১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কোমোর ঐতিহাসিক জয় নিয়ে কথা হবে ‘১০ বছর পরও’

চমকপ্রদ পথচলায় এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকে স্বপ্নের মতো জয়ের পর উচ্ছ্বসিত কোমোর কোচ সেস্ক ফাব্রেগ্রাস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 03:08 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

কোমো এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলছে, ক্লাবের প্রায় ১২০ বছরের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা। তবে তারা যে স্রেফ অংশ নিতেই আসেনি, সেই বার্তা জানিয়ে রাখল প্রথম ম্যাচেই। ইউরোপের শীর্ষ আসরে অভিষেক রাঙাল তারা স্বপ্নের মতো জয়ে। এই ম্যাচের পর রোমাঞ্চিত কোচ সেস্ক ফাব্রেগাস বললেন, এই জয়ের আবেদন রয়ে যাবে অনেক দিন।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বৃহস্পতিবার জার্মান ক্লাব লাইপজিগকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো ১৯০৭।

ক্লাবের জন্ম সাল খোদাই হয়ে আছে নামের সঙ্গেই। যুগ যুগ ধরে ইতালিয়ান ফুটবলের নিচু স্তরেই খেলে গেছে তারা। তবে ২০১৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার ধনকূবের দুই ভাই রবার্ট বুডি হার্টোনো ও মাইকেল ব্যামব্যাং হার্টোনোর প্রতিষ্ঠান ‘জারুম’ এই ক্লাব কি নেওয়ার পর নতুন বিনিয়োগে ক্লাবটির ভাগ্য বদলাতে থাকে। 

একসময় দেউলিয়া হয়ে পড়া ক্লাবটি ফুটবলে ফিরে দ্রুত বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে উঠে আসে সেরি আ-তে। শীর্ষ ধাপে প্রথম মৌসুমেই দশম হয়ে চমকে দেয় তারা। সেই চমককে ছাপিয়ে যায় তারা গত মৌসুমে। এসি মিলান, ইউভেন্তুসের মতো ক্লাবগুলিকে পেছনে ফেলে চতুর্থ হয়ে জায়গা করে নেয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে।

ক্লাবের এই ছুটে চলায় ওতপ্রোতভাবে মিশে আছেন ফাব্রেগ্রাস। স্পেনের হয়ে একটি বিশ্বকাপ ও দুটি ইউরোজয়ী তারকা আর্সেনাল, বার্সেলোনা, চেলসি ও মোনাকোয় খেলে ক্লাব ক্যারিয়ার শেষ করেন কোমোতে ২০২২-২৩ মৌসুমে। পরে এই ক্লাবেই শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার। ক্লাবের যুব দল, ‘বি’ দল হয়ে ২০২৪ সালে চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নেন প্রধান কোচের।

কোমো ও ফাব্রেগাসের স্বপ্নময় পথচলায় গৌরবের নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকে বড় জয়ে। উপলক্ষ্য আরও রঙিন হয়ে উঠেছে জয়টি ঘরের মাঠে এসেছে বলে। 

মাত্র ১২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে তারা খেলতে পারবে কি না, এই সংশয় ছিল। সেরি আ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ আয়োজনের যেসব শর্ত আছে, সেসবের অনেকগুলোই ছিল না এই মাঠে। তার পরও সময়ের সঙ্গে লড়াই করে কোনোরকমে ঠিকঠাক করে ম্যাচটি তারা আয়োজন করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত জাঁকজমক আয়োজনেই খেলতে নামে। সংস্কারের কারণে ১২ হাজারের জায়গায় ১০ হাজার দর্শক জায়গা পান মাঠে। তবে মাঠের ফুটবলে দারুণ জয়ে উৎসব ছড়িয়ে পড়ে মাঠ থেকে শহরময়।

সেই রোমাঞ্চ আর তৃপ্তি ম্যাচের পর ফুটে উঠল ফাবেগ্রাসের কণ্ঠে। 

“এই ক্লাব এবং সমর্থকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সন্ধ্যা এটি, যা নিয়ে তারা ১০ বছর পরেও কথা বলবে। এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। আমি আশা করি সমর্থকরাও আমাদের মতোই এটি উপভোগ করেছেন।”

ম্যাচের ১৫তম মিনিটে কোমোকে এগিয়ে দেন মার্তিনা বাতুরিনা। কোমোর প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোলে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার। এই জয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও জোয়ারে না ভেসে তিনি জানিয়ে রাখলেন, আরও অনেক কিছু সামনে অপেক্ষায়।

“এই দল এবং শহরের জন্য দারুণ একটি রাত। অবশ্যই অনুভূতি খুব চমৎকার এখন। নিজের এবং পুরো দলের জন্য আমি সত্যিই গর্বিত এবং আমাদের এভাবেই চালিয়ে যেতে হবে, কারণ এটা কেবল শুরু। 

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কখন কী হয়, তা বলা যায় না। এখানে প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন খেলার ধরনের দলের বিপক্ষে খেলতে হয়। প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে আমাদের এবং যতটা সম্ভব এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”

এই মৌসুমে সেরি আ-তে শুরুটাও বেশ ভালো করেছে কোমো। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চারে আছে তারা।