১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষের অপেক্ষায় মাহরেজ, বিলম্বিত করতে চান সতীর্থরা

নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে চান আলজেরিয়ার এই অভিজ্ঞ উইঙ্গার।

শেষের অপেক্ষায় মাহরেজ, বিলম্বিত করতে চান সতীর্থরা
রিয়াদ মাহরেজ। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2026, 01:24 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:33 PM

‘ভাগ্য যদি তোমার প্রতি সুপ্রসন্ন হয়, তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার কর, যদি বিমুখ হয়, তাহলে ধৈর্য্য ধরো’- এই আরবি প্রবাদ মেনে এতটা পথ চলেছেন রিয়াদ মাহরেজ। ৩৫ বছর বয়সী এই আলজেরিয়ান উইঙ্গার এখন ক্যারিয়ারের শেষটা দেখতে পাচ্ছেন। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর, তার মনে হচ্ছে, নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে।

ভ্যানকুভারে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৯টায় উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও আলজেরিয়া। শেষের গান শুনতে শুনতে ম্যাচটি খেলতে নামবে মাহরেজও। 

বিশ্বকাপের আঙিনায় প্রথম তার পা পড়েছিল ২০১৪ সালে, ব্রাজিলের আসরে। আলজেরিয়ার জার্সিতে তার শুরুটাও ওই বছর থেকে। এরপর ১২টি বছর তিনি পার করে দিয়েছেন, ওই প্রবাদ মেনে। ব্রাজিল বিশ্বকাপের পরের দুই আসরে আলজেরিয়া বাছাই পেরুতে পারেনি, তখন মাহরেজ ধরেছেন ধৈর্য্য। মিলেছে ফলও। ২০২৬ সালে এসে তাই খেলতে পারছেন আরেকটি বিশ্বকাপ। তবে, এরই মধ্যে জল গড়িয়েছে অনেক। মাহরেজও শুনতে পাচ্ছেন বিদায়ের রাগিনী। 

“যখন শুরু করেছিলাম, বয়স ছিল ২৩, তরুণ ছিলাম। এখন বয়স ৩৫ এবং অনেকটা পথ এসেছি।”

মাঝের সময়ে অনেক কিছুই পেয়েছেন মাহরেজ। লা হাভরের যে তরুণ জাতীয় দলে এসেছিল ‘নিঃশব্দে’, ক্যারিয়ার জুড়ে থাকতে চেয়েছিল ‘পাদপ্রদীপের আড়ালে’, কিন্তু এর মধ্যেই সহজাত নেতা হয়ে উঠল সে। ক্লাব ক্যারিয়ারে লেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার সিটি এবং আল আহলির হয়ে ডজনখানেক শিরোপাও জিতে নিল। ২০১৯ সালে আলজেরিয়ার হয়ে পেল আফ্রিকার নেশন্স কাপ জয়ের স্বাদ।

জাতীয় দলের হয়ে অবশ্য মাঝে সময়টা ভালো যায়নি মাহরেজের। আলজেরিয়া বাছাই পেরুতে না পারায় দুটি বিশ্বকাপ তিনি পার করেন টিভিতে দেখে। তবে, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই উইঙ্গার আশা ছাড়েননি। স্বপ্ন দেখেছিলেন নতুন ইতিহাস লেখার। সে স্বপ্ন পূরণ হলো ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ৩-৩ ড্র ম্যাচে জোড়া গোল করেন মাহরেজ। আলজেরিয়াও উঠে আসে নকআউট পর্বে, ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো। ২০১৪ সালের আসরে দলটি খেলেছিল শেষ ষোলোয়। 

ওই ম্যাচে গোল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই নেমেছিলেন, ফিফার সাথে আলাপচারিতায় বলেছেন মাহরেজ, “যদিও গ্রুপ পর্ব পেরুনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু আমার মনে গোল করার আলাদা ব্যক্তিগত লক্ষ্যও ছিল।”  

অভিজ্ঞ এই তারকা ছিলেন না আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর একাদশে। ম্যাচটি আলজেরিয়া হেরেছিল ৩-০ গোলে। গ্রুপ পর্বের শুরুর ম্যাচের ওই ধাক্কা দেখিয়ে দিয়েছিল, ভ্লাদিমির পেতকোভিচের ছকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মাহরেজ।

গ্রুপে পরের দুই ম্যাচে শুরু থেকে খেললেন মাহরেজ। আফ্রিকার দলটি চার পয়েন্ট পেল। দুই গোল করার সুবাদে মাহরেজও জায়গা করে নিলেন ইতিহাসে। বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা সালাহ আসাদ (১৯৮২ বিশ্বকাপ), আব্দেলমৌমেনে জাবু (২০১৪ বিশ্বকাপ) ও ইসলাম স্লিমানির (২০১৪ বিশ্বকাপ) এখন সঙ্গী তিনি।

সুইসদের জালের দেখা পেলে মাজরেজ এই চূড়ায় উঠবেন এককভাবে। তবে, এমন হাতছানির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ভাবছেন অবসরের কথা! 

“১২ বছরের পরিশ্রম, ম্যাচ, ভ্রমণ, অনেক ত্যাগ স্বীকারের পর, এখন সময় হয়েছে, তরুণদের জন্য জায়গা করে দেওয়ার এবং সরে দাঁড়ানোর।

“কেবল নিজেদের জন্য নয়, আমাদের পরিবারের জন্য এবং দেশের জন্য আমরা যতদূর সম্ভব যেতে চাই। তবে, এই বিশ্বকাপে খেলা আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হয়ে থাকবে, ২০১৯ এর নেশন্স কাপ জয়ের মতো।”

অধিনায়কের বিদায়টা অবশ্য বিলম্বিত করতে উন্মুখ দলের সবাই। অনেকে সুইজারল্যান্ডকে সম্ভাব্য বিজয়ী ধরে নিলেও, মিডফিল্ডার হোসেম আওয়ার যেমন বললেন, ‘নকআউট পর্বের ম্যাচে যেকোনো কিছুই সম্ভব।” 

উইঙ্গার ফারেস ঘেজেমিসের কণ্ঠেও একই সুর, “সুইজারল্যান্ড ভালো দল, কিন্তু কেউই অজেয় নয়।”

ফুল ব্যাক জাওয়েন হাজামের স্বপ্ন আরও বড়। তিনি তো সর্বোচ্চ সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরতে চান।

“কেন বিশ্বাস করব না (আমরা জিততে পারি)?” যদি আমরা বিশ্বাসই না করি, এখন জিততে পারি, তাহলে কখনই জিততে পারব না। আমাদের কিছু হারানোর ভয় নেই। প্রথম ধাপ পেরিয়েছি এবং এখন ভয়ডরহীনভাবে খেলব। আমরা ফাইনালে পৌঁছুতে চাই এবং শিরোপা জিততে চাই।”

হাজামের এই স্বপ্ন যদি কোনোভাবে সত্যি হওয়ার পথে ছোটে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই মাহরেজের বিদায় বিলম্বিত হতে যাচ্ছে।