Published : 09 Oct 2024, 11:22 PM
মাঠে ব্রাজিলের সময় যে এখন ভীষণ খারাপ কাটছে, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। দলটির ফুটবলারদের কথাতেও আছে এর স্বীকারোক্তি। পাশাপাশি আছে স্বরূপে ফেরার প্রত্যয়ও। গোলরক্ষক এদেরসনের মতো উইঙ্গার সাভিনিয়োও যেমন ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করছেন।
ফুটবলের আঙিনায় ব্রাজিলের হতাশাময় যাত্রা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে কী, উল্টো যেন আরও পেছন পানে হাঁটছে তারা।
গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আট ম্যাচ খেলে জিততে পেরেছে কেবল তিনটি, সঙ্গে এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছে তা্রা। শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনার চেয়ে তারা পিছিয়ে ৮ পয়েন্টে। এর মাঝে গত জুন-জুলাইয়ের কোপা আমেরিকায়ও শেষ আট থেকে ছিটকে পড়ে সেলেসাওরা।
ঘুরে দাঁড়ানোর অভিযানে চিলির মাঠে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে নামবেন এদেরসন, রদ্রিগো, মার্কিনিয়োসরা। এরপর ঘরের মাঠে তাদের প্রতিপক্ষ পেরু।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আসছে দুই ম্যাচ সামনে রেখে, ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ ফুটবলার সাভিনিয়ো বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে সতীর্থদের হতাশার বৃত্ত ভেঙে কক্ষপথে ফেরার তাড়া দিলেন।
“আমরা এখন যে অবস্থায় আছি এবং সমর্থকরা আমাদের কাছে যে প্রত্যাশা করে, সেই সব বিবেচনায় সবকিছুই বেশ দুর্ভাবনার।”
“সময় হয়েছে (ঘুরে দাঁড়ানোর)। ব্রাজিল কী, আমাদের কোন পর্যায়ে থাকা উচিত, দলের সব খেলোয়াড়ের জন্য এটা দেখানোর এখনই সময়। আর এই লক্ষ্য পূরণে আমাদের যা কিছু করার দরকার, তাই করব এবং তিন পয়েন্ট অর্জন করে পয়েন্ট টেবিলে উপরে উঠব।”
বাছাইয়ে আগের দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি ২০ বছর বয়সী সাভিনিয়ো। গত সেপ্টেম্বরের একুয়েডরের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পাওয়া ব্রাজিল পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে হারে প্যারাগুয়ের কাছে।
এবারের ম্যাচ দুটির আগেও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দলে জোর ধাক্কা হেনেছে চোট। ছিটকে পড়েছেন মূল গোলরক্ষক লিভারপুলের আলিসন, তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র, তার ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও ও আতলেতিকো মিনেইরোর ডিফেন্ডার গিলের্মো আরানা। আর দলের সেরা তারকা নেইমার তো আগে থেকেই নেই।
তবে সাভিনিয়োর বিশ্বাস, স্কোয়াডে যারা ডাক পেয়েছেন তারাই পারবেন দলকে চেনা রূপে ফেরাতে।
“দলে যারা ডাক পেয়েছেন, তাদের সবার মনেই আছে লক্ষ্য পূরণের সংকল্প, ব্রাজিলকে আবারও অনেক ম্যাচ জেতানোর প্রত্যয়।”
“অবশ্যই, আমি জাতীয় দলকে জেতাতে কিছু দায়িত্ব নেব। কিন্তু শুধু আমিই নই, রদ্রিগো, (গাব্রিয়েল) মার্তিনেল্লি, (লুকাস) পাকেতা, ব্রুনো গিমারাইস, এন্দ্রিক… যদি সবাই একটু একটু করে দায়িত্ব নেয় এবং মাঠে তার প্রয়োগ ঘটাতে পারে, তাহলে আমরা লড়াই করতে পারব।”
এর আগে গোলরক্ষক এদেরসনও একইরকম বার্তা দেন, যেখানে ছিল দলকে টানা জয়ের পথে ফেরানোর তাড়না।
“আমরা সবার অধৈর্য হওয়ার ব্যাপারটা বুঝি, চাহিদাটা জানি। আমাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে এবং বিশ্বের সেরা ফুটবলের প্রতি আত্মবিশ্বাস ও দর্শকদের ফেরাতে ম্যাচ জেতা শুরু করতে হবে।”