১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দীর্ঘ খরা কাটানো গোলে রোনালদোর অনেক অর্জন

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সমতা ফেরানো গোলে রেকর্ডের অনেক পাতায় আঁচড় কেটেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কোথাও তিনিই চূড়ায়।

দীর্ঘ খরা কাটানো গোলে রোনালদোর অনেক অর্জন
গোল করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বাঁধভাঙা উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2026, 10:36 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:34 PM

অনেক অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জালের দেখা পেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সমতা ফেরানো গোলে রেকর্ডের অনেক পাতায় আঁচড় কেটেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা, কোথাও তিনিই চূড়ায়। 

শেষ বত্রিশের ম‍্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। এই ম‍্যাচের রোনালদোসহ অন‍্যদের অর্জনগুলো তুলে ধরা হলো-

সফল স্পট কিকে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপে ষষ্ঠ আসরে এসে নকআউট পর্বে পান নিজের প্রথম গোল।

মাঠে থাকা ৮১ মিনিটে ওই একবারই প্রতিপক্ষের পেনাল্টি স্পটে বল স্পর্শ করেন তিনি। 

৪১ বছর বয়সে প্রথম খেলোয়াড় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেললেন রোনালদো।

এই ম‍্যাচ দিয়ে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবার ৪০ ছোঁয়া দুই জন আউটফিল্ড ফুটবলার খেললেন। ক্রোয়েশিয়া দলে ছিলেন রোনালদোর এক সময়ের রেয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ লুকা মদ্রিচ। 

৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে গোল করলেন রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআউটে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের কীর্তি তার। 

১-৩

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটাই প্রথম লড়াই, যেখানে ২০ এর বেশি ম‍্যাচে তিনজন খেলোয়াড় অংশ নিলেন। রোনলদো খেলেছেন ২৬ ম‍্যাচ। ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক মদ্রিচ খেলেছেন ২৩ ম‍্যাচ আর তার সতীর্থ ইভান পেরিসিচ ২১টি। 

চলতি আসরে তিনটি গোল করেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপের কোনো আসরে যা তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৮ আসরে রাশিয়ায় তিনি করেছিলেন চার গোল। 

চলতি আসরে নকআউট পর্বে এ নিয়ে চতুর্থবার পিছিয়ে পড়া দল জিতল। ১৯৭০ থেকে এক আসরে যা সর্বোচ্চ। নকআউট পর্বে এমন জয় সবচেয়ে বেশি আছে ১৯৩৪ আসরে, ছয়টি।

১৯৬৬ আসরে উত্তর কোরিয়া ম‍্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে কোনো ম‍্যাচে পিছিয়ে পড়েও জিতল পর্তুগাল। 

৪ 

পেনাল্টি থেকে বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল করলেন রোনালদো। এ ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল হ‍্যারি কেইন, পাঁচটি।

ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের চারটি ভিন্ন আসরে গোল করলেন পেরিসিচ। ছয়টি আসরে গোল করেছেন রোনালদো, পাঁচটি আসরে লিওনেল মেসি। চারটা আসরে গোল করেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসা, উয়ি সিলার ও পেলে। 

৬ 

চলতি আসরে ম‍্যাচের যোগ সময়ে ষষ্ঠ ব‍্যবধান গড়ে দেওয়া গোল করলেন গসালো রামোস। যোগ করা সময়ে সবচেয়ে বেশি ম‍্যাচ জেতানো গোল হয়েছে ২০১৮ সালে, সাতটি।

১০ 

ভিএআরে বাতিল হয় ইয়োশকো ভার্দিওলের ‘গোল।’ চলতি আসরে এ নিয়ে ১০টি গোল বাতিল হলো ভিএআরের হস্তক্ষেপে। ২০২২ সালে হয়েছিল নয়টি। 

২৫

প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে অন্তত ২৫ গোল করলেন রোনালদো। 

৩০ বছর ৯৯ দিন

ক্রোয়েশিয়ার শুরুর একাদশের গড় বয়স ৩০ বছর ৯৯ দিন। গ্রুপ পর্বের বাইরের কোনো ম‍্যাচে ১৯৯৮ সাল থেকে যা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়সী শুরুর একাদশ। ১৯৯৮ আসরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম‍্যাচে ক্রোয়াটদের শুরুর একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ১২৬ দিন। 

৩৭ বছর ১৫০ দিন

ক্রোয়েশিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়সী গোলদাতা এখন পেরিসিচ (৩৭ বছর ১৫০ দিন)। তিনি ছাড়িয়ে গেলেন ইভিচা ওলিচকে (৩৪ বছর ২৭৭ দিন)।

৩৭

বিশ্বকাপে প্রতি ৩৭ মিনিটে কোনো গোল বা অ‍্যাসিস্ট করছেন রামোস। প্রতিযোগিতায় অন্তত পাঁচ গোলে অবদান রাখা যে কোনো পর্তুগিজের জন‍্য যা সেরা। প্রতি ১৬৩ মিনিটে গোল বা অ‍্যাসিস্ট করে সপ্তম স্থানে আছেন রোনালদো। 

৯৪

বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে এর চেয়ে দেরিতে কোনো ম‍্যাচে কেবল একটি গোল দিয়েছে পর্তুগাল। দ্বিতীয় স্থানে আছেন রামোস। ২০১৪ আসরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৯৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে গোল করে এখনও চূড়ায় সিলভেস্ত্রি ভ্যারেলা।