Published : 21 Mar 2026, 03:11 PM
ঘটনা প্রায় একইরকম। কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্ত দুইরকম। একটিতে পেনাল্টি হলো, আরেকটিতে হলো না। এই ব্যাপারটিই বুঝে উঠতে পারছেন না মাইকেল ক্যারিক ও ব্রুনো ফের্নান্দেস। নাটকীয়ভাবে মাচ ড্র হওয়ার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ ও অধিনায়ক আঙুল তুলছেন রেফারির দিকে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শুক্রবার বোর্নমাউথের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে ম্যানচেস্টার ইউনাটেড।
ম্যাচের প্রথম ৬০ মিনিট ছিল মোটামুটি নিস্তরঙ্গ। পরের ২০ মিনিটে যেন ঝড় বয়ে যায় সবুজ আঙিনায়।
৬১তম মিনিটে ফের্নান্দেসের পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। বোর্নমাউথের ডিফেন্ডার আলেক্স জিমেনেস বক্সের ভেতর মাতেউস কুইয়ার শার্ট ধরে টান দেওয়ায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
একটু পরই ইউনাইটেডের আমাদ জিয়ালোকে বক্সের ভেতর ফেলে দেন বোর্নমাউথের ডিফেন্ডার এড্রিয়েন ট্রুফের। কিন্তু ভিএআর দেখে রেফারির সিদ্ধান্ত, ‘ফাউলের জন্য যথেষ্ট ছিল না ওই সংস্পর্শ।’ ইউনাইটেডের কোচ, ফুটবলাররা পেনাল্টির জন্য চিৎকার করলেও কাজ হয়নি। উল্টো পাল্টা আক্রমণে রায়ান ক্রিস্টির গোলে সমতায় ফেরে বোর্নমাউথ।
৭১তম মিনিটে জেমস হিলের আত্মঘাতী গোলে আবার এগিয়ে যায় ইউনাটেড। মিনিট দশেক পর বোর্নমাউথের এভানিলসনকে বক্সের ভেতর ধাক্কা মেরে লাল কার্ড দেখেন ইউনাইটেডের হ্যারি ম্যাগুইয়ার। সেই পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরায় বোর্নমাউথ।
বোর্নমাউথের কোচ আন্দোনি ইরাওলার মতে, জিয়ালোকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ফাউল হয়নি কোনোভাবেই। তবে ইউনাইটেড কোচ ক্যারিকের মতে, কুইয়া ও জিয়ালোর ঘটনা একইরকম ছিল।
“নিশ্চিতভাবে দুটো সিদ্ধান্তের মধ্যে একটিতে ভুল করেছেন তিনি (রেফারি), কারণ যে কারণে তিনি পেনাল্টি দেননি, ঠিক সেই একই কারণে তিনি আমাদের একটি পেনাল্টি দিয়েছেন। দুহাত দিয়ে ধরার ঘটনা ঘটেছে। মাতেউসের (কুইয়া) ক্ষেত্রে তিনি পেনাল্টি দেন, কিন্তু পরেরটিতে আমাদ জিয়ালোর ক্ষেত্রে পেনাল্টি দেননি। আমার মতে প্রায় একই রকম। যদি বক্সের মধ্যে কেউ দুই হাত দিয়ে ধরা থাকে এবং সে পড়ে যায় ও বলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে আমার মতে দুটি পেনাল্টি হওয়া উচিত।”
“তারা কোনটিকে ভুল বলে স্বীকার করে, তা দেখাটা হবে কৌতূহলের, যেটা আমরা পেয়েছি, নাকি যেটা আমরা পাইনি।”
ইউনাইটেড কোচের মতে, রেফারির ওই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
“এটা একটা বিরাট (গুরুত্বপূর্ণ) মুহূর্ত। তারা পেনাল্টিটা দিল না, তারা অন্য প্রান্তে গিয়ে গোল করল এবং তারপর হঠাৎ করেই পরিস্থিতি এমন হয়ে গেল যে, ‘ওহ, সিদ্ধান্তটা পাল্টানোর জন্য আরও বড় পেনাল্টি দরকার,’ শুধু গোল করার কারণে, যখন আসলে এটা একটা পেনাল্টি এবং আপনি যখন ইতিমধ্যেই একটি পেনাল্টি দিয়েছেন, তখন এটি একটি পেনাল্টিই হওয়া উচিত।"
"এই ব্যাপারটার কোনো মানে খুঁজে বের করা সত্যিই বিভ্রান্তিকর। ওরা ওই গোল করায় খেলার মোড় কিছুটা ঘুরে যায়। এত কিছুর পরেও আমরা ১০ জন নিয়ে খুব ভালোভাবে রক্ষণ করেছি। কিন্তু পেনাল্টিটা সত্যিই বিস্ময়কর, বলতেই হচ্ছে। দুটির মধ্যে একটিতে নিশ্চয়ই ভুল হয়েছে।”
কোচের সঙ্গে একমত ইউনাইটেড অধিনায়কও। তিনিও বলছেন, দুই সিদ্ধান্তের কোনো একটি অবশ্যই ভুল।
“একটা পেনাল্টি না পাওয়া এবং তারপর আমাদের বিপক্ষে একটা পেনাল্টি দেওয়া, যেখানে পরিস্থিতি আমাদের মতোই ছিল — একটা পেনাল্টি হলো, আরেকটা নয়…। আমি জানি, একই ম্যাচে একই দলকে দুটো পেনাল্টি দেওয়া রেফারির জন্য কঠিন, কিন্তু বুঝতে পারছি না কেন ভিএআর ওই পরিস্থিতিতে বা হ্যারির (ম্যাগুইয়ার) ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেনি, কারণ একটি পেনাল্টি হলে অন্যটাও পেনাল্টি, অথবা কোনোটিই নয়।
“আমাদ (জিয়ালো) শট নেওয়ার মতো একটা জায়গায় পৌঁছাচ্ছিল, তখনই তাকে ধাক্কা দেওয়া হয় — আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, কোনো একটা কিছু তাকে পুরোপুরি ভারসাম্যহীন করে দেয়। আমি মনে করি অন্য পরিস্থিতিটা পেনাল্টি ছিল, কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে আমাদের ওপর হওয়া ঘটনাটাও পেনাল্টি ছিল এবং সেটা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত।”
এই ড্রয়ের পরও ৩১ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তিনে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। ৩০ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট ম্যানচেস্টার সিটির।