‘পিচ্চি রাজা’ প্রিজন ভ্যান থেকে পালানোর ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ গাজীপুরে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে সোমবার সকালে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান।
এর আগে ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যান ২৫ মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’।
জিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) তাহেরুল চৌহান বলেন, “আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন এসআই, তিনজন কনস্টেবল এবং একজন নায়েক (গাড়ির চালক)।
“ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করবে।”
গত ১৯ মে নেপাল থেকে ফেরার পর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তার সঙ্গে তার স্ত্রী ও শ্যালকও ছিলেন।
পুলিশ বলছে, পিচ্চি রাজা ঢাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাকে দীর্ঘদিন ধরেই খোঁজা হচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে অন্তত ২৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একবার পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করার তথ্য দিয়েছিল পুলিশ।
পিচ্চি রাজা মূলত ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনিভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক একটি মাদকচক্রের হোতা বলে পুলিশের তথ্য। সেখানে বিবাদমান কয়েকটি মাদকচক্রের মধ্যে গত আড়াই বছরে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়েছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে ‘পিচ্চি রাজাকে’ কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। পথে নাওজোড় এলাকায় সে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে। সেখান থেকেই সে পালিয়ে যায়।”
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হোসেন হাওলাদার বলেন, “প্রিজন ভ্যানে ২৯ জন আসামি ছিলেন। তার মধ্যে পিচ্চি রাজা নামে একজন পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার পাশাপাশি কীভাবে পালিয়ে গেল, কার কার গাফলতি আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
