Published : 02 Sep 2026, 01:17 PM
কিছুদিন আগেও গাব্রিয়েল জেসুসের ভাবনায় ছিল আর্সেনালের সেরা একাদশে আবার জায়গা পাকা করার লড়াই। এরপর যখন বার্সেলোনার আগ্রহের কথা জানতে পারলেন, তার ভেতরে রোমাঞ্চের তোলপাড় শুরু হলো। আলোচনা এগিয়ে গেল। স্বপ্নের ক্লাবে যোগ দিতে নিজের পারিশ্রমিকে বড় ছাড় দিলেন। অবশেষে পা রাখলেন কাঙ্ক্ষিত সেই আঙিনায়। এখন মাঠের লড়াই শুরু করতে তর সইছে না ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের।
খুব বেশি পূর্বাভাস বা গুঞ্জনের ঝড় ছাড়াই অনেকটা নাটকীয়ভাবে আর্সেনাল থেকে বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছেন জেসুস। ‘সেল-অন’ ফিসহ দেড় কোটি ইউরো (১ কোটি সাড়ে ২৮ লাখ পাউন্ড) পর্যন্ত মূল্যের চুক্তিতে দুই ক্লাব সম্মত হওয়ার পর এই দলবদল হয়েছে।
কাতালান ক্লাবটিতে ২৯ বছর বয়সী তারকার চুক্তি তিন বছরের।
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পাওমেইরাস ছেড়ে ২০১৭ সালে ইউরোপে এসে পাঁচ বছর ম্যানচেস্টার সিটিতে ছিলেন জেসুস। চার বছর খেললেন আর্সেনালে। কিন্তু তার মনের কোণে ছিল বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন। নতুন ক্লাবে পরিচিতি অনুষ্ঠানে সেটিই তুলে ধরে তিনি বললেন, মনের ক্ষুধা মেটাতে আর্থিক ত্যাগ মেনে নিয়েছেন তিনি আনন্দেই।
“বেতনে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছি আমি, কিন্তু এখানে আসতে পারাটা স্বপ্নের মতো। তবে এই দলবদলটি সম্পন্ন করার জন্য শুধু আমাকেই চেষ্টা করতে হয়নি, বার্সাও তাদের ভূমিকা পালন করেছে।
যদি আমাকে এক মাস আগেও জিজ্ঞাসা করতেন, আমি বলতাম যে, এরকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই। এই ২৯ বছর বয়সে, ভাবতে পারিনি যে বার্সায় আসার সুযোগ পাব। বার্সেলোনার হয়ে খেলার সুযোগ এসেছে আমার, যে সুযোগটা আমি ১০ বছর আগেও পেয়েছিলাম (সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে) এবং এখন জীবন আমাকে সেই সুযোগটা আবার দিয়েছে।”
বার্সেলোনার মূল আগ্রহ ছিল হুলিয়ান আলভারেসকে ঘিরে। কিন্তু আতলেতিকো মাদ্রিদ তাকে না ছাড়তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিকল্প খুঁজতে হয় তাদের এবং শেষ মুহূর্তে জেসুসকে বেছে নেয়।
বার্সেলোনার আগ্রহের কথা এই স্ট্রাইকার জানতে পারেন মাত্র সপ্তাহখানেক আগে। আলভারেসকে না পেয়ে তাকে নিয়েছ ক্লাব, এই আলোচনাতেও কোনো সমস্যা নেই তার।
“এক সপ্তাহ আগে আমি একটি বার্তা পাই যে, এমনটা হতে পারে। যখন বুঝতে শুরু করলাম যে, এটা একটা বাস্তব সম্ভাবনা, খুবই রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েছিলাম। এখন অনুশীলন এবং খেলা শুরু করার জন্য আর তর সইছে না আমার।
(আলভারেসের বিকল্প হিসেবে এখানে আসায়) আমার মোটেও আপত্তি নেই। এটা আমাকে ভাবায় না। আমি যেটায় বিরক্ত হই, তা হলো, যদি লোকেরা আমাকে খারাপ মানুষ বলে, যা আমার জীবনে কখনও ঘটেনি — অথবা যদি আমি ফুটবল না খেলি, সেটা আমাকে ভাবায়।
২০২২ সালে সিটি থেকে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর দারুণ সূচনা করেছিলেন জেসুস। তবে পরে এক পর্যায়ে ভাটার টান পড়ে পারফরম্যান্সে এবং কোচের আস্থা হারান। গত বছর এসিএলের চোটের পড়ার পর সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা আসে তার ক্যারিয়ারে। লম্বা সময় তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়। তার ওপর কোচের ভরসা কমে যায় আরও।
চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পরও কোচের বিশ্বাস তিনি অর্জন করতে পারেননি। কাই হাভার্টজ ও ভিক্তর ইয়োকেরেশকেই বেশি প্রাধান্য দেন কোচ। বার্সেলোনায় যেতে পারাটা তাই তার জন্য এসেছে বড় স্বস্তি হয়ে।
অস্থিরতার অধ্যায় পেছনে ফেলে এখন বার্সেলোনার জার্সিতে জ্বলে উঠতে প্রস্তুত জেসুস।
“হাঁটুর ইনজুরির পর গত দুই বছর সত্যিই খুব জটিল ছিল। আমি প্রায় এক বছর খেলার বাইরে ছিলাম, কিন্তু সেটা এখন অতীত। আমি এখন শারীরিকভাবে ভালো আছি।
আমি ভালোভাবে সেরে উঠেছি, আর্সেনালের হয়ে মাঠে ফিরেছি এবং খেলতে ও নিজের সেরাটা দিতে শতভাগ প্রস্তুত।”
রবের্ত লেভানদোফস্কি এবং ফেররান তোরেসের বিদায়ে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণ করতেই আনা হয়েছে জেসুসকে। লামিন ইয়ামাল, হাফিনিয়া, অ্যান্থনি গর্ডন, কারিম আদেইয়েমির মতো উইঙ্গারদের মধ্যে ক্লাবের একমাত্র সহজাত ৯ নম্বর এখন তিনিই।