সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ৩ দিনের রিমান্ডে
ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় যুবদলের এক নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন পেয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে সাতক্ষীরার আমলি আদালতে তোলা হলে বিচারক নুসরাত জাহান শুনানি শেষে তিন দিন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার এসআই আল আমিন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
রিমান্ড পাওয়া সাদিকুল ইসলাম ভদু উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।
এসআই আল আমিন বলেন, ২৮ অক্টোবর যুবদল নেতা ভদু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ওইদিন আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তবে আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে ভদু দাবি করেন, ঘটনার দিন মিছিলকারীদের সঙ্গে তিনি থাকলেও শামীমকে হত্যা করেননি। এ সময় তিনি নিজেকে যুবদলের নেতা বলেও পরিচয় দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক ওয়াহিদুজ্জামানের বাড়িতে হামলা চালায়। পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার চিকিৎসক এম এ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ওপর ফের হামলা করা হয়।
পরে পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে একদল লোক সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে পুলিশ, আনসার ও চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন শামীমকে নির্যাতন করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।
পরে এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর শামীমের ভাই আব্দুল জলিল দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনী, সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান এবং আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় যুবদল নেতা ভদু ছাড়াও মোক্তার খান, আসাদুল মোল্লা এবং ফজলুল হক আমিনী কারাগারে আছেন।
