সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচ ঘিরে আলোচনায় ২০ বছর বয়সী মানজাম্বি
তরুণ এই ফরোয়ার্ডের দিকে গোলের দাবি নিয়ে তাকিয়ে থাকবে সুইজারল্যান্ড; অন্যদিকে কলম্বিয়া চাইবে তাকে বোতলবন্দি করে রাখতে।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত কলম্বিয়া গোল হজম করেছে মাত্র ১টি। দলটির রক্ষণের দৃঢ়তা ফুটে উঠছে এই পরিসংখ্যানে। কিন্তু তাদের সামনে অপেক্ষা করছে জোয়ান মানজাম্বি নামের এক পরীক্ষা! সুইজারল্যান্ডের এই তরুণ ফরোয়ার্ড যে ইতোমধ্যে উঠে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। গোল করে এবং করিয়ে, হয়ে উঠেছেন সুইসদের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা।
ভ্যানকুভারে বাংলাদেশ সময় ৮ জুলাই ২টায় (এএম) শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। এ ম্যাচ ঘিরে আলোচনায় মানজাম্বি। ২০ বছর বয়সী এই তরুণের দিকে গোলের দাবি নিয়ে তাকিয়ে থাকবে সুইজারল্যান্ড; কলম্বিয়া চাইবে তাকে বোতলবন্দি করে রাখতে।
কাতারের বিপক্ষে বদলি নেমে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ শুরু মানজাম্বির। দ্বিতীয় ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষেও তিনি শুরুতে ছিলেন বেঞ্চে। পরে বদলি নেমে সুইসদের ৪-১ ব্যবধানের জয়ে করেন জোড়া গোল। সব মিলিয়ে চলতি আসরে এই তরুণের নামের পাশে এখন পর্যন্ত গোল ৩টি, অ্যাসিস্ট ২টি। কোচ মুরাত ইয়াকিনের আক্রমণভাগে স্বাভাবিকভাবেই অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন মানজাম্বি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ২-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে, বাগাইল এম্বোলোর গোলে অবদান রাখেন মানজাম্বি। ওই ম্যাচের পর, এই তরুণ শিষ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন সুইস কোচ।
“প্রথম দিন থেকেই, সে ছিল বিশেষ একজন খেলোয়াড়, গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়…ম্যাচ বাই ম্যাচ সে উন্নতি করছে এবং প্রতিটি আক্রমণে সে খুবই ভয়ঙ্কর।”
অবশ্য, কেবল মানজাম্বিই নয়, সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগে আছে এম্বোলো, ড্যান এনডোইয়ো, রুবেন ভার্গাসরা। তারাও আছেন দারুণ ফর্মে। এই চার জন মিলে সুইসদের নয় গোলের ৮টিই করেছেন। এখন তারা আলজেরিয়াকে অনায়াসে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবেন কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলতে।
সুইজারল্যান্ডের মতো কলম্বিয়াও এখন পর্যন্ত অপরাজিত। তাদের আক্রমণভাগেও আছে গতি এবং সৃষ্টিশীলতার মিশেল। দলটির রক্ষণও সুশৃঙ্খল এবং প্রতিপক্ষকে খেলার সুযোগ খুবই কম দিতে চায় তারা। সুইস মিডফিল্ডার আরদন ইয়াশারির মনে হচ্ছে, আগ্রাসী ফুটবল খেলতে পারে কলম্বিয়া।
“আমার মনে হয়, নিশ্চিতভাবে ভিন্ন ঘরানার ফুটবল খেলতে পারে কলম্বিয়া। আবেগ নিয়ে খেলবে, কিন্তু তাদের খেলায় ভীষণ তীব্রতা এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব থাকবে। আমাদের এগুলোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কেননা, আমি মনে করি, সম্মিলিতভাবে খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হবে তারা।”
কলম্বিয়ার রক্ষণ দেয়ালে চিড় ধারানোর মূল চাবিকাঠি হতে পারেন মানজাম্বি। পাল্টা আক্রমণের ক্ষেত্রে এই তরুণ ফরোয়ার্ড সবসময়ই সতীর্থদের আস্থার জায়গাতে থাকেন। সবশেষ আলজেরিয়া ম্যাচে এম্বোলোকে দিয়ে গোল করিয়ে, সেই আস্থার জায়গা আরও পোক্ত করেছেন তিনি।
ভ্যানকুভারে পাল্টা আক্রমণের সময় মানজাম্বিকে স্বাধীনভাবে খেলার এবং তাকে বলের জোগান দেওয়ার চেষ্টা থাকবে সতীর্থদের। সুইস কোচও তার দিকে তাকিয়ে আছেন আগ্রহভরে।
“মাঠে অন্যান্য খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার পাশাপাশি, মানজাম্বি খুবই বিনয়ী ছেলে। চতুরতার সাথে সে কাজ করে এবং দল অন্তপ্রাণ। তাকে এভাবে দেখাটা দারুণ আনন্দের এবং অবশ্যই, সে যদি দলের জয়ে সাহায্য করতে পারে, তাহলে সেটা আরও বেশি আনন্দের।”
