল পাঠিয়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন রোনালদো। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে তার ২২ ম্যাচের চেয়ে বেশি খেলেছেন কেবল চার জন।

•    উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বাধিক গোল করা ও ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর; ১৪ গোল করেছেন ও ৩০ ম্যাচ খেলেছেন। আর তার আটটি অ্যাসিস্ট কারেল পোবোর্স্কি যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

২০১৬ ইউরোয় পর্তুগালের প্রথম শিরোপা জয়ে পাঁচটি গোলে অবদান রাখেন তিনি।

•    সব মিলিয়ে ১০টি মেজর টুর্নামেন্টে গোল করেছেন রোনালদো; অন্য কেউ ছয়টির বেশি টুর্নামেন্টে গোল করতে পারেননি।

•    উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করা ও ম্যাচ খেলার রেকর্ডেরও মালিক রোনালদো। প্রতিযোগিতাটিতে ১৪০ গোল তার, দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিওনেল মেসির চেয়ে ১১টি বেশি।

আর তার ১৮৩ ম্যাচ এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকের কাসিয়াসের চেয়ে ছয়টি বেশি।

•    ২০১৩-১৪ মৌসুমে রেয়াল মাদ্রিদের দশম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের কাণ্ডারি ছিলেন রোনালদো, ১৭ গোল করে। এই প্রতিযোগিতায় রেকর্ড সাতবার দুই সংখ্যার গোল করেছেন তিনি।

•    ২০১৪ থেকে ২০১৮ এর মধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে রেয়াল মাদ্রিদ। এই সময়ে নকআউট পর্বে ৩৪টি গোল করেন রোনালদো, অন্য যে কারো চেয়ে ২১টি বেশি।

•    ২০২৫ সালের অগাস্টে আল নাস্‌রের হয়ে শততম গোল করে, প্রথম ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে অন্তত গোলের সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন রোনালদো। 

রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার গোল ক্লাব রেকর্ড ৪৫০টি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১৪৫টি ও ইউভেন্তুসের তিন ১০১টি।

•    টুর্নামেন্টের ফাইনালে তার গোল ২৫টি।

•    ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ‘দি বেস্ট ফিফা মেন’স প্লেয়ার’ পুরস্কার জয় করেন রোনালদো। বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার তিনি মোট পাঁচবার পেয়েছেন। 

•    ২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতি বছর অন্তত একটি করে হলেও হ্যাটট্রিক করেছেন রোনালদো। ২০১১ সালে করেছিলেন ১১ বার!

•    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পোর্তোর বিপক্ষে দূরপাল্লার একটি দর্শনীয় গোলের জন্য ২০০৯ সালে ফিফার প্রথমবার দেওয়া পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন রোনালদো।

বিশ্বকাপে বারবার অচেনা রোনালদো

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ২০০৬ সালের জার্মানি আসর দিয়ে যাত্রা শুরু রোনালদোর। ওই আসরে ইরানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পান তিনি। পরে কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকার রোনালদোর শট জালে জড়ালে সেমি-ফাইনালে পা রাখে পর্তুগাল। যদিও চতুর্থ হয়ে সেই যাত্রা শেষ হয় তাদের, ৪০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে যা তাদের সেরা সাফল্য।

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা আসরে তার কাঁধে চাপে বাড়তি চাপ, অধিনায়কের দায়িত্ব। সেবার একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করতে পারেন তিনি। কিন্তু শেষ ষোলোর বাধা উতরাতে পারেনি পর্তুগাল। পরের আসরেও একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করতে পারেন তিনি, দল বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। 

ফর্মের তুঙ্গে থেকে ২০১৮ বিশ্বকাপে পা রাখেন রোনালদো। প্রথম ম্যাচের শেষ দিকে স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি এবং ম্যাচটি ৩-৩ ড্র করে তারা। পরের ম্যাচে তার একমাত্র গোলেই মরক্কোকে হারায় পর্তুগিজরা। কিন্তু আরও একবার শেষ ষোলোয় আটকে যায় দলটির পথচলা।

দারুণ শক্তিশালী দল নিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপে আসে পর্তুগাল। রোনালদো ছাড়াও যে দলে ছিল আরও অনেক কার্যকর ফুটবলার। প্রথম ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে এক ঘণ্টার মাথায় সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েন রোনালদো। কিন্তু কোয়ার্টার-ফাইনালে আসরের চমক মরক্কোর বিপক্ষে হেরে যায় তারা।

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে রোনালদো ও পর্তুগালের প্রত্যাশা

আরও একবার দেশের মানুষকে স্বপ্নের সোনালী ট্রফিটি উপহার দেওয়ার অভিযানে নামবেন সুপারস্টার রোনালদোর, যাদের ডাগআউটে থাকবেন রবের্তো মার্তিনেস।

গতবারের মতোই এবারের পর্তুগাল দলও দারুণ শক্তিশালী, ভারসাম্যপূর্ণ। মাঠের সব পজিশনেই তাদের আছে দিয়োগো কস্তা, ব্রুনো ফের্নান্দেস, রাফায়েল লেয়াও, বের্নার্দো সিলভার মতো তারকা ও পরিক্ষীত খেলোয়াড়। 

তবে পর্তুগালের স্বপ্ন সত্যি করতে এদের সবার মাঝে রোনালদোর আপনরূপে জ্বলে ওঠাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বাছাইয়ের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ পেরিয়ে আসা একটি দলের বিপক্ষে আগামী ১৭ জুন ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে পর্তুগালের। ‘কে’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।