শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে ইউনাইটেডের নাটকীয় ড্র

শীর্ষ চারে থেকে লিগ শেষ করার আশা আরও ফিকে হয়ে গেল এরিক টেন হাগের দলের।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 March 2024, 10:12 PM
Updated : 30 March 2024, 10:12 PM

ম্যাচের পুরোটা সময় প্রতিপক্ষের চাপে নাজেহাল অবস্থা হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। অবশ্য দারুণ সব সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা আর দুর্ভাগ্যের কারণে নির্ধারিত সময়ে গোল পেল না ব্রেন্টফোর্ড। এরপরই নাটকীয় মোড়। ম্যাচ তখন শেষের অপেক্ষায়, সেই মুহূর্তে আচমকা এক আক্রমণে বল জালে পাঠিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগাল ইউনাইটেড। ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলা ব্রেন্টফোর্ড অবশ্য তা হতে দেয়নি। পরক্ষণেই পাল্টা গোল করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে তারা।

পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকের দল ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়েছে। ম্যাসন মাউন্ট ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা টানেন ক্রিস্টোফার আইয়ের।

বল দখলে ব্রেন্টফোর্ড সামান্য পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে আধিপত্য করে তারাই। গোলের উদ্দেশ্যে ৩১টি শট নেয় তারা, যেখানে ইউনাইটেড শট নেয় মোটে ১১টি। অবশ্য লক্ষ্যে দুই দলের প্রচেষ্টাই ছিল সমান পাঁচটি করে।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের নিচু শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর শুরু হয় ব্রেন্টফোর্ডের একের পর এক আক্রমণ। ২৪তম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারতো দলটি। সতীর্থের থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকেই শট নেন ইভান টনি; কিন্তু বল গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও পোস্টের বাধা এড়াতে পারেনি।

বিরতির আগে গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১৪টি শট নিয়ে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে ব্রেন্টফোর্ড, কিন্তু সাফল্য মেলেনি। ৩২তম মিনিটে দলটির ডিফেন্ডার মাটিয়াস ইয়োনসেনের হেডও ভাগ্যের ফেরে ক্রসবারে বাধা পায়।

প্রথমার্ধের পুরোটা সময় নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একবারের জন্যও তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পরপর দুই মিনিটে দুই দলই দারুণ দুটি সুযোগ পায়। ৫৪তম মিনিটে গাসমুস হয়লুনের শট ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষক মার্ক ফ্লেকেন ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান। অন্যপাশে, ইয়ারমোলিয়ুকের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা।

৭২তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে ইউনাইটেড। আন্তোনির বাঁকানো শটটা যদিও পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। এরপরই পাল্টা আক্রমণে উঠে জালে বল পাঠান টনি, তবে কিঞ্চিৎ ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন তিনি।

পাঁচ মিনিট পর আবারও ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় ইউনাইটেড। ডি-বক্সের মধ্যে থেকে মিডফিল্ডার ব্রায়ানের জোরাল শট লাগে ক্রসবারে।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গিয়ে খোলে ডেডলক। পুরোটা সময় দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থাকা ইউনাইটেড এগিয়ে যায় মাউন্টের গোলে। কাসেমিরোর পাস পেয়ে ডি-বক্সের মধ্যে থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন র‍্যাশফোর্ডের বদলি নামা এই মিডফিল্ডার।

তিন মিনিট পরই সমতা টানেন ক্রিস্টোফার আইয়ের। টনির পাস ধরে ডি-বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন নরওয়ের এই ডিফেন্ডার।

যোগ করা সময়ের খেলা চলে ১৩ মিনিট পর্যন্ত। তবে বাকি সময়ে আর কেউ কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

২৯ ম্যাচে ১৫ জয় ও তিন ড্রয়ে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে টটেনহ্যাম হটস্পার। আর ৩০ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে অ্যাস্টন ভিলা।

২৮ ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে লিভারপুল। তাদের চেয়ে ১ পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে ম্যানচেস্টার সিটি।

৩০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৫ নম্বরে ব্রেন্টফোর্ড।