ডেনমার্কের বিশ্বকাপ জার্সিতে ‘প্রতিবাদের রঙ’

জার্সির উপরে থাকা ডেনমার্কের লোগোও ফিকে করে দিয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হুমেল।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Sept 2022, 09:38 AM
Updated : 29 Sept 2022, 09:38 AM

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্নে কাতারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেক আগেই। এবার ডেনমার্ক ভিন্নভাবে তাদের অবস্থান জানাল। বিশ্বকাপে দলটি যে জার্সি পরে খেলবে, সে জার্সির রঙ, লোগো আগের মতো উজ্জ্বল থাকবে না, ফিকে থাকবে। 

ডেনমার্কের জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হুমেল তিনটি জার্সির ডিজাইন প্রকাশ করছে। মূল জার্সির রং প্রথাগত লাল নয়, ফিকে লাল করেছে তারা; জার্সির উপর থাকা ডেনমার্কের লোগোও এমনভাবে রাখা হয়েছে, পরিষ্কার দেখার উপায় নেই। 

দ্বিতীয় জার্সির রং সাদা এবং তৃতীয় জার্সির রং করা হয়েছে পুরোপুরি কালো। কালো রং ‘শোকের প্রতীক।’ এ প্রসঙ্গে জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা চায় না ডেনমার্কের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ‘দৃশ্যমান হোক।’ প্রতিষ্ঠানটির দাবি ‘হাজারো জীবনের বিনিময়ে’ এই আয়োজন। 

“আমরা ডেনিস জাতীয় দলকে সমর্থন করি, কিন্তু একই সমর্থন আমরা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারকে করি না।” 

ডেনমার্কের খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জার্সি থেকে লোগো সরিয়ে নিয়েছে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানটি। কাতারে অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে বার্তা দিতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। 

আয়োজক কাতারের কর্মকর্তারা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রাণহানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হওয়ার কথা জানিয়েছিল। 

বিবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে হুমেল-এর বিবৃতির উল্লেখ করে জানানো হয়, অভিবাসী শ্রমিকদের পাশে থাকতে এই উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

“কাতারের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং অভিবাসী শ্রমিক, যারা বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণ করেছে, তাদের প্রতি কাতারের আচরণ নিয়ে আমরা আমাদের অবস্থান জানাতে চাই।” 

“আমরা বিশ্বাস করি যে, খেলাধুলা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং যখন এটা করে না, তখন আমরাও আমাদের বার্তাটা দিতে চাই।” 

অভিবাসী শ্রমিকের প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে হুমেলের অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারের সুপ্রিম কমিটি। 

“আমরা ডেনিস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে দৃঢ় এবং স্বচ্ছভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।” 

“যে ৩০ হাজার শ্রমিক স্টেডিয়াম এবং বিশ্বকাপের অন্যান্য প্রকল্পগুলো নির্মাণ করছে, তাদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের সত্যিকারে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ওঠা প্রশ্ন আমরা পুরোপুরি প্রত্যাখান করি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক