১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

১০ জনের বার্সেলোনার বিপক্ষে জিতে এগিয়ে রইল আতলেতিকো

আতলেতিকোর মাঠে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে পরের ধাপে যাওয়া খুব কঠিন হবে বার্সেলোনার জন্য।

১০ জনের বার্সেলোনার বিপক্ষে জিতে এগিয়ে রইল আতলেতিকো
হুলিয়ান আলভারেসের চমৎকার ফ্রি-কিকে এগিয়ে যায় আতলেতিকো মাদ্রিদ। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Apr 2026, 03:21 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:22 PM

দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা একজন কম নিয়েও ম্যাচ জুড়ে আক্রমণের ঝড় তুলল বার্সেলোনা। সুযোগও পেল তারা অনেক; কিন্তু কাজে লাগাতে পারলেন না লামিনে ইয়ামাল, মার্কাস র্যাশফোর্ডরা। বরং দুই অর্ধের দুই গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে ওঠার পথে অনেকটা এগিয়ে রইল আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কাম্প নউয়ে বুধবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতেছে দিয়েগো সিমেওনের দল।

প্রথমার্ধে হুলিয়ান আলভারেসের চমৎকার ফ্রি-কিকে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে দ্বিতীয় গোলটি করেন আলেকসান্দার সরলথ।

আরেকটি কারণে আতলেতিকোর জন্য জয়টি বিশেষ কিছু। ২০০৬ সালের পর যে এই প্রথম কাম্প নউয়ে বার্সেলোনাকে হারাতে পারল তারা।

আতলেতিকোর কোচ হিসেবে কাম্প নউয়ে ১৯ বারের চেষ্টায় প্রথম জয়ের দেখা পেলেন সিমেওনে।

চার দিন আগে লা লিগার ম্যাচে আতলেতিকোর মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। সেদিন দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময় একজন কম নিয়ে খেলেছিল মাদ্রিদের দলটি। এবার ইউরোপ সেরার মঞ্চে ঘরের মাঠে পেরে উঠল না হান্সি ফ্লিকের দল। কাম্প নউয়ে তাদের ১৪ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রায়ও ছেদ পড়ল।

ম্যাচে একচেটিয়া দাপট ছিল বার্সেলোনার। ৫৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৮টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। আতলেতিকোর পাঁচ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

শুরুতেই জমে ওঠে লড়াই। দ্বিতীয় মিনিটে সুযোগ পান র‌্যাশফোর্ড। তবে গোলরক্ষক বরাবর শট করেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। চতুর্থ মিনিটে আতলেতিকোর ভুলে আরেকটি সুযোগ পান তিনি। ইয়ামালের পাসে বক্সের ভেতর থেকে তার শটে যদিও খুব বেশি জোর ছিল না, ঠেকিয়ে দেন হুয়ান মুসো।

পঞ্চম মিনিটে সুযোগ তৈরি হয় অন্য পাশে। বক্সের ভেতর থেকে আলভারেসের শট ঠেকাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি বার্সেলোনা গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে।

দশম মিনিটে র‌্যাশফোর্ডের পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন জোয়াও কান্সেলো, কাছের পোস্টে তার শট আটকে দেন মুসো। সপ্তদশ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে র‌্যাশফোর্ড জালে বল পাঠালেও অফসাইডে ছিলেন স্প্যানিশ তারকা।

আতলেতিকোর ওপর চাপ ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৩০তম মিনিটে দূরের পোস্টে দানি ওলমোর পাসে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি র‌্যাশফোর্ড। দুই মিনিট পর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ইয়ামালের শট আটকে দেন আরেক জন।

৪৩তম মিনিটে বড় ধাক্কাটা খায় বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে জুলিয়ানো সিমেওনেকে পেছন থেকে ফাউল করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি। পরে মনিটরে দেখে তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।

আর ওই ফ্রি-কিকেই দারুণ গোলে আতলেতিকোকে এগিয়ে নেন আলভারেস। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ডান পাশের ওপরের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়।

এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৯ গোল করলেন আলভারেস। প্রতিযোগিতাটির এক আসরে আতলেতিকোর কোনো খেলোয়াড়ের যা সর্বোচ্চ গোল। পেছনে পড়ে গেল ২০১৩-১৪ মৌসুমে দিয়েগো কস্তার ৮ গোল।

একজন কম নিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে আধিপত্য ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৫০তম মিনিটে সমতায় ফেরার ভালো সুযোগ পায় তারা। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে আগুয়ান গোলরক্ষককে কাটান র‌্যাশফোর্ড, কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে পাশের জালে লাগে তার শট।

দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে র‌্যাশফোর্ডের ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মুসো। ৫৯তম মিনিটে সুযোগ আসে আরেকটি। ইয়ামালের কর্নারে গাভির হেডে কাছ থেকে ফ্লিকের চেষ্টায় বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি জুল কুন্দে।

বেশিরভাগ সময় ঘর সামলাতে ব্যস্ত থাকলেও, ৭০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনার ঘুরে দাঁড়ানোর পথ আরও কঠিন করে তোলে আতলেতিকো। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে বক্সে ভলিতে বল জালে পাঠান মিনিট দশেক আগে বদলি নামা সরলথ।

বার্সেলোনা সুযোগ তৈরি করতেই থাকে। ৭৪তম মিনিটে ইয়ামালের কর্নারে রোনাল্দ আরাউহোর হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। শেষ দিকে দানি ওলমোর প্রচেষ্টাও লক্ষ্যে থাকেনি। 

আগামী মঙ্গলবার মেত্রোপলিতানোয় হবে ফিরতি লেগ। আতলেতিকোর মাঠে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে পরের ধাপে যাওয়া খুব কঠিন হবে বার্সেলোনার জন্য। গত ফেব্রুয়ারিতে এখানে কোপা দেল রের সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ফ্লিকের দল।

বর্ণহীন লিভারপুলকে হারিয়ে সেমির আশায় পিএসজি