২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিল থেকে ধরে বাড়িতে পুষছিলেন গোখরা, কামড় খেয়ে হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি

সাপটির জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা কাঠের বাক্স। নিয়মিত মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন খাবার দিতেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Oct 2026, 06:51 PM

Updated : 22 Oct 2026, 07:00 PM

শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামের ইকবাল হোসেন। মাছ ধরার জালে আটকে থাকা সাপটি উদ্ধার করে প্রায় তিন মাস আগে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি।

সাপটির জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা কাঠের বাক্স। নিয়মিত খাবার হিসেবে দিতেন মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন খাবার। পরিবারের সদস্যরা বারবার নিষেধ করলেও সাপটি পোষা বন্ধ করেননি ইকবাল।

শেষ পর্যন্ত সেই শখের গোখরার কামড়েই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি।

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন ইকবাল। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়। পরে অসহ্য যন্ত্রণার কথা স্ত্রী রিনা আক্তারকে জানান তিনি। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সেখানে তার অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল।

তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন বলেন, “আমরা বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা ভাইকে সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে কারও কথা শোনেননি তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে খাবার দিতে গিয়ে সেটির কামড়ের শিকার হন।”

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মো. সাবিন ইশতিয়াক বলেন, “বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবালকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তার হাত ফুলে গিয়েছিল।

“উপসর্গ দেখে বিষধর সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয় এবং অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। তবে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

এ চিকিৎসক বলেন, “বিষধর সাপে কামড়ালে ঝাড়-ফুঁক বা ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।”

এ ঘটনার পর সাপটিকে স্থানীয় লোকজন মেরে ফেলেছে ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানিয়েছেন।