১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যালন দ’রের লড়াইয়ে মেসি

বর্ষসেরা ফুটবলারের এই পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে অনুমিতভাবে আছেন হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপে, লামিন ইয়ামালের মতো তারকারা।

ব্যালন দ’রের লড়াইয়ে মেসি
দুই বছর পর ব্যালন দ’রের মনোনয়ন পেলেন লিওনেল মেসি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 01:26 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে ও ক্লাবের হয়ে আলো ছড়িয়ে ব্যালন দ’রের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে অনুমিতভাবে আছেন হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও লামিন ইয়ামালের মতো তারকারা।

ফরাসি ম্যাগাজিন ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর পুরস্কার ব্যালন দ’র ২০২৬ এর ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে মঙ্গলবার। 

গত দুইবার ব্যালন দ’রের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি মেসি। আর্জেন্টাইন জাদুকর পুরস্কারটি জিতেছেন রেকর্ড আটবার।

টানা তৃতীয়বারের মতো সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই আরেক মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি এই পুরস্কার জিতেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার। সর্বোচ্চ ১৮ বার মনোনয়ন পাওয়ার রেকর্ড তার।

মেসি এই নিয়ে মনোনয়ন পেলেন ১৭ বার।

গত ৩১ অগাস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। জুন-জুলাইয়ের বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড আর কীর্তি গড়েন তিনি। আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার নিয়ে যান ফাইনালে। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।

ইন্টার মায়ামির হয়ে গত মৌসুমে এমএলএস শিরোপা জেতেন মেসি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৪৯ ম্যাচে ৪৫টি গোল ও ৩০টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।

এখন তার সামনে নবমবারের মতো ব্যালন দ’র জয়ের হাতছানি। 

এই বছর পুরস্কারটি জয়ের জন্য অনেকে এগিয়ে রাখছেন কেইনকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ইংলিশ তারকা ৬৫ ম্যাচে গোল করেন মোট ৭৩টি, অ্যাসিস্ট আটটি। বায়ার্ন মিউনিখের বুন্ডেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ে তিনি রাখেন বড় অবদান, ক্লাবের হয়ে গোল করেন ৬১টি, আর জাতীয় দলের হয়ে ১২টি।

এমবাপেও খুব একটা পিছিয়ে নেই। ফরাসি তারকা গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে ১০ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। মোট ২২ গোল নিয়ে এই প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন তিনি। যদিও তার দল ফ্রান্স চতুর্থ হয়ে শেষ করে আসর।

ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬০ ম্যাচে এমবাপে গোল করেন ৫৮টি, অ্যাসিস্ট ১৩টি। কিন্তু কোনো দলীয় শিরোপা জিততে পারেননি ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

গত মৌসুমে বার্সেলোনার লা লিগা, কোপ দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন ইয়ামাল। পরে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানেও খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন এই তরুণ। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৫৭ ম্যাচ ২৫টি গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।

গতবারের ব্যালন দ’র জয়ী উসমান দেম্বেলেও আছেন এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। তবে এই ফরাসি তারকার পুরস্কারটি ধরে রাখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। ব্যালন দ’র জয়ী নির্বাচিত হয় সাংবাদিকদের ভোটে।

ব্যালন দ’রের জন্য ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা:

জুড বেলিংহ্যাম (রেয়াল মাদ্রিদ ও ইংল্যান্ড), পাউ কুবার্সি (বার্সেলোনা ও স্পেন), মার্ক কুকুরাইয়া (চেলসি/রেয়াল মাদ্রিদ ও স্পেন), উসমান দেম্বেলে (পিএসজি ও ফ্রান্স), লুইস দিয়াস (বায়ার্ন মিউনিখ ও কলম্বিয়া), ব্রুনো ফের্নান্দস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও পর্তুগাল), গাব্রিয়েল মাগালাইস (আর্সেনাল ও ব্রাজিল), আর্লিং হলান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ে), আশরাফ হাকিমি (পিএসজি ও মরক্কো), হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড), খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়া (পিএসজি ও জর্জিয়া), লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা ও স্পেন), সাদিও মানে (আল নাসর ও সেনেগাল), মার্কিনিয়োস (পিএসজি ও ব্রাজিল), লাউতারো মার্তিনেস (ইন্টার মিলান ও আর্জেন্টিনা), কিলিয়ান এমবাপে (রেয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স), নুনো মেন্দস (পিএসজি ও পর্তুগাল), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা), জুয়াও নেভ্স (পিএসজি ও পর্তুগাল), মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ ও ফ্রান্স), উইলিয়ান পাচো (পিএসজি ও একুয়েডর), হুলিয়ান কিনোনেস (আল কাদসিয়াহ ও মেক্সিকো), ডেক্লান রাইস (আর্সেনাল ও ইংল্যান্ড), রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি/বার্সেলোনা ও স্পেন), ফাবিয়া রুইস (পিএসজি ও স্পেন), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল ও ফ্রান্স), ফেররান তরেস (বার্সেলোনা/পিএসজি ও স্পেন), দাইয়ু উপামেকানো (বায়ার্ন মিউনিখ ও ফ্রান্স), ভিনিসিউস জুনিয়র (রেয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল), ভিতিনিয়া (পিএসজি ও পর্তুগাল)