সারারাত স্বামীর শবের পাশে স্ত্রীর কান্না, সকালে মিলল রেললাইনে মরদেহ
দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মা বাবাকে খুব ভালোবাসতেন।”
স্বামী মারা যাওয়ার পর শোকে সারারাত শবের পাশে বসে বিলাপ করে কান্নাকাটি করলেন স্ত্রী। সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পাশের রেললাইনে তার মরদেহ পেলেন স্বজনরা।
মঙ্গলবার সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামের শ্মশানে এই বৃদ্ধ দম্পত্তিকে পাশাপাশি চিতায় দাহ করেন সন্তানরা।
নিহত নারীর নাম নিত্য বালা বর্মন (৭০)। তার স্বামী হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। স্ত্রী নিত্য বালাও স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত পূজার কাজে সহায়তা করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগার পর সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মন। স্বামীর প্রয়াণের পর শোকবিহ্বল নিত্য বালা সারারাত মরদেহের পাশে বসে কান্না করেন।
বাড়িতে তখন আত্মীয়স্বজনের ভিড় ছিল। এর মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরে গোপনে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান নিত্য বালা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সকালে স্বজনেরা বাড়ির কাছের রেললাইনে তার কাটা পড়া মরদেহ দেখতে পান।
স্বজনদের ধারণা, স্বামীর বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করতে না পেরে ভোরে রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী ‘বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাবা অসুস্থ ছিলেন, রাতে মারা যান। মা বাবাকে খুব ভালোবাসতেন, সারারাত মরদেহের পাশে বসে কেঁদেছেন। ভোরে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে মারা যান। আজ একসঙ্গেই বাবা-মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছি।”
প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, “ছোটবেলা থেকেই দেখেছি কাকি কাকাকে কতটা আগলে রাখতেন। কাকা চলে যাওয়ার পর সেই শোক সইতে না পেরেই কাকিও এই পথ বেছে নিলেন।”
আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, “রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনার কথা আমরা পরে শুনেছি। ততক্ষণে স্বজনেরা মরদেহ দাহ করে ফেলেছেন। যেহেতু এটি রেল দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়, তাই রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে।”
