নোয়াখালীতে ‘প্রতিবন্ধী’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা: মামলা, গ্রেপ্তার ৪
একটি দোকানের সামনে থেকে কবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
নোয়াখালীতে সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগ দিয়ে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে।
মঙ্গলবার রাতে নিহত কবির হোসেনের মা কমলা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম।
মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. হোসেন (৩৪), মো. ফারুক (২৪), আলাউদ্দিন মুন্সি (২৮) ও মো. তারেক।
নিহত কবির হোসেন (৩৫) নোয়ান্নাই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের প্রয়াত মো. হানিফের ছেলে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলেন বলে জানিয়েছে স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে একটি ব্যাগ চুরি হয়। ব্যাগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন।
তিনি চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কেউ চিনে থাকলে তাকে খবর দিতে অনুরোধ করেন।
এরপর মঙ্গলবার বিকালে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কবিরকে আটকের কথা জানান।
খবর পেয়ে হোসেন তার লোকজন নিয়ে সেখানে যান। এ সময় কয়েকজন কবিরকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আহত কবিরকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ভিডিওতে তাকে টাকা চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায়।
কবিরের মায়ের অভিযোগ, ছেলেকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালানোর খবর পেয়ে তিনি ইসলামগঞ্জ বাজারে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। অনেক আকুতি জানিয়েও ছেলেকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারনেনি তিনি।
পরে হোসেন ও তার লোকজন আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে অটোরিকশায় নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যান। হোসেনের বাড়ি ওই এলাকায়।
সন্ধ্যায় সেখানকার একটি দোকানের সামনে থেকে কবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ওসি জানান, মঙ্গবার রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
