১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

নড়িয়ায় ৩৭ স্কুলভবন নির্মাণে ‘নিম্নমানের’ সামগ্রী ব্যবহার

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান।

কে এম রায়হান কবীর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Nov 2022, 09:22 AM

Updated : 15 Nov 2022, 01:03 PM

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ৩৭টি স্কুলভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

এ বিষয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান। 

তবে ঠিকাদাররা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। 

খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন। 

২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ এর আওতায় ৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চার তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে এক, দুই ও তিন তলা ভবন নির্মাণ কাজ চলছে।

ইতোমধ্যে নয়টি ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি স্কুলগুলোর মধ্যে ২৮ স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। 

কোনো স্কুলের কাজ ৩০ শতাংশ; আবার কোনো বিদ্যালয় ভবনের ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আবার কিছু কাজ শুরু হয়েছে। 

সেসব স্কুলের কাজে ইট, বালু, খোয়াসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব ভবন ভেঙে পড়তে পারে বলে শঙ্কা তাদের। 

নড়িয়া উপজেলার ৭৪ নম্বর কলারগাওঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তাদের বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুবই নিম্নমানের খোয়া এনে কাজ শুরু করেছে। 

একই স্কুলের শিক্ষক সাকিলা মমতাজ বলেন, “আমরা তাদের আপত্তি জানাই। খোয়া ও ইট পরিবর্তন করে দিতে বলি। কিছু খোয়া পরিবর্তন করেছে তাও মানসম্মত নয়। আমাদের আর কিছু করার নেই।” 

কলারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঠিকাদার ও নড়িয়া পৌরসভা অওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মিলন বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজের বিষয়ে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রমাণ করতে পারলে ভবন ভেঙে নতুন ভবন করে দেব।” 

নড়িয়া উপজেলার বিঝারী নিখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জীত বাছার বলেন, “নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে কাজ করার সময় আমরা বাধা দিয়েছি। আমাদের বাধা না শুনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।” 

নড়িয়ার বিঝারী নিখিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঠিকাদার মজিবুর রহমান মোল্লা বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ইট-বালু-সিমেন্টের দামও অনেক বেশি। আমাদের কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তারপরও আমি ভালো সামগ্রী দিয়ে কাজ করছি।” 

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও ৭৪ নম্বর কলারগাওঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাস্টার হাসানুজ্জামান খোকন বলেন, “ভবনের বিমসহ কিছু জায়গায় ঠিকাদাররা রড কম দিয়েছিল; তা প্রকৌশলীকে বলে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। খোয়া ২ নম্বর ঠিক আছে। বর্তমানে বাজার দর বেশি হওয়ায় ঠিকাদারদের কিছু করার নাই। অন্যসব কাজ ঠিক আছে।” 

নড়িয়া উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. রুমি ও আলম মিয়াকে ফোন করলে তারা কোনো তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।  

নড়িয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন খানকে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

শরীয়তপুর জেলার স্থানীয় সরকার শাখা (এলজিইডির) নির্বাহী প্রকৌশলী শাজাহান ফরাজী বলেন, “এগুলো উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় তদারকি করার কথা। তারপরও বিষয়টি আমি খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”